বছরের পর বছর ধরে দেশের শিক্ষা খাতে সবচেয়ে আলোচিত ও সংবেদনশীল বিষয়গুলোর একটি হলো শিক্ষার্থীদের হাতে সময়মতো ও মানসম্মত পাঠ্যবই পৌঁছানো। অত্যন্ত পরিতাপের বিষয়, নতুন শিক্ষাবর্ষ সামনে রেখে আবারও সেই পুরোনো আশঙ্কাই সত্য হতে চলেছে। বৃহস্পতিবার যুগান্তরে প্রকাশিত এক প্রতিবেদনে উঠে এসেছে, বিগত বছরগুলোতে যেসব বিতর্কিত ও নিম্নমানের প্রকাশনা সংস্থা পাঠ্যবই মুদ্রণে অনিয়ম করেছে, তারাই নানা কৌশলে এবারও বই ছাপার বড় বড় কাজ বাগিয়ে নেওয়ার অপতৎপরতা চালাচ্ছে। এতে সরকার বিপুল অঙ্কের আর্থিক ক্ষতির সম্মুখীন হবে; পাশাপাশি মানসম্মত বই বিতরণ নিয়েও দেখা দিয়েছে সংশয়।

জাতীয় শিক্ষাক্রম ও পাঠ্যপুস্তক বোর্ডের (এনসিটিবি) কিছু অসাধু কর্মকর্তার যোগসাজশে একটি নির্দিষ্ট সিন্ডিকেট প্রতিবারই পার পেয়ে যায়। অতীতে কাগজের নিম্নমান, ভুল বানানের ছড়াছড়ি, ঝাপসা ছাপা এবং সময়মতো বই সরবরাহে ব্যর্থতার জন্য যেসব প্রতিষ্ঠান কালো তালিকাভুক্ত হওয়ার যোগ্য ছিল, তারাই বারবার ঘুরেফিরে কাজ পাচ্ছে। কখনো নাম পরিবর্তন করে, আবার কখনো ভুয়া অভিজ্ঞতা দেখিয়ে তারা দরপত্রে অংশ নিচ্ছে এবং রহস্যজনকভাবে কাজও পেয়ে যাচ্ছে। এটি বন্ধ করতে হবে। শিক্ষা নিয়ে কোনো ধরনের ছেলেখেলা কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়। নিম্নমানের কাগজে ছাপা বই কয়েক মাস না যেতেই ছিঁড়ে যায়, ঝাপসা কালির কারণে কোমলমতি শিক্ষার্থীদের চোখের ক্ষতি হয় এবং ভুল তথ্যে ভরা বই তাদের মেধার বিকাশকে বাধাগ্রস্ত করে। একটি দেশের ভবিষ্যৎ প্রজন্মকে গড়ে তোলার প্রধান হাতিয়ার হলো শিক্ষা, আর সেই শিক্ষার প্রধান উপকরণ পাঠ্যবই। যদি বইয়ের মানই খারাপ হয়, তাহলে মানসম্মত শিক্ষার আশা করা বাতুলতা মাত্র।

আমরা মনে করি, এনসিটিবির ভেতরের ও বাইরের এই সিন্ডিকেটকে কঠোর হাতে দমন করার সময় এসেছে। দরপত্র প্রক্রিয়ায় শতভাগ স্বচ্ছতা নিশ্চিত করতে হবে এবং অতীতে যারা নিম্নমানের বই সরবরাহ করেছে, তাদের চিরতরে নিষিদ্ধ করতে হবে। শুধু কম খরচে বই ছাপানোর দিকে নজর না দিয়ে কাগজের জিএসএম এবং মুদ্রণের গুণগত মান কঠোরভাবে তদারকি করা প্রয়োজন। দুর্নীতিবাজ চক্রের স্বার্থরক্ষার চেয়ে কোটি কোটি শিক্ষার্থীর ভবিষ্যৎ অনেক বেশি মূল্যবান। আশা করি, সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ বিষয়টির গুরুত্ব অনুধাবন করে অবিলম্বে কার্যকর পদক্ষেপ নেবে এবং সব শঙ্কা উড়িয়ে দিয়ে শিক্ষার্থীদের হাতে নিখুঁত ও মানসম্মত পাঠ্যবই তুলে দেবে।