সেসিল ব্রুনস্বিক ছিলেন বিশ শতকের প্রথম দিকের ফরাসি নারীবাদী কর্মী। তিনি নারীদের ভোটাধিকার আদায় আন্দোলনের অন্যতম নেতা ছিলেন। পাশাপাশি তিনি নারীদের সমান বেতন, শিক্ষার সুযোগ, কর্মসংস্থানের জন্যও আন্দোলন করেন। ফ্রান্সের জাতীয় শিক্ষাবিষয়ক উপমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন তিনি।
সেসিলের জন্ম ১৮৭৭ সালের ১৯ জুলাই। ১৯৩৬ সালে ফ্রান্সে লিওন ব্লুমের নেতৃত্বে ‘পপুলার ফ্রন্ট’ সরকার গঠনের পর সেসিলকে শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের আন্ডার-সেক্রেটারি হিসেবে নিয়োগ দেওয়া হয়। যখন সেসিল ব্রুনস্বিক সরকারের মন্ত্রী পদমর্যাদার দায়িত্ব সামলাচ্ছিলেন, তখনো ফ্রান্সে নারীদের ভোট দেওয়ার কোনো আইনগত অধিকার ছিল না। ফ্রান্সে নারীরা ভোটাধিকার পান ১৯৪৪ সালে। তিনি শিশু স্বাস্থ্য ও প্রসূতি কল্যাণেও অবদান রাখেন। তৎকালীন ফরাসি দেওয়ানি কোডে বিবাহিত নারীদের স্বাধীন কোনো সত্তা না দিয়ে আইনিভাবে ‘নাবালক’ হিসেবে গণ্য করা হতো। সেই বৈষম্যমূলক আইনি কাঠামো সংস্কারে তিনি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেন।
শিক্ষা মন্ত্রণালয়ে থাকাকালীন সেসিল স্কুল ফিডিং, বিশেষ চাহিদাসম্পন্ন শিশুদের শিক্ষা এবং স্যানিটেশন ব্যবস্থার উন্নয়নে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখেন। এ ছাড়া তিনি নারীদের জন্য সামাজিক কাজের প্রাতিষ্ঠানিক শিক্ষার জন্য প্রথম স্কুল প্রতিষ্ঠা করতে সাহায্য করেছিলেন। দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের সময় ফ্রান্স যখন নাৎসি জার্মানি দ্বারা আক্রান্ত ও শাসিত হচ্ছিল, তখন ইহুদি বংশোদ্ভূত হওয়ার কারণে সেসিল সংকটে পড়েন। নাৎসিদের হাত থেকে বাঁচতে তিনি ছদ্মনাম নিয়ে দক্ষিণ ফ্রান্সে আত্মগোপন করেন। আত্মগোপনে থাকা অবস্থায়ও তিনি গোপনে মেয়েদের একটি স্কুলে শিক্ষকতা করতেন এবং ফরাসি প্রতিরোধ আন্দোলনে যুক্ত ছিলেন।








