বিশ্বকাপে জার্মানির বিদায়ের পর আন্তর্জাতিক ফুটবলকে আবারও বিদায় জানালেন ম্যানুয়েল নয়্যার। বিশ্বকাপ খেলতে অবসর ভেঙে জাতীয় দায়িত্বে ফিরেছিলেন কিংবদন্তি এই গোলরক্ষক। তবে প্রত্যাবর্তনটা সুখকর হয়নি। প্যারাগুয়ের কাছে টাইব্রেকারে হেরে বিদায় নেওয়ার পর দ্বিতীয়বারের মতো জাতীয় দলের জার্সি তুলে রাখার ঘোষণা দিলেন তিনি।

অবসরের বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন নয়্যার নিজেই। জার্মান সম্প্রচারমাধ্যম স্পোর্টশাউকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে আন্তর্জাতিক ক্যারিয়ারের ইতি টানার বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি সংক্ষেপে বলেন, ‘হ্যাঁ।’ অন্যদিকে ম্যাজেন্টা টিভিকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে হতাশা প্রকাশ করে বলেন, ‘এভাবে শেষ করাটা খুবই তিক্ত।’

বিশ্বকাপের প্রথম নকআউট পর্বে অতিরিক্ত সময় শেষে ১-১ সমতা থাকার পর টাইব্রেকারে প্যারাগুয়ের কাছে ৪-৩ ব্যবধানে হেরে যায় জার্মানি। প্রথমার্ধে হুলিও এনসিসোর গোলে পিছিয়ে পড়ে জার্মানরা। বিরতির পর কাই হাভার্টজের হেডে সমতায় ফেরে দলটি।

অতিরিক্ত সময়ে কর্নার থেকে জোনাথান তাহের হেডে জার্মানি গোল পেলেও প্যারাগুয়ের গোলরক্ষকের ওপর ফাউলের অভিযোগে ভিএআরের সহায়তায় সেটি বাতিল হয়। পরে টাইব্রেকারে ফাবিয়ান বালবুয়েনার শট ঠেকান নয়্যার। কিন্তু হাভার্টজ, নিক ভল্টেমাডে ও তাহ পেনাল্টি মিস করায় বিদায় নিশ্চিত হয় চারবারের বিশ্বচ্যাম্পিয়নদের।

২০২৪ ইউরোপিয়ান চ্যাম্পিয়নশিপের পর আন্তর্জাতিক ফুটবল থেকে অবসর নিয়েছিলেন নয়্যার। সে সময় তিনি জানিয়েছিলেন, আর জাতীয় দলে ফিরবেন না। এরপর মার্ক আন্দ্রে টের স্টেগেনের চোটের কারণে হফেনহাইমের অলিভার বাউমান জার্মানির প্রথম পছন্দের গোলরক্ষক হিসেবে বিশ্বকাপ বাছাইপর্বের ছয়টি ম্যাচ এবং প্রস্তুতি ম্যাচগুলো খেলেন।

তবে বিশ্বকাপের আগে নয়্যারকে ফিরিয়ে আনার গুঞ্জন ক্রমেই জোরালো হতে থাকে। শুরুতে নয়্যার ও কোচ ইউলিয়ান নাগেলসমান বিষয়টি অস্বীকার করলেও শেষ পর্যন্ত বায়ার্ন মিউনিখের এই অভিজ্ঞ গোলরক্ষককে ফিরিয়ে আনেন জার্মান কোচ। ফলে বাউমানকে সরে দাঁড়াতে হয়। কিন্তু সেই সিদ্ধা বিশ্বকাপেন্ত জার্মানিকে প্রত্যাশিত সাফল্য এনে দিতে পারল না।

২০০৯ সালে জাতীয় দলে অভিষেক হওয়া নয়্যার জার্মানির হয়ে ১২৮টি আন্তর্জাতিক ম্যাচ খেলেছেন। তিনি ছিলেন ২০১৪ বিশ্বকাপজয়ী দলের শেষ সক্রিয় ফুটবলার।

আন্তর্জাতিক ফুটবলকে বিদায় জানালেও ক্লাব ক্যারিয়ার চালিয়ে যাবেন নয়্যার। গত মাসেই বায়ার্ন মিউনিখের সঙ্গে চুক্তির মেয়াদ বাড়িয়েছেন। ২০১১ সালে শালকে ছেড়ে বায়ার্নে যোগ দেওয়া এই গোলরক্ষক ক্লাবটির হয়ে ১৩টি বুন্দেসলিগা, দুটি উয়েফা চ্যাম্পিয়ন্স লিগ এবং ২০১৪ সালে জার্মানির হয়ে বিশ্বকাপ জয়ের গৌরব অর্জন করেছেন।