কৃষকদের উৎপাদিত ফলের ন্যায্যমূল্য নিশ্চিত করতে ফল প্রক্রিয়াজাতকরণ শিল্পে যুক্ত হয়েছেন বলে জানিয়েছেন চাঁপাইনবাবগঞ্জের সফল ড্রাই ফ্রুটস উদ্যোক্তা ইসমাইল খান শামীম। তিনি বলেন, এ খাতে থাইল্যান্ডের মতো শক্তিশালী বাজার গড়ে তুলতে হলে ক্ষুদ্র ও মাঝারি শিল্প (এসএমই) খাত সম্পৃক্ত করতে হবে।
শনিবার (২৭ জুন) সকালে রাজধানীর জাগো নিউজের কার্যালয়ে আয়োজিত ‘ফল প্রক্রিয়াজাতকরণ: সমস্যা ও সম্ভাবনা’ শীর্ষক গোলটেবিল বৈঠকে তিনি এসব কথা বলেন।
অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন জাগো নিউজের সম্পাদক কে. এম. জিয়াউল হক। এতে সরকারের বিভিন্ন মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তা, উদ্যোক্তা ও কৃষকরা অংশ নেন।
আরও পড়ুন
ফল প্রক্রিয়াজাতে প্রশিক্ষণ আছে, নেই পর্যাপ্ত যন্ত্রপাতি সহায়তা
কাঁঠালের চিপস-আচার রপ্তানি হচ্ছে মধ্যপ্রাচ্য-ইউরোপে
চাঁপাইনবাবগঞ্জের শিবগঞ্জ ম্যাংগো প্রোডিউসার কো-অপারেটিভ সোসাইটির সাধারণ সম্পাদক ও ‘নওয়াবি ম্যাংগো’র স্বত্বাধিকারী ইসমাইল খান শামীম জানান, বর্তমানে তিনি ড্রাই ম্যাঙ্গো, ড্রাই পাইনঅ্যাপেল, ড্রাই পেঁপে এবং ম্যাঙ্গো বার এই চার ধরনের পণ্য উৎপাদন করছেন। প্রতিটি পণ্য বাজারজাত করার আগে গবেষণা ও উন্নয়ন (আরঅ্যান্ডডি) কার্যক্রমের মাধ্যমে মান নিশ্চিত করার ওপর গুরুত্ব দেওয়া হয়।
তিনি আরও জানান, ২০১৯ ও ২০২২ সালে থাইল্যান্ড সফরের সময় সেখানে ড্রাই ফ্রুটস শিল্পের দ্রুত বিকাশ তাকে অনুপ্রাণিত করে। মাত্র কয়েক বছরের ব্যবধানে দেশটি কীভাবে এখাতে বড় বাজার তৈরি করেছে, তা দেখে তিনি উপলব্ধি করেন বাংলাদেশের অবহেলিত ও উদ্বৃত্ত ফল প্রক্রিয়াজাত করে দেশের অর্থনীতিতে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখা সম্ভব।
ড্রাই ফ্রুটস উদ্যোক্তা ইসমাইল খান শামীম, ছবি: জাগো নিউজ
ইসমাইল খান শামীম বলেন, থাইল্যান্ডের মতো শক্তিশালী বাজার গড়ে তুলতে হলে এসএমই খাত সম্পৃক্ত করতে হবে। একইসঙ্গে বড় কোম্পানিগুলো এসএমই উদ্যোক্তাদের কাছ থেকে পণ্য সংগ্রহ করে আন্তর্জাতিক বাজারে বিপণনের সুযোগ তৈরি করলে পুরো খাতই লাভবান হবে।
ফল প্রক্রিয়াজাতকরণ শিল্পের বাস্তব চ্যালেঞ্জ তুলে ধরে ইসমাইল খান শামীম বলেন, উন্নতমানের এক কেজি ড্রাই ম্যাঙ্গো উৎপাদনে ১০ থেকে ১২ কেজি আম প্রয়োজন হয়। অন্যদিকে থাইল্যান্ডের অনেক পণ্য তুলনামূলক কম খরচে উৎপাদিত হয়। এছাড়া চোরাই পথে বা শুল্ক ফাঁকি দিয়ে আসা বিদেশি পণ্যের সঙ্গে প্রতিযোগিতা করতে গিয়ে দেশীয় উদ্যোক্তারা বড় ধরনের অসুবিধায় পড়ছেন।
তিনি বলেন, এই শিল্প টেকসইভাবে এগিয়ে নিতে হলে রাষ্ট্রীয় পৃষ্ঠপোষকতা, কার্যকর নীতিগত সহায়তা এবং দীর্ঘমেয়াদি কর্মপরিকল্পনা প্রয়োজন। বিশেষ করে কাঁঠালসহ অন্যান্য দেশীয় ফলের প্রক্রিয়াজাতকরণে উৎসাহ ও বিনিয়োগ বাড়ানো গেলে কৃষক, উদ্যোক্তা এবং দেশের অর্থনীতি সবাই উপকৃত হবে।
জাগো নিউজ আয়োজিত ‘ফল প্রক্রিয়াজাতকরণ: সমস্যা ও সম্ভাবনা’ শীর্ষক গোলটেবিল বৈঠকে উপস্থিত অতিথিরা, ছবি: জাগো নিউজ
গোলটেবিল বৈঠকে আরও উপস্থিত ছিলেন ইউনিভার্সিটি অব গ্লোবাল ভিলেজের সাবেক উপাচার্য, গবেষক ও কৃষি অর্থনীতিবিদ ড. জাহাঙ্গীর আলম খান, বাংলাদেশ কৃষি গবেষণা ইনস্টিটিউটের পোস্ট হারভেস্ট টেকনোলজি বিভাগের প্রধান বৈজ্ঞানিক কর্মকর্তা ড. মো. গোলাম ফেরদৌস চৌধুরী, বছরব্যাপী ফল উৎপাদন প্রকল্পের সাবেক প্রকল্প পরিচালক ও ফল বিশেষজ্ঞ ড. মো. মেহেদী মাসুদ, কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের রপ্তানিযোগ্য আম উৎপাদন প্রকল্পের পরিচালক মোহাম্মদ আরিফুর রহমান, বিএসটিআইয়ের উপপরিচালক (খাদ্য ও কৃষি) এনামুল হক, প্রাণ গ্রুপের ব্যবস্থাপনা পরিচালক (এমডি) ইলিয়াছ মৃধা, হাসেম ফুডস লিমিটেডের ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো. আবুল হাসেম, বাংলাদেশ অ্যাগ্রো-প্রসেসরস অ্যাসোসিয়েশনের (বাপা) সাবেক সাধারণ সম্পাদক মো. ইকতাদুল হক, ক্যাবের ভাইস প্রেসিডেন্ট এস এম নাজের হোসাইন, কাজু অ্যান্ড কফি অ্যাগ্রোর নির্বাহী পরিচালক মো. মাহাতাব আলী ও নওগাঁর কৃষি উদ্যোক্তা সোহেল রানা।
ইএআর/এএমএ/এমএমএআর/এমএফএ








