পশ্চিমবঙ্গে নাবালিকা ধর্ষণ ও হত্যা মামলার প্রধান অভিযুক্তের পুলিশি অভিযানে মৃত্যুকে ঘিরে নতুন রাজনৈতিক বিতর্ক শুরু হয়েছে। বিরোধী দলগুলোর অভিযোগ, আদালতের বিচার শেষ হওয়ার আগেই অভিযুক্তের মৃত্যু আইনের শাসন নিয়ে গুরুতর প্রশ্ন তুলেছে। অন্যদিকে রাজ্য সরকারের দাবি, অভিযুক্ত পুলিশের অস্ত্র ছিনিয়ে পালানোর চেষ্টা করলে আত্মরক্ষার্থে গুলি চালাতে বাধ্য হয় পুলিশ। ঘটনার পর থেকেই পশ্চিমবঙ্গের রাজনৈতিক অঙ্গনে তীব্র প্রতিক্রিয়া দেখা দিয়েছে। তৃণমূল কংগ্রেস, বামপন্থি দল, কংগ্রেস ও কয়েকটি মানবাধিকার সংগঠন ঘটনার বিচার বিভাগীয় তদন্ত দাবি করেছে। তাদের বক্তব্য, একজন অভিযুক্ত যত গুরুতর অপরাধেই অভিযুক্ত হোক না কেন, আদালতের বিচার সম্পন্ন হওয়ার আগেই তার মৃত্যু বিচারব্যবস্থার প্রতি মানুষের আস্থা ক্ষুণ্ন করতে পারে। বিরোধীদের অভিযোগ, উত্তরপ্রদেশে বহুল আলোচিত পুলিশি অভিযানের ধাঁচে পশ্চিমবঙ্গেও কঠোর অপরাধ দমন নীতির সূচনা হয়েছে।
তাদের মতে, অপরাধ দমন অবশ্যই প্রয়োজন, কিন্তু সেই প্রক্রিয়া অবশ্যই আইন ও সংবিধানের সীমার মধ্যে হতে হবে। তৃণমূলের একাংশের নেতারা প্রশ্ন তুলেছেন, অভিযুক্ত পালানোর চেষ্টা করলে প্রাণঘাতী গুলি চালানো কেন প্রয়োজন হলো। তাদের দাবি, ঘটনাটি নিরপেক্ষ তদন্তের মাধ্যমে খতিয়ে দেখা উচিত।
বামপন্থি নেতাদের অভিযোগ, ধর্ষণের ঘটনার শুরুতেই পুলিশ যথাযথ ব্যবস্থা নিলে হয়তো পরিস্থিতি এতদূর গড়াত না। এখন অভিযুক্তের মৃত্যুর ফলে ঘটনার পূর্ণাঙ্গ বিচার প্রক্রিয়া বাধাগ্রস্ত হওয়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে।? কংগ্রেস নেতারাও ঘটনার স্বচ্ছ তদন্তের দাবি জানিয়েছেন। তাদের বক্তব্য, পুলিশের বক্তব্যের সঙ্গে ঘটনাস্থলের বাস্তবতা এবং প্রত্যক্ষদর্শীদের বর্ণনা মিলিয়ে দেখা প্রয়োজন। বিচারবহির্ভূত কোনো পদক্ষেপ গণতান্ত্রিক ব্যবস্থায় গ্রহণযোগ্য হতে পারে না বলেও তারা মন্তব্য করেন।








