লালমনিরহাটের পাটগ্রাম সীমান্ত দিয়ে জোরপূর্বক বাংলাদেশে পুশইনের চেষ্টার সময় তিন ভারতীয় নারীকে আটকে দিয়েছে বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি) ও স্থানীয় জনতা। তবে তাদের সঙ্গে সীমান্ত পার হওয়া অপর ছয় জন বিএসএফ ও বিজিবির নজর এড়িয়ে কৌশলে বুড়িমারী রেলস্টেশনে এসে ট্রেনে চড়ে পালিয়েছে বলে জানা গেছে।
শনিবার (১১ জুলাই) ভোররাতে উপজেলার মদিরবাড়ি এলাকায় ষোলঘরিয়া সীমান্তের ধবলসুতী বিওপির আওতাধীন মেইন পিলার ৮৩৩/৮ এস এবং নাইন এস-এর মাঝামাঝি স্থানে এ ঘটনা ঘটে।
বিজিবি ও স্থানীয়রা জানান, ভারতের ৯৮ ব্যাটালিয়ন বিএসএফের খরখরিয়া ক্যাম্পের সদস্যরা ভোররাতে অন্ধকারের সুযোগ নিয়ে ৯ জন নারী, পুরুষ ও শিশুকে বাংলাদেশে পুশইন করার চেষ্টা করে। টের পেয়ে স্থানীয় বাসিন্দা ও বিজিবি সদস্যরা ধাওয়া দিলে তিন জন নারীকে শূন্যরেখার ওপারে ভারতের অভ্যন্তরে আটকে দেওয়া সম্ভব হয়। বর্তমানে তারা শূন্যরেখা থেকে ভারতের ১৫০ গজ অভ্যন্তরে অবস্থান করছেন। তবে বিএসএফের তাড়া খেয়ে বাকি ছয় জন আগেই সীমান্ত পার হয়ে বাংলাদেশের অভ্যন্তরে ঢুকে পড়ে এবং দ্রুত বুড়িমারী রেলস্টেশনে গিয়ে ট্রেনে উঠে পালিয়ে যায়।
সীমান্তসংলগ্ন মদিরবাড়ি এলাকার বাসিন্দা আজমল হোসেন (৪২) বলেন, ‘‘ভোররাতে হঠাৎ সীমান্তের ওপারে মানুষের কান্নাকাটি ও হইচই শোনা যায়। আলো ফোটার আগেই দেখি বিএসএফের জোয়ানরা কয়েকজন মানুষকে আমাদের দিকে ঠেলে দিচ্ছে। আমরা সঙ্গে সঙ্গে গ্রামবাসীদের জড়ো করে প্রতিরোধ গড়ে তুলি এবং তিন জনকে আটকে দেই। কিন্তু বাকিরা অন্ধকারের মধ্যে কোন দিক দিয়ে যে পার হয়ে গেছে টের পাইনি।’’
বুড়িমারী রেলস্টেশন এলাকার প্রত্যক্ষদর্শী রফিকুল ইসলাম (৩৮) জানান, সকালবেলা ট্রেন ছাড়ার ঠিক আগমুহূর্তে কয়েকজন অচেনা ও আতঙ্কিত নারী-পুরুষ ও শিশু তাড়াহুড়ো করে স্টেশনে আসে। তারা কারও সাথে কোনো কথা না বলে সরাসরি ট্রেনে উঠে পড়ে। ট্রেন ছেড়ে দেওয়ার পর আমরা জানতে পারি, এরা সীমান্ত দিয়ে পুশইন হয়ে আসা ভারতীয় নাগরিক।
এ প্রসঙ্গে ৬১ বিজিবি (তিস্তা ব্যাটালিয়ন-২) এর অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল সৈয়দ ফজলে মুনিম জানান, উদ্ভূত পরিস্থিতির পর বিএসএফ ব্যাটালিয়ন কমান্ডারের সঙ্গে তাৎক্ষণিক যোগাযোগ করা হয়েছে। সীমান্তে অবস্থান করা ওই তিন নারীকে দ্রুত ভারতের অভ্যন্তরে ফেরত নিয়ে যাওয়ার জন্য বিএসএফকে কড়া বার্তা দেওয়া হয়েছে। একইসঙ্গে পালিয়ে যাওয়া ব্যক্তিদের সন্ধানে খোঁজ নেওয়া হচ্ছে এবং সীমান্তে বিজিবির কড়া নজরদারি ও সতর্কতা জারি রয়েছে।








