টানা ভারী বৃষ্টিতে জলাবদ্ধতার কবলে পড়েছে পটুয়াখালী শহর। শনিবার (১১ জুলাই) সকাল ৯টা থেকে রবিবার সকাল ৯টা পর্যন্ত ২৪ ঘণ্টায় জেলায় ১৫১ দশমিক ৮ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত রেকর্ড করেছে জেলা আবহাওয়া অফিস। ভারী বর্ষণে শহরের বিভিন্ন নিচু এলাকা প্লাবিত হয়েছে। অনেক বাসাবাড়িতে পানি ঢুকে দুর্ভোগে পড়েছেন বাসিন্দারা।

সারারাতের বৃষ্টিতে শহরের বিভিন্ন সড়ক, অলিগলি ও নিচু এলাকায় পানি জমে যায়। ড্রেনেজ ব্যবস্থা পর্যাপ্ত না থাকায় বৃষ্টির পানি দ্রুত নামতে না পেরে জলাবদ্ধতা সৃষ্টি হয়। জেলার বিভিন্ন নিম্নাঞ্চল প্লাবিত হওয়ার খবর পাওয়া গেছে।

সবচেয়ে বেশি দুর্ভোগে পড়েছেন দিনমজুর, রিকশা-ভ্যানচালক ও নিম্ন আয়ের মানুষ। বৃষ্টির কারণে অনেকেই কাজে বের হতে পারেননি। ফলে দৈনিক আয়ের ওপর নির্ভরশীল পরিবারগুলো পড়েছে আর্থিক সংকটে।

পটুয়াখালীতে ভারী বৃষ্টিতে জলাবদ্ধতা: সংকটে নিম্ন আয়ের মানুষ

পটুয়াখালী শহরের বাসিন্দা মো. সাইফুল ইসলাম বলেন, ‘রাত থেকেই বাসার উঠানে ও নিচতলায় পানি উঠে যায়। সকালে পানি কমলেও অনেক জিনিসপত্র নষ্ট হয়েছে। প্রতিবছর বর্ষায় একই দুর্ভোগ পোহাতে হয়।’

রিকশাচালক মো. জাকির হোসেন বলেন, ‘সকাল থেকে বৃষ্টি। রাস্তায় মানুষ কম, যাত্রীও নেই। সারাদিনে যা আয় হয়, আজ তার অর্ধেকও হয়নি। সংসার চালানো কঠিন হয়ে যাচ্ছে।’

দিনমজুর মো. আবদুল মালেক বলেন, ‘বৃষ্টি হলে কাজ থাকে না। কাজ না করলে আয়ও নেই। পরিবারের খাবার জোগাড় করাই এখন সবচেয়ে বড় চিন্তা।’

পটুয়াখালীতে ভারী বৃষ্টিতে জলাবদ্ধতা: সংকটে নিম্ন আয়ের মানুষ

তবে বৃষ্টি কমে আসার পর পটুয়াখালী পৌরসভার পরিচ্ছন্নতা শাখার কর্মীরা ড্রেন পরিষ্কার ও পানি নিষ্কাশনের কাজ শুরু করলে ধীরে ধীরে শহরের বিভিন্ন এলাকা থেকে পানি নেমে যেতে শুরু করবে বলে আশা করছেন এলাকাবাসী।

পটুয়াখালী জেলা আবহাওয়া অফিসের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মাহবুবা সুখী বলেন, ‘গত ২৪ ঘণ্টায় ১৫১ দশমিক ৮ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত রেকর্ড করা হয়েছে। মৌসুমি বায়ুর প্রভাবে আগামী দিনগুলোতেও বৃষ্টিপাত অব্যাহত থাকতে পারে। একই সঙ্গে দমকা বা ঝোড়ো হাওয়া বয়ে যাওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।’

মাহমুদ হাসান রায়হান/কেজে/এএসএম