২০২৬ ফুটবল বিশ্বকাপ শেষ হচ্ছে কাল। দীর্ঘ ৪০ দিন ফুটবল সমর্থকেরা যেভাবে রাত জেগে খেলা দেখতেন, অফিস-আদালত, চায়ের দোকান, বাসা-বাড়িতে আড্ডায় মেতে থাকতেন, সেই রোমাঞ্চের যবনিকাপাত হচ্ছে। এই মুহূর্তে তাই ফাইনাল নিয়ে চলছে নানারকম আলোচনা। আর্জেন্টিনা-স্পেনের কার চ্যাম্পিয়ন হওয়ার সম্ভাবনা বেশি, কে বেশি গোল করবেন, তা নিয়ে চলছে বিশ্লেষণ।
বাংলাদেশের প্রেক্ষাপটে ব্রাজিল-আর্জেন্টিনার সমর্থক যে বেশি, সেটা কারও অজানা নয়। ব্রাজিল বিদায় নিলেও তাই ফাইনাল নিয়ে রোমাঞ্চ এখনো কাজ করছে বাংলাদেশে। কারণ, আগামীকাল নিউজার্সিতে শিরোপা নির্ধারণী ম্যাচে মুখোমুখি হচ্ছে আর্জেন্টিনা-স্পেন। তবে ব্রাজিলের ব্যাপারটা যে একেবারেই আলাদা। শুধু তারাই নয়, লাতিন আমেরিকার অধিকাংশ মানুষই লিওনেল স্কালোনির দলকে সমর্থন করছেন না।
সামাজিক মাধ্যমে ব্রাজিল, মেক্সিকো, কলম্বিয়া এবং চিলির অনেক সমর্থক স্পেনের পক্ষেই সমর্থন জানিয়েছেন। ব্রাজিলের ‘ও গ্লোবো’ সংবাদমাধ্যমের এক প্রতিবেদন থেকে জানা গেছে, সম্প্রতি সবচেয়ে বেশি শেয়ার হওয়া একটি মিমে দেখা যায়, স্পেনের স্ট্রাইকার লামিন ইয়ামাল ব্রাজিল জাতীয় দলের জার্সি পরে আছেন। ছবিটির ক্যাপশনে লেখা, ‘ব্রাজিলিয়ান জনগণের আশা।’ এই প্রবণতা শুধু ব্রাজিল ও আর্জেন্টিনার ঐতিহাসিক প্রতিদ্বন্দ্বিতার মধ্যেই সীমাবদ্ধ নয়। বার্তা সংস্থা এএফপিকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে বিভিন্ন দেশের সমর্থকেরা জানিয়েছেন, তাঁরা আগামীকাল ফাইনালে স্পেনকেই সমর্থন করবেন।
এবারের বিশ্বকাপে আর্জেন্টিনা ফিফার কাছ থেকে সুবিধা পাচ্ছে বলে গত ৭ জুলাই আটলান্টায় শেষ ষোলোর ম্যাচ শেষে মিসর কোচ হোসাম হাসান ও দলটির ফরোয়ার্ড মোস্তফা জিকো অভিযোগ করেছিলেন। জিকোর মতে এবারের বিশ্বকাপটা আগে থেকেই পূর্বপরিকল্পিত। সাও পাওলোতে ব্রাজিলের ফ্রান্সিসকো সান্তোসও মনে করেন, বিশ্বকাপে স্কালোনির দল বাড়তি সুবিধা পাচ্ছে। ফ্রান্সিসকো বলেন, ‘আর্জেন্টিনা রেফারিদের সহায়তা পেয়েছে। চলুন, আমরা স্পেনকে সমর্থন করি।’
স্কালোনি যখনই ফিফার কাছ থেকে বাড়তি সুবিধা পাওয়ার কথা শুনছেন, তা উড়িয়ে দিচ্ছেন। তবে প্রতিপক্ষ দলের সমর্থকেরা কি আর্জেন্টাইন কোচের কথার সঙ্গে একমত হবেন? সরাসরি না বললেও কলম্বিয়ার আর্থিক বিশ্লেষক হুয়ান কামিলো আবু সাইদ পক্ষপাতিত্বের কথা শিকার করেছেন। তিনিও স্পেনকেই সমর্থন করবেন।
মেক্সিকোর পুলিশ কর্মকর্তা আন্তোনিও লোপেস স্বীকার করেছেন লিওনেল মেসির দুর্দান্ত পারফরম্যান্সের কথা। এবারের বিশ্বকাপে মেসি ৭ ম্যাচে ৮ গোল ও ৪ অ্যাসিস্টে গোল্ডেন বুটের লড়াইয়ে সবার ওপরে। তবে লোপেসের মতে আর্জেন্টিনা বাড়তি সুবিধা পাচ্ছে। মেক্সিকোর পুলিশ কর্মকর্তা বলেন, ‘যদি আপনি শুধুমাত্র নিজের ফুটবল দক্ষতায় দুটি শিরোপা জেতেন, তাহলে আমি তা মেনে নেব। কিন্তু যদি রেফারিরা সাহায্য করে, তাহলে আমি তা মেনে নেব না।’
আর্জেন্টিনা-স্পেন ফাইনাল নিয়ে আলোচনা একপর্যায়ে রাজনীতিতেও গড়ায়। এক সংবাদ সম্মেলনে মেক্সিকোর প্রেসিডেন্ট ক্লাউদিয়া শেইনবাউম উপস্থিত সাংবাদিকদের জিজ্ঞেস করেন, ফাইনালে তাঁরা কাকে সমর্থন করবেন। সবাই একবাক্যে স্পেনকে সমর্থন দেওয়ার কথা স্বীকার করেছেন।
নিউজার্সিতে আগামীকাল স্পেন দ্বিতীয় বিশ্বকাপ জিততে মাঠে নামবে। এর আগে ২০১০ সালে একবারই ফাইনাল খেলে চ্যাম্পিয়ন হয়েছিল স্প্যানিশরা। আর্জেন্টিনা নামবে শিরোপা ধরে রাখার মিশনে। আলবিসেলেস্তেরা রোববার চ্যাম্পিয়ন হলে তৃতীয় দল হিসেবে বিশ্বকাপের শিরোপা ধরে রাখার কীর্তি গড়বে স্কালোনির দল। এর আগে ইতালি-ব্রাজিলের ছিল এমন কীর্তি।








