মনে হচ্ছিল ম্যাচটি অতিরিক্ত সময়ে গড়াবে। বিশ্বকাপ ইতিহাসের প্রথম রাউন্ড অব ৩২-এর প্রথম ম্যাচে স্বাগতিক কানাডার কঠিন পরীক্ষা নিচ্ছিল দক্ষিণ আফ্রিকা।

ঘড়িতে তখন ৯২ মিনিট। কানাডার রাইট উইঙ্গার জ্যাকব শ্যাফেলবার্গ  দারুণ একটি ক্রস দেন। কিন্তু দক্ষিণ আফ্রিকার দৃঢ় রক্ষণভাগ, আবারও বলটি হেড করে বাইরে পাঠিয়ে দেয়। সেখান থেকে আবার নতুন করে আক্রমণ শুরু। এবার ইমে ওকন বলটি খুব দূরে ক্লিয়ার করতে পারেননি। বক্সের ঠিক বাইরে দৌড়ে এসে সেখান থেকে বলের সামনে উপস্থিত হন কানাডার অধিনায়ক স্টেফেন ইউস্তাকিও। 

আধা-ক্লিয়ার হওয়া বলের দিকে দৌড়ে গিয়ে ইউস্তাকিও প্রথমে বুক দিয়ে বলটি নিয়ন্ত্রণ করেন। বলটি মাটিতে পড়তেই ডান পায়ের দুর্দান্ত হাফ-ভলি শটে আঘাত করেন। বলটি একবার বাউন্স করে সোজা দূরের নিচের কোণে জড়িয়ে যায়। মুহূর্ত্বেই ফেটে পড়ে গোটা অ্যাঞ্জেলউড স্টেডিয়াম। কানাডা নিশ্চিত করে ঐতিহাসিক রাউন্ড অব- ১৬!

পুরো ম্যাচজুড়েই ইউস্তাকিও ছিলেন সর্বত্র, তবে দক্ষিণ আফ্রিকার বক্সের আশপাশে তাঁকে খুব একটা দেখা যায়নি। পর্তুগিজ বংশদ্ভূত ইউস্তাকিও কানাডার মিডফিল্ডের প্রাণভোমরা। অন্টারিওতে পর্তুগিজ বাবা-মায়ের ঘরে জন্ম নেওয়া ইউস্তাকিও সাত বছর বয়সে পরিবারের সঙ্গে পর্তুগালে চলে যান। সেখানেই তাঁর ফুটবল শিক্ষা শুরু হয়। পর্তুগালের নিম্ন বিভাগের লিগ থেকে উঠে এসে তিনি প্রথম বিভাগের ক্লাব জিডি শাভেজে খেলেন। এরপর যোগ দেন ক্রুজ আজুলে। পরে আবার পর্তুগালে ফিরে পাকোস দে ফেরেইরা এবং তারপর পোর্তোতে খেলেন। তবে সেখানে খেলার সুযোগ কমে যাওয়ায় চলতি বছর তিনি যোগ দেন লস অ্যাজেলস এফসিতে।

তাঁর খেলার ধরন এখনো পুরোপুরি পর্তুগিজ ধাঁচের। সহজ, নিখুঁত পাস এবং ম্যাচের গতি নিয়ন্ত্রণ করার অসাধারণ ক্ষমতা তাঁকে কানাডার দলে আলাদা করে তোলে। এছাড়া তিনি দলের সেট-পিস বিশেষজ্ঞ, এবং অত্যন্ত দক্ষও।

দক্ষিণ আফ্রিকার বিপক্ষে তিনি সেট-পিস থেকে ৫টি গোলের সুযোগ তৈরি করেন। যা বিশ্বকাপের নকআউট ইতিহাসে যৌথভাবে সর্বোচ্চ। এই কীর্তি এর আগে করেছিলেন কেবল ইতালির কিংবদন্তি আন্দ্রে পিরলোর, ২০০৬ সালের সেমিফাইনালে জার্মানির বিপক্ষে তিনি এই রেকর্ড গড়েছিলেন।

কানাডার কোচ জেসি ইউস্তাকিওর সম্পর্কে বলেন, ‘ইউস্তাকিও জানে কীভাবে গুরুত্বপূর্ণ মুহূর্ত এবং ম্যাচ নিয়ন্ত্রণ করতে হয়। সে খুব ভালোভাবে বোঝে আমরা দল হিসেবে কী অর্জন করতে চাই।’ গুরুত্বপূর্ণ মুহূর্তকে নিজের করে নেওয়ার অভ্যাসও তাঁর পুরোনো। শেভেজের হয়ে একসময় পোর্তোর বিপক্ষে সমতাসূচক গোল করে তিনি ক্লাবটিকে তাদের ইতিহাসে প্রথমবারের মতো পোর্তোর মাঠ থেকে ড্র এনে দিয়েছিলেন। এই পোর্তো দুই বারের উয়েফা চ্যাম্পিয়ন্স লিগ জয়ী ক্লাব।

ম্যাচ শেষে ইউস্তাকিও বলেন, ‘আমি যখন শটটা নিয়েছিলাম, তখন মনে হয়েছিল কানাডার সবাই আমার সঙ্গে শট নিয়েছে। সবাই যেন একটু করে শক্তি দিয়েছিল, আর বলটা জালে চলে গেল।’ এখন শেষ ১৬-তে কানাডার সামনে অপেক্ষা করছে মরোক্কো অথবা নেদারল্যান্ডস।