বিশ্বকাপের শেষ ষোলোতে নরওয়ের কাছে ২-১ গোলে হেরে স্বপ্নভঙ্গ হয়েছে ব্রাজিলের। সেই হারের অন্যতম মোড় ঘুরিয়ে দেওয়া মুহূর্ত ছিল প্রথমার্ধে ব্রুনো গিমারেসের পেনাল্টি মিস। ম্যাচ শেষে সেই ব্যর্থতার দায় নিজের কাঁধে নিয়ে সমর্থকদের কাছে ক্ষমা চাইলেন নিউক্যাসল ইউনাইটেডের এই মিডফিল্ডার।

নিউজার্সিতে ম্যাচের নবম মিনিটে মাথিয়াস কুনিয়াকে নরওয়ের ডি বক্সে ফাউলের শিকার হলে ভিএআর দেখে রেফারি পেনাল্টির বাঁশি বাজান। স্পটকিক নিতে এসে হতাশ করেছেন গিমারেসস। বাঁ দিকে তাঁর নেওয়া শট দারুণ দক্ষতায় ঠেকিয়ে দেন নরওয়ের গোলরক্ষক অরইয়ান নিল্যান্ড। ব্রাজিলকে এর মূল্য দিতে হয়েছে বিশ্বকাপ থেকে বাদ পড়ে।

ম্যাচ শেষে গিমারেস বলেন, ‘আমার মনে হয়, আমি খুব ভালো একটি বিশ্বকাপ খেলছিলাম। পেনাল্টির ঘটনাটি ছিল দুর্ভাগ্যজনক। তাদের গোলরক্ষককে নিয়ে অনেক পড়াশোনা করেছিলাম এবং আমার মনে হয়েছিল, ওই কোণটাই শট নেওয়ার জন্য সবচেয়ে ভালো জায়গা। কিন্তু দুর্ভাগ্যবশত সে বলটি ঠেকিয়ে দেয়। এটা পুরো দলের জন্যই দুঃখের মুহূর্ত। সবাই খুব ভেঙে পড়েছে।’

নিজের হতাশার পাশাপাশি ব্রাজিলের সমর্থকদের প্রতিও কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেছেন গিমারেস। শেষ পর্যন্ত দলের পাশে থাকার জন্য ভক্তদের ধন্যবাদ জানিয়ে ক্ষমাও চান এই মিডফিল্ডার, ‘সবশেষে আমি সমর্থকদের কাছে ক্ষমা চাইছি। তারা সবসময় আমাদের বিশ্বাস করেছে এবং শেষ পর্যন্ত সমর্থন দিয়ে গেছে। আজকের দিনটি খুব কঠিন, এমনকি কী বলব সেটাও খুঁজে পাচ্ছি না। আমি খুবই ভেঙে পড়েছি। এখন আমাদের পরিবারের কাছ থেকে শক্তি খুঁজে নিতে হবে। এই কঠিন সময়ে সেটাই সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ হবে।’

বিশ্বকাপ থেকে বিদায়ের ধাক্কা কাটিয়ে উঠতে লম্বা সময় লাগবে ব্রাজিলের ফুটবলারদের, সেটা ভালোভাবেই বুঝতে পারছেন গিমারেস। তাঁর মতে, ব্রাজিলিয়ানরা এমন একটি ম্যাচে হেরেছে, যেখানে জেতার সামর্থ্য ছিল।

এই প্রসঙ্গে গিমারেস বলেন, ‘আমরা খুবই হতাশ, এটা স্পষ্ট। ম্যাচটি জেতার সামর্থ্য আমাদের পুরোপুরি ছিল। এই মুহূর্তের কষ্টটা খুব গভীর। কী বলব, সেটাই খুঁজে পাওয়া কঠিন, কারণ আমরা এমন পরিণতির জন্য প্রস্তুত ছিলাম না। আমরা জানি, ফুটবল অনেক আনন্দ দেয়, কিন্তু কখনো কখনো এমন গভীর বেদনাও উপহার দেয়।’