৪৮ দলের বিশ্বকাপ। স্বাভাবিকভাবেই প্রতিটি কনফেডারেশন্স থেকে অংশগ্রহণকারী দলের সংখ্যা বেড়ে যাওয়ার কথা। আফ্রিকা থেকে আগে যেখানে ৫টি দল অংশগ্রহণের সুযোগ পেতো, এবার সরাসরি ৯টি দেশকে অংশগ্রহণ করার সুযোগ দেওয়া হয়েছে। সঙ্গে একটি দেশ সুযোগ পেয়েছে আন্তঃমহাদেশীয় প্লে-অফ খেলার।
৯টি দেশ সরাসরি বিশ্বকাপে সুযোগ পায় আফ্রিকা থেকে। আন্তঃমহাদেশীয় প্লে-অফ খেলে সুযোগ পায় ডিআর কঙ্গো। অর্থ্যাৎ, এবারের বিশ্বকাপে আফ্রিকা থেকে অংশগ্রহণকারী দেশের সংখ্যা আগের তুলনায় ছিল ডাবল, অর্থ্যাৎ ১০টি।
শুধু অংশগ্রহণই নয়, এবারের বিশ্বকাপে দুর্দান্ত সাফল্যও দেখিয়েছে আফ্রিকার দেশগুলো। ১০টি দেশ থেকে নকআউট তথা রাউন্ড অব-৩২ এ জায়গা করে নিয়েছে ৯টি দেশ। যা আফ্রিকান মহাদেশটির ফুটবল উন্নতিরই দারুণ একটি বার্তা বহন করছে।
শুধু তাই নয়, বিশ্বকাপের নকআউটে উঠে আসা অন্য মহাদেশগুলোর চেয়ে সবচেয়ে বেশি সফল হলো আফ্রিকা। ১০ দলের মধ্যে ৯টি দলই নকআউটে। যা শতকরা হিসেবে ৯০ ভাগ। ইউরোপের ১৬টি অংশগ্রহণকারী দলের মধ্যে ১৩টি উঠেছে নকআউটে। শতকরা হিসেবে ৮১.২৫ ভাগ।

তবে লাতিন আমেরিকাও পিছিয়ে নেই খুব একটা। ৬টি অংশগ্রহণকারী দেশের মধ্যে ৫টিই উঠেছে নকআউটে। যদিও শতকরা হিসেবে দাঁড়ায় ৮৩.৩৩ ভাগ। এশিয়ার ৯টি দেশ থেকে মাত্র দুটি দল উঠেছে নকআউটে। কনকাকাফ অঞ্চলে তিন স্বাগতিক দেশছাড়া ৬ দলের আর কেউ উঠতে পারেনি নকআউটে। ওশেনিয়ান অঞ্চল থেকে অংশ নিয়েছিল নিউজিল্যান্ড। তারাও বিদায় নিয়েছে গ্রুপ পর্ব থেকেই।
বিশ্বকাপে অংশ নেওয়া ১০টি আফ্রিকান দলের মধ্যে কেবল তিউনিসিয়াই গ্রুপ পর্ব থেকে বিদায় নিয়েছে। বাকি ৯টি দল শেষ ৩২ নিশ্চিত করে দেখিয়ে দিয়েছে, বিশ্ব ফুটবলের শক্তির মানচিত্রে আফ্রিকার অবস্থান এখন আগের যেকোনো সময়ের চেয়ে অনেক শক্তিশালী। এবার নকআউটে পৌঁছেছে মরক্কো, সেনেগাল, মিসর, আলজেরিয়া, ঘানা, আইভরি কোস্ট, কেপ ভার্দে, দক্ষিণ আফ্রিকা এবং কঙ্গো গণতান্ত্রিক প্রজাতন্ত্র (ডিআর কঙ্গো)।
গ্রুপ পর্বের শেষ দিনে নাটকীয় লড়াই শেষে শেষ তিন আফ্রিকান দল হিসেবে নকআউট নিশ্চিত করে ঘানা, ডিআর কঙ্গো ও আলজেরিয়া। বিশেষ করে অস্ট্রিয়ার বিপক্ষে ৩-৩ গোলের রোমাঞ্চকর ড্রয়ের পর শেষ ৩২-এ জায়গা করে নেয় আলজেরিয়া।
পাঁচ দল রানার্সআপ, চার দল সেরা তৃতীয়
নকআউটে ওঠা আফ্রিকার ৯ দলের মধ্যে পাঁচটি দল নিজ নিজ গ্রুপে রানার্সআপ হয়েছে। তারা হলো দক্ষিণ আফ্রিকা, মরক্কো, আইভরি কোস্ট, মিসর ও কেপ ভার্দে।
এর মধ্যে সবচেয়ে উজ্জ্বল পারফরম্যান্স করেছে মরক্কো। ব্রাজিলের সঙ্গে থাকা কঠিন গ্রুপ ‘সি’ থেকে ৭ পয়েন্ট নিয়ে দ্বিতীয় স্থানে থেকে শেষ ৩২ নিশ্চিত করেছে তারা। ব্রাজিলের সঙ্গে ড্র করার পাশাপাশি স্কটল্যান্ড ও হাইতিকে হারিয়ে দারুণ আত্মবিশ্বাস নিয়েই নকআউটে উঠেছে উত্তর আফ্রিকার দলটি।
অন্যদিকে সেনেগাল, আলজেরিয়া, ঘানা এবং ডিআর কঙ্গো জায়গা করে নিয়েছে সেরা আটটি তৃতীয় স্থান অর্জনকারী দলের তালিকায় থেকে। ৪৮ দলের নতুন বিশ্বকাপ ফরম্যাটে প্রথমবারের মতো এই নিয়ম চালু হওয়ায় তাদের জন্যও নকআউটের দরজা খুলে যায়।
নকআউটে কঠিন চ্যালেঞ্জ
এবারের রাউন্ড অব-৩২-এ আফ্রিকার দলগুলোর সামনে রয়েছে একাধিক কঠিন পরীক্ষা। এরই মধ্যে একটি পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হয়ে গেছে। কানাডার কাছে ১-০ গোলে হেরে রাউন্ড অব-৩২ থেকে বিদায় নিয়েছে দক্ষিণ আফ্রিকা।
এই পর্বে সবচেয়ে আকর্ষণীয় লড়াইগুলোর একটি হবে নেদারল্যান্ডস-মরক্কো ম্যাচ। ইউরোপের অন্যতম শক্তিশালী দলের বিপক্ষে আবারও চমক দেখাতে চায় ২০২২ বিশ্বকাপের সেমিফাইনালিস্টরা।

আরেকটি বড় ম্যাচে বেলজিয়ামের মুখোমুখি হবে সেনেগাল। অন্যদিকে আইভরি কোস্ট লড়বে দুর্দান্ত ছন্দে থাকা নরওয়ের বিপক্ষে।
এবারের সবচেয়ে বড় বিস্ময় কেপ ভার্দের সামনে অপেক্ষা করছে সবচেয়ে কঠিন পরীক্ষা। বিশ্বকাপে প্রথমবার অংশ নিয়েই নকআউটে ওঠা দেশটি এবার মুখোমুখি হবে বর্তমান বিশ্বচ্যাম্পিয়ন আর্জেন্টিনার।
এ ছাড়া ডিআর কঙ্গো খেলবে ইংল্যান্ডের বিপক্ষে, আলজেরিয়ার সামনে সুইজারল্যান্ড, মিসরের প্রতিপক্ষ অস্ট্রেলিয়া এবং ঘানা লড়বে শক্তিশালী কলম্বিয়ার বিপক্ষে।
আফ্রিকার ফুটবলে নতুন বার্তা
বিশ্বকাপের ইতিহাসে আফ্রিকার দলগুলো বহুবার সম্ভাবনার ঝলক দেখিয়েছে। ক্যামেরুন, সেনেগাল, ঘানা কিংবা ২০২২ সালে মরক্কোর সাফল্য সেই ইতিহাসের অংশ। তবে এবার প্রথমবারের মতো একসঙ্গে ৯টি আফ্রিকান দল নকআউটে উঠে প্রমাণ করে দিল, এটি আর বিচ্ছিন্ন কোনো সাফল্য নয়; বরং আফ্রিকান ফুটবলের ধারাবাহিক উন্নতিরই প্রতিফলন।
নতুন ৪৮ দলের বিশ্বকাপ ছোট ও উদীয়মান ফুটবল শক্তিগুলোর জন্য বড় মঞ্চ তৈরি করেছে। আর সেই সুযোগকে সবচেয়ে কার্যকরভাবে কাজে লাগানো মহাদেশের নাম আফ্রিকা। এখন দেখার বিষয়, এই ৯ দলের মধ্যে কে সবচেয়ে দূর পর্যন্ত যেতে পারে এবং ২০২২ সালের মরক্কোর মতো আবারও কোনো আফ্রিকান দল বিশ্বকাপে নতুন রূপকথা লিখতে পারে কি না।
নকআউট পর্বে আফ্রিকার দলগুলোর ম্যাচসূচি (বাংলাদেশ সময় অনুযায়ী)
তারিখ ম্যাচ সময় ভেন্যু ২৮ জুন দক্ষিণ আফ্রিকা - কানাডা রাত ১টা লস অ্যাঞ্জেলেস ৩০ জুন নেদারল্যান্ডস - মরক্কো সকাল ৭টা মনতেরেই ৩০ জুন আইভরি কোস্ট - নরওয়ে রাত ১১টা ডালাস ১ জুলাই ইংল্যান্ড - ডিআর কঙ্গো রাত ১০টা আটলান্টা ২ জুলাই বেলজিয়াম - সেনেগাল রাত ২টা সিয়াটল ৩ জুলাই সুইজারল্যান্ড - আলজেরিয়া সকাল ৯টা ভ্যাঙ্কুভার ৩ জুলাই অস্ট্রেলিয়া - মিসর রাত ১২টা ডালাস ৪ জুলাই আর্জেন্টিনা - কেপ ভার্দে ভোর ৪টা মিয়ামি ৪ জুলাই কলম্বিয়া - ঘানা সকাল ৭:৩০টা কানসাস সিটিআইএইচএস/








