জার্মানির কিংবদন্তি গোলরক্ষক ম্যানুয়েল নয়্যার আন্তর্জাতিক ফুটবলে নিজের শেষ ম্যাচ খেলে ফেলেছেন। তার বিদায়ী ম্যাচ ছিল ২০২৬ ফিফা বিশ্বকাপের রাউন্ড অব ৩২-এ প্যারাগুয়ের বিপক্ষে, যা অনুষ্ঠিত হয় ৩০ জুন। চারবারের বিশ্বচ্যাম্পিয়ন জার্মানি টাইব্রেকারে প্যারাগুয়ের কাছে হেরে টুর্নামেন্ট থেকে বিদায় নেয়।
এটি দ্বিতীয়বারের মতো নয়্যারের আন্তর্জাতিক ফুটবল থেকে অবসর। প্রথমবার তিনি ২০২৪ সালে অবসরের ঘোষণা দিয়েছিলেন, যখন ইউরো ২০২৪-এর কোয়ার্টার ফাইনালে স্পেন জার্মানিকে হারিয়েছিল। এরপর তিনি আবার জাতীয় দলে ফিরে আসেন। শেষ পর্যন্ত ২০১০ থেকে ২০২৬ পর্যন্ত টানা পাঁচটি বিশ্বকাপে জার্মানির প্রতিনিধিত্ব করে দেশের ইতিহাসের অন্যতম সেরা গোলরক্ষক হিসেবে ক্যারিয়ার শেষ করলেন তিনি।
৪০ বছর বয়সী নয়্যার এবারের বিশ্বকাপে চারটি ম্যাচে জার্মানির হয়ে মোট সাতটি সেভ করেন। তবে তিনি একটিও ক্লিন শিট রাখতে পারেননি। রাউন্ড অব ৩২-এর ম্যাচ শেষে জার্মান সম্প্রচারমাধ্যম ‘এআরডি’ তাকে জিজ্ঞেস করে, এটাই কি জার্মানির জার্সিতে তার শেষ ম্যাচ ছিল? উত্তরে নয়্যার সংক্ষিপ্তভাবে বলেন, ‘হ্যাঁ’। এর মাধ্যমেই তিনি আন্তর্জাতিক ফুটবল থেকে অবসরের বিষয়টি নিশ্চিত করেন।
প্যারাগুয়ের বিপক্ষে টাইব্রেকারে নয়্যার প্রতিপক্ষের ফাবিয়ান বালবুয়েনা নেওয়া দ্বিতীয় শটটি দারুণভাবে ঠেকিয়ে দেন। কিন্তু দল জিততে পারেনি।
২০২৬ বিশ্বকাপের আগে জার্মানির কোচ ইউলিয়ান নাগেলসম্যান নয়্যারকে আবার জাতীয় দলে ফিরিয়ে আনেন। যদিও বিশ্বকাপের আগে প্রস্তুতি ম্যাচগুলোতে তিনি খেলতে পারেননি, তবে কুরাসাওয়ের বিপক্ষে জার্মানির বিশ্বকাপের উদ্বোধনী ম্যাচে শুরুর একাদশে ছিলেন।
সর্বকালের অন্যতম সফল গোলরক্ষকদের একজন নয়্যারের ক্যারিয়ারের সবচেয়ে বড় অর্জন নিঃসন্দেহে ২০১৪ ফিফা বিশ্বকাপ জয়। ফাইনালে আর্জেন্টিনার বিপক্ষে তিনি ক্লিন শিট রেখে জার্মানিকে ১-০ ব্যবধানে জিততে সাহায্য করেন। সেই আসরে দুর্দান্ত পারফরম্যান্সের জন্য তিনি গোল্ডেন গ্লাভস পুরস্কারও জেতেন।
মজার বিষয় হলো, ২০১৪ সালের পর আর কোনো বিশ্বকাপেই জার্মানি নকআউট পর্বে উঠতে পারেনি। ২০১৮ ও ২০২২—উভয় বিশ্বকাপেই তারা গ্রুপ পর্ব থেকেই বিদায় নিয়েছিল।
নয়্যার ২০০৯ সালে জার্মানির হয়ে আন্তর্জাতিক অভিষেক করেন। দীর্ঘ ক্যারিয়ারে তিনি ১২৮টি আন্তর্জাতিক ম্যাচ খেলেছেন এবং ৫০টি ক্লিন শিট রেখেছেন, যা তাকে জার্মান ফুটবলের ইতিহাসে অন্যতম সেরা গোলরক্ষক হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করেছে।
আরআর/এমএমআর








