বিশ্বকাপের শেষ ৩২-এ ব্রাজিলের কাছে হেরে বিদায় নিতে হয়েছে জাপানকে। তবে মাঠের হতাশার মধ্যেও আর্থিক দিক থেকে বড় প্রাপ্তি নিয়েই বিশ্বকাপ অভিযান শেষ করছে সামুরাই ব্লুরা।

নকআউট পর্বের প্রথম ধাপ পর্যন্ত পৌঁছানোর সুবাদে ফিফার কাছ থেকে ১ কোটি ১০ লাখ মার্কিন ডলার (১১ মিলিয়ন ডলার) পুরস্কার পাচ্ছে জাপান। বাংলাদেশি মুদ্রায় যার পরিমাণ প্রায় ১৩৫ কোটি টাকারও বেশি।

এর পাশাপাশি বিশ্বকাপে অংশ নেওয়া ৪৮টি দলকেই প্রস্তুতি তহবিল হিসেবে অতিরিক্ত ২৫ লাখ মার্কিন ডলার (২.৫ মিলিয়ন ডলার) দিয়েছে ফিফা। এই অর্থও পাচ্ছে জাপান।

সব মিলিয়ে বিশ্বকাপ থেকে জাপানের মোট প্রাপ্তি দাঁড়াচ্ছে ১ কোটি ৩৫ লাখ মার্কিন ডলার (১৩.৫ মিলিয়ন ডলার), যা বাংলাদেশি মুদ্রায় প্রায় ১৬৫ কোটির বেশি।

আগের বিশ্বকাপের তুলনায় কেন কম?

মজার বিষয় হলো, শেষ ৩২ পর্যন্ত উঠলেও কাতার বিশ্বকাপের তুলনায় এবার কিছুটা কম পুরস্কার পাচ্ছে জাপান। ২০২২ বিশ্বকাপে শেষ ষোলোতে উঠে দলটি পেয়েছিল ১ কোটি ৩০ লাখ মার্কিন ডলার (১৩ মিলিয়ন)। এবার মোট পুরস্কারের কাঠামো পরিবর্তন হওয়ায় একই ধরনের সাফল্য অর্জন করেও নকআউট পর্বের পারফরম্যান্স বাবদ কিছুটা কম অর্থ পাচ্ছে তারা।

এর মূল কারণ বিশ্বকাপে দলের সংখ্যা ৩২ থেকে বাড়িয়ে ৪৮ করা হয়েছে। নতুন ফরম্যাটে শেষ ১৬-এর আগে অতিরিক্ত একটি নকআউট রাউন্ড (রাউন্ড অব ৩২) যুক্ত হওয়ায় পুরস্কারের অর্থ আরও বেশি দলের মধ্যে বণ্টন করা হচ্ছে।

যদিও ডলারের অঙ্কে পুরস্কারের পরিমাণ কিছুটা কমেছে, তবুও জাপানের জন্য বাস্তবিক আর্থিক প্রভাব খুব বেশি নয়। বিশ্লেষকদের মতে, মার্কিন ডলারের বিপরীতে জাপানি ইয়েনের মূল্য কমে যাওয়ায় নিজ দেশের মুদ্রায় হিসাব করলে জাপান প্রায় আগের বিশ্বকাপের সমপরিমাণ অর্থই পাচ্ছে।

এবারের বিশ্বকাপে শুধু অংশগ্রহণকারী দলগুলোরই নয়, চ্যাম্পিয়ন দলের জন্যও পুরস্কারের পরিমাণ বাড়িয়েছে ফিফা। আগামী ১৯ জুলাই শিরোপা জেতা দল পাবে ৫ কোটি মার্কিন ডলার (৫০ মিলিয়ন ডলার), যা বাংলাদেশি মুদ্রায় প্রায় ৬১০ কোটিরও বেশি। কাতার বিশ্বকাপের তুলনায় এটি ৮ মিলিয়ন ডলার বেশি।

বিশ্বকাপের নতুন ৪৮ দলের ফরম্যাটে পুরস্কারের কাঠামোও নতুনভাবে সাজিয়েছে ফিফা। ফলে বেশি সংখ্যক দল আর্থিকভাবে লাভবান হলেও নকআউটের বিভিন্ন ধাপের পুরস্কার পুনর্বিন্যাস করা হয়েছে।

আইএইচএস/