সাম্প্রতিক ভয়াবহ বন্যায় চরমভাবে ক্ষতিগ্রস্ত কক্সবাজারের পেকুয়া উপজেলার তলিয়ে যাওয়া বেড়িবাঁধ ও দুর্গত এলাকা পরিদর্শন করে দ্রুত সংস্কারকাজ শুরুর পাশাপাশি দীর্ঘমেয়াদি ও টেকসই বেড়িবাঁধ নির্মাণের আশ্বাস দিয়েছেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ। ক্ষতিগ্রস্ত মানুষের সঙ্গে কথা বলে সংশ্লিষ্ট দপ্তরগুলোকে জরুরি ভিত্তিতে ক্ষয়ক্ষতির পূর্ণাঙ্গ তালিকা প্রস্তুত এবং সমন্বিতভাবে কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণের নির্দেশ দেন তিনি।
শনিবার (১৮ জুলাই) সকাল থেকে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী উপজেলার মেহেরনামা, উজানটিয়া এবং বন্যায় সবচেয়ে ক্ষতিগ্রস্ত কয়েকটি এলাকা পরিদর্শন করেন। এসময় তিনি স্থানীয় বাসিন্দাদের সঙ্গে কথা বলে তাদের ক্ষয়ক্ষতি, দুর্ভোগ ও পুনর্বাসনের বিষয়ে খোঁজখবর নেন।
পরিদর্শন শেষে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, সাম্প্রতিক বন্যায় পেকুয়ায় ক্ষয়ক্ষতি অত্যন্ত উদ্বেগজনক। বিশেষ করে বেড়িবাঁধ ভেঙে লোকালয়ে পানি প্রবেশ করায় হাজারো পরিবার চরম দুর্ভোগে পড়েছে। দ্রুত বাঁধ সংস্কারের পাশাপাশি ভবিষ্যতে এমন পরিস্থিতি এড়াতে স্থায়ী ও টেকসই বেড়িবাঁধ নির্মাণে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

তিনি সংশ্লিষ্ট দপ্তরের কর্মকর্তাদের দ্রুত ক্ষয়ক্ষতির পূর্ণাঙ্গ তালিকা প্রস্তুত করে জরুরি ভিত্তিতে সংস্কারকাজ শুরু করার নির্দেশ দেন। একইসঙ্গে পানি উন্নয়ন বোর্ডসহ সংশ্লিষ্ট সব সংস্থাকে সমন্বিতভাবে কার্যকর উদ্যোগ গ্রহণের তাগিদ দেন।
এসময় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, শুধু অস্থায়ী সংস্কার নয়, দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনার মাধ্যমে উপকূলীয় জনপদকে নিরাপদ রাখতে সরকার কাজ করছে। প্রতি বছর যেন একই স্থানে বাঁধ ভেঙে মানুষের দুর্ভোগ সৃষ্টি না হয়, সে বিষয়ে বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হবে।
তিনি জানান, বন্যায় ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলোর পুনর্বাসন, খাদ্য সহায়তা ও প্রয়োজনীয় সরকারি সহযোগিতা অব্যাহত থাকবে। ক্ষতিগ্রস্ত মানুষের স্বাভাবিক জীবনযাত্রা দ্রুত ফিরিয়ে আনতে সরকার আন্তরিকভাবে কাজ করছে বলেও তিনি জানান।

পরে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী পেকুয়া উপজেলা পরিষদ মাঠে আলহাজ শামসুল হক ফাউন্ডেশনের উদ্যোগে বন্যার্ত মানুষের মাঝে ত্রাণসামগ্রী বিতরণ করেন। এসময় তিনি অসহায় ও ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারের হাতে খাদ্যসামগ্রী তুলে দিয়ে তাদের পাশে থাকার প্রতিশ্রুতি পুনর্ব্যক্ত করেন।
পরিদর্শনকালে চট্টগ্রাম-৯ আসনের সংসদ সদস্য মোহাম্মদ আবু সুফিয়ান, উপজেলা প্রশাসনের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা, পানি উন্নয়ন বোর্ডের কর্মকর্তারা, স্থানীয় জনপ্রতিনিধি এবং বিভিন্ন রাজনৈতিক ও সামাজিক সংগঠনের প্রতিনিধিরা উপস্থিত ছিলেন।
এদিকে স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, প্রতিবছর বর্ষা মৌসুমে একই স্থানে বেড়িবাঁধ ভেঙে বিস্তীর্ণ এলাকা প্লাবিত হয়। এতে ঘরবাড়ি, কৃষিজমি, মাছের ঘের ও লবণক্ষেতের ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়। তারা অস্থায়ী সংস্কারের পরিবর্তে দ্রুত একটি স্থায়ী ও টেকসই বেড়িবাঁধ নির্মাণের দাবি জানিয়ে বলেন, দীর্ঘমেয়াদি সমাধানই পারে উপকূলবাসীকে বারবারের এই দুর্ভোগ থেকে মুক্তি দিতে।
সায়ীদ আলমগীর/এফএ/এএসএম








