শিশুদের শরীরে এলার্জি বেড়েছে। ভালো চিকিৎসক (!) হিসেবে সুনাম শুনে হতদরিদ্র পরিবারের সদস্যরা তাদের শিশু ও নিজেরা নিয়ে যায় ওই চিকিৎসকের কাছে। ওই চিকিৎসক রোগীর শরীরে এলার্জির ইনজেকশন পুশ করে। ফলাফল ভয়াবহ, কিছুদিনের মধ্যেই ইনজেশন পুশকৃত স্থানগুলো শুকিয়ে গিয়ে পঙ্গুত্বের দিকে যায় ইনজেকশন নেওয়া নারী ও শিশুরা। অভিভাবকরা দ্রুত ঢাকাসহ বিভিন্ন স্থানে ওই শিশুদের নিয়ে গেলেও চিকিৎসকরা জানিয়েছেন চিকিৎসা সম্ভব নয়। ফলে ভয়ংকর ভবিষ্যৎ নিয়ে বিপাকে অভিভাবকরা বাধ্য হয়ে ইউএনওর কাছে লিখিত অভিযোগ করেন। ইউএনওর নির্দেশে গঠিত তদন্ত কমিটিও ঘটনার সত্যতা পেয়েছে। নির্মম এই ঘটনা ফরিদগঞ্জের গুপ্টি পূর্ব ইউনিয়নের ফকির বাজার এলাকার। কথিত চিকিৎসক রিয়াজুল হক, তার বাড়ি একই এলাকায়।

জানা যায়, ফকির বাজারের রিয়াজুল হক ঢাকার এক চিকিৎসকের সহকারী হিসেবে দীর্ঘদিন কাজ করে এলাকায় চিকিৎসক বনে যান। শুরু করেন চিকিৎসা। বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক হিসেবে স্থানীয়রা চিকিৎসা নিতে আসেন। এভাবেই রিয়াজুলের কাছে এলার্জির চিকিৎসা নিতে এসে প্রায় পঙ্গুত্বের শিকার হয়েছেন গুপ্টির শ্রীকালিয়ার গৃহবধূ রোকসানা বেগম, তার ১৮ মাস বয়সি শিশু আব্দুল আহাদ, ৭ম শ্রেণিতে পড়ুয়া শিশু আশ্রাফুল ইসলাম, মাদ্রাসায় পড়ুুয়া শিশু ইয়াছিনসহ বেশ কয়েকজন। অপচিকিৎসার শিকার গৃহবধূ রোকসানা বলেন, ৩ মাস আগে আমাদের এলার্জি জনিত সমস্যা দেখা দিয়েছিল। আমরা ফকির বাজারে গেলে রিয়াজুল হক আমাকে ও আমার ১৮ মাস বয়সি শিশু সন্তান আব্দুল আহাদকে দুটি করে ইনজেকশন করে ও ওষুধ সেবন করতে দেয়। কয়েক দিন পর হতে ইনজেকশন দেওয়া স্থান শুকিয়ে যেতে থাকে। পরে তার কাছে গেলে তিনি বলেন, ভিটামিন খেলে ঠিক হয়ে যাবে। এতেও আমরা সুস্থ না হওয়াতে বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকের কাছে নিয়ে যাই ঢাকায়, ডাক্তাররা বলেছেন-আমাদের হাতগুলো আর ঠিক নাও হতে পারে। খোঁজখবর নিয়ে দেখেছি রিয়াজুল প্রকৃত ডাক্তার নয়, তার ভুল চিকিৎসায় আমরা পঙ্গুত্বের পথে। একই অভিযোগ করেন শিশু আশ্রাফুল ইসলামের মা মোহছেনা বেগম, অপর শিশু ইয়াছিনের মা তাহমিনা বেগম ও আরেক এক শিশুর অভিভাবক হাসান। অভিযোগের বিষয়ে রিয়াজুলের সঙ্গে যোগাযোগ করলে তার মুঠো ফোন বন্ধ থাকায় বক্তব্য পাওয়া যায়নি। ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে ফরিদগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. আসাদুজ্জামান জুয়েল বলেন, প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে ইনফেকশন হয়ে ভুক্তভোগী শিশুদের হাতের রগ শুকিয়ে গেছে। মাংস সরে গেছে ওই স্থান থেকে। এ ব্যাপারে গঠিত তদন্ত কমিটি ইতিমধ্যেই ঘটনার সত্যতা পেয়েছেন। প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে। ইউএনও সেটু কুমার বড়ুয়া বলেন, অপচিকিৎসার বিষয়ে লিখিত অভিযোগ পেয়েছি। তদন্ত কমিটি ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছেন। কমিটির রিপোর্টের আলোকে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।