পাবনার সাঁথিয়ায় সাংবাদিক অধ্যক্ষ আব্দুদ দাইন সরকারকে (৬৮) লাঞ্ছিত করার অভিযোগ উঠেছে জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি) ও জাসাস নেতার বিরুদ্ধে। মঙ্গলবার (১৪ জুলাই) এনসিপির সাঁথিয়া উপজেলা শাখার আহ্বায়ক বকুল হোসেন ও তার ছোট ভাই উপজেলা জাসাসের সভাপতি মিজানুর রহমান ফুলের নেতৃত্বে তার ওপর হামলার ঘটনা ঘটে।
ভুক্তভোগী আব্দুদ দাইন সরকার সাঁথিয়া প্রেসক্লাবের সাবেক সভাপতি ও দৈনিক যুগান্তরের সাঁথিয়া প্রতিনিধি।
অভিযুক্ত এনসিপি নেতা বকুল ও তার ভাই জাসাস নেতা ফুল সাঁথিয়া উপজেলার পিপুলিয়া গ্রামের মোজাম্মেল হোসেন ওরফে মোজার ছেলে। আরেক অভিযুক্ত ঠান্টু খান মাহমুদপুর গ্রামের সিরাজ আলীর ছেলে।
দাইন সরকার জানান, মঙ্গলবার সাঁথিয়া প্রেসক্লাবের নির্বাচন অনুষ্ঠিত হচ্ছিল। নির্বাচনে ভোট দেওয়ার জন্য সকাল আনুমানিক ১০টার দিকে তিনি প্রেসক্লাবের সামনে উপস্থিত হন। এ সময় আগে থেকে সেখানে অবস্থান নেওয়া এনসিপি নেতা বকুল হোসেন, তার ভাই জাসাস নেতা মিজানুর রহমান ফুল, ঠান্ডু এবং তাদের সঙ্গে থাকা ৮ থেকে ১০ জন ব্যক্তি তার ওপর অতর্কিত হামলা চালান।
তিনি অভিযোগ করেন, হামলাকারীরা তাকে কিল-ঘুষি ও লাথি মারেন এবং তার পরনের জামা-গেঞ্জি ছিঁড়ে ফেলেন। পরে সহকর্মীরা ঘটনাস্থল থেকে তাকে উদ্ধার করে প্রাথমিক চিকিৎসার ব্যবস্থা করেন।
এ বিষয়ে অভিযুক্ত এনসিপি নেতা বকুল হোসেন বলেন, ৫ আগস্টের আগে আব্দুদ দাইন সরকার সাঁথিয়া থিয়েটারের সভাপতি ছিলেন। ওই সময় তার বিরুদ্ধে ৫০ হাজার টাকা আত্মসাতের অভিযোগ ছিল। ৫ আগস্টের পর মিজানুর রহমান ফুলসহ থিয়েটারের সদস্যরা ওই টাকা ফেরত চান। কিন্তু তিনি টাকা ফেরত না দিয়ে আত্মগোপনে ছিলেন। এছাড়া দাইন সরকার ও মিজানুর রহমান ফুলের মধ্যে একটি নারীঘটিত বিষয় নিয়েও বিরোধ ছিল। এসব বিষয় নিয়ে ফুল ও তার লোকজনের সঙ্গে দাইন সরকারের ধাক্কাধাক্কির ঘটনা ঘটে।
তিনি দাবি করেন, তিনি বরং পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে এনে বিশৃঙ্খলা ঠেকানোর চেষ্টা করেছেন।
সাঁথিয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আনিসুর রহমান ঘটনার সত্যতা স্বীকার করে বলেন, খবর পেয়ে তাৎক্ষণিক ঘটনাস্থলে পুলিশ পাঠানো হয়। অভিযোগ পেলে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
পাবনার পুলিশ সুপার মো. ছুফি উল্লাহ বলেন, ঘটনা শুনেছি। অভিযোগ পেলেই আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
আলমগীর হোসাইন নাবিল/এনএইচআর/এএসএম








