২০২৬ ফিফা বিশ্বকাপের শেষ ৩২-এ প্যারাগুয়ের কাছে হেরে জার্মানির বিদায়ের পর নতুন এক বিতর্ক তৈরি হয়েছে লিওন গোরেৎসকাকে ঘিরে। টাইব্রেকারের গুরুত্বপূর্ণ মুহূর্তে পেনাল্টি নিতে তিনি নাকি দুইবার অস্বীকৃতি জানিয়েছিলেন, এমন দাবি করেছে জার্মান সংবাদমাধ্যম বিল্ড।
প্রতিবেদন অনুযায়ী, টাইব্রেকারের সময় জার্মান অধিনায়ক জশুয়া কিমিখ নিজেই সম্ভাব্য পেনাল্টি শুটারদের ক্রম ঠিক করছিলেন। একপর্যায়ে তিনি গোরেৎসকার সামনে এসে জিজ্ঞেস করেন, ‘তুমি নেবে, লিওন?’ জবাবে ৩১ বছর বয়সী মিডফিল্ডার গাল ফুলিয়ে মাথা নেড়ে ‘না’ বলেন। কিমিখ দ্বিতীয়বারও একই প্রশ্ন করেন, কিন্তু গোরেৎসকা আবারও অস্বীকৃতি জানান।
এই কথোপকথনটি স্টেডিয়ামের ‘স্পাইডারক্যাম’-এর মাইক্রোফোনে ধরা পড়ে এবং জার্মান টেলিভিশনের সরাসরি সম্প্রচারেও স্পষ্টভাবে শোনা যায়।
টাইব্রেকারের দ্বিতীয় শটটি সফলভাবে নেওয়ার পর কিমিখ যখন দলের বাকি শুটারদের তালিকা ঠিক করছিলেন, তখন প্রথমে তিনি নাথানিয়েল ব্রাউনকে ডাকেন, যিনি দায়িত্ব নিতে রাজি হন। এরপর গোরেৎসকার কাছে গেলে তিনি আবারও না বলেন।
কিমিখ আর জোরাজুরি না করে তালিকা পুনর্বিন্যাস করেন। সেখানে গোরেৎসকাকে নবম এবং ওয়ালডেমার আন্তনকে দশম শুটার হিসেবে রাখা হয়।
এর ফলে ষষ্ঠ পেনাল্টির দায়িত্ব পড়ে জোনাথান তাহের ওপর। অথচ পেশাদার ক্যারিয়ারে এর আগে কখনও পেনাল্টি নেননি এই ডিফেন্ডার। শেষ পর্যন্ত তার শটটি প্রতিহত হয় এবং বিশ্বকাপ থেকে বিদায় নিশ্চিত হয় জার্মানির।
কাই হাভার্টজ, নিক ভল্টেমাডে এবং জোনাথান তাহ-এই তিনজনই টাইব্রেকারে পেনাল্টি মিস করেন। ফলে প্যারাগুয়ের কাছে হেরে বিশ্বকাপ অভিযান শেষ হয় চারবারের বিশ্বচ্যাম্পিয়নদের।
গোরেৎসকাকে ঘিরে সমালোচনা আরও বেড়েছে তার আগের বক্তব্যের কারণে। কিছুদিন আগে একাধিক সাক্ষাৎকারে বায়ার্ন মিউনিখের এই মিডফিল্ডার বলেছিলেন, তিনি জাতীয় দলের তরুণ খেলোয়াড়দের জন্য একজন আদর্শ হতে চান এবং নিজের অভিজ্ঞতা তাদের মধ্যে ছড়িয়ে দিতে চান।
যদিও গোরেৎসকা কখনোই নিয়মিত পেনাল্টি নেওয়ার খেলোয়াড় ছিলেন না। পেশাদার ফুটবলে স্পট-কিক থেকে গোল করার তার একমাত্র অভিজ্ঞতা ছিল ২০১৭ সালে শালকে ০৪-এর হয়ে।
তবুও অনেকের প্রশ্ন, এমন এক গুরুত্বপূর্ণ মুহূর্তে ৩১ বছর বয়সী অভিজ্ঞ একজন ফুটবলার পেনাল্টি নিতে অস্বীকৃতি জানাবেন, আর অভিজ্ঞতাহীন এক ডিফেন্ডার ম্যাচের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ শট নেবেন-এ দৃশ্য মেনে নেওয়া কঠিন।
আরএএইচইউএল/এমএমআর








