লালমনিরহাটের পাটগ্রাম সীমান্ত দিয়ে পুশ ইনের জন্য জড়ো করা ৩ নারীকে গতকাল শনিবার দিবাগত রাতে ফেরত নিয়ে গেছে ভারতীয় সীমান্তরক্ষী বাহিনী (বিএসএফ)। ঘটনার পর সীমান্তের বাংলাদেশ অংশে বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি) টহল জোরদার করেছে। বিপরীতে ভারতীয় অংশে বিএসএফ অতিরিক্ত সদস্য মোতায়েন করে অবস্থান নিয়েছে।
বিজিবি, সীমান্ত সূত্র ও স্থানীয়রা জানায়, শনিবার দিবাগত রাত দেড়টার দিকে লালমনিরহাটের পাটগ্রাম উপজেলার বুড়িমারী ইউনিয়নের ষোলঘড়িয়া গ্রামের সীমান্ত এলাকায় প্রধান পিলার ৮৩৪-এর ১ নম্বর উপপিলারের বিপরীতে ভারতের পশ্চিমবঙ্গ রাজ্যের কোচবিহার জেলার মেখলিগঞ্জ থানার গোলাপাড়া গ্রামের সীমান্তের কাঁটাতারের বেড়াসংলগ্ন লাইট বন্ধ করে দেয় বিএসএফ। এ সময় পুশ ইনের জন্য আনা ৩ নারীকে শূন্যরেখা থেকে ভারতের অভ্যন্তরে ফিরিয়ে নিয়ে যায় বাহিনীটি।
এর আগে ভোরে একই সীমান্তের প্রধান পিলার ৮৩৩-এর ৯ নম্বর উপপিলার এলাকায় শূন্যরেখা দিয়ে ভারতের ৯৮ বিএসএফ ব্যাটালিয়নের খরখড়িয়া বিএসএফ ক্যাম্পের সদস্যরা ৮ জন নারী-পুরুষকে বাংলাদেশের দিকে ঠেলে পাঠায় বলে অভিযোগ ওঠে। স্থানীয় বাসিন্দাদের দাবি, এদের মধ্যে ৫ জন ট্রেনে বাংলাদেশের অভ্যন্তরে ঢুকে গেছে।
বিজিবি স্বীকার করে জানায়, বিএসএফ ৩ জন নারীকে পুশ ইনের চেষ্টা করেছিল। সীমান্তের স্থানীয় বাসিন্দাদের সহায়তায় ওই ৩ নারীকে পুনরায় ভারতের শূন্যরেখায় ফেরত পাঠানো হয়। এতে ভারতের ১০০ গজ অভ্যন্তরের শূন্যরেখায় প্রায় ২০ ঘণ্টা খোলা আকাশের নিচে অবস্থান করেন ওই ৩ নারী।
ঘটনার পর শনিবার বেলা ১২টায় বাংলাদেশ-ভারত সীমান্তের প্রধান পিলার ৮৩৩-এর ৮ নম্বর উপপিলার এলাকায় বিজিবি ও বিএসএফের মধ্যে টহল বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। বৈঠকে খরখড়িয়া বিএসএফ ক্যাম্পের কমান্ড্যান্টসহ ৬ জন এবং ধবলসূতি ক্যাম্পের নায়েব সুবেদার জুবায়ের হোসেনসহ ৬ জন অংশ নেন।
বৈঠকে পুশ ইন করা ৩ নারীকে দ্রুত ফেরত নিতে বিএসএফকে বলা হলে, বাহিনীটি অধিনায়ক পর্যায়ে কথা বলে পরবর্তী ব্যবস্থা নেওয়ার কথা জানায়। পরে একই দিন দিবাগত রাতে ওই তিন নারীকে ফেরত নিয়ে যায় বিএসএফ।
বিজিবি ৬১ ব্যাটালিয়নের (তিস্তা-২) সহকারী পরিচালক (এডি-অবস) কারিমুল ইসলাম হোয়াটসঅ্যাপে খুদে বার্তায় ৩ নারীকে বিএসএফ ফেরত নিয়ে যাওয়ার বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।








