প্রবাস থেকে খালি হাতে ফেরা স্ত্রী ও দুই সন্তান নিয়ে স্বল্প আয় দিয়েই চলছিল জাহিদুর রহমান নামে এক অটোবাইক চালকের। কিন্তু তাড়াহুড়া করে নামতে গিয়ে এক গৃহবধূর ফেলে যাওয়া একটি ভ্যানেটি ব্যাগ তার জীবনের কাল হয়ে দাঁড়ালো। সাজানো চুরির মামলার আসামি হয়ে গত একমাস ধরে জেলের ঘানি টানছে সে। অন্যদিকে পরিবারের একমাত্র আয়ের উৎস বন্ধ হয়ে যাওয়ায় দুই সন্তান নিয়ে দিশেহারা জাহিদুর রহমানের স্ত্রী শারমিন আক্তার। ঘটনাটি চাঁদপুরের ফরিদগঞ্জের।

জানা গেছে, ২০২৬ সালের ঈদুল আজহার দুই দিন আগে অর্থাৎ ২৬ মে সন্ধ্যায় উপজেলার চরবড়ালি গ্রামের অটোবাইক চালক জাহিদুর রহমানের গাড়ি যোগে ফরিদগঞ্জ পৌর এলাকা থেকে পাইকপাড়া উত্তর ইউনিয়নের পালতালুক গ্রামের স্বামীর বাড়িতে যায় এক প্রবাসীর স্ত্রী রাবেয়া বেগম। কিন্তু গাড়ি থেকে নেমে যাওয়ার সময় ভ্যানেটি ব্যাগটি অটোবাইকে ফেলে যান। ব্যাগটির ভেতরে তার নগদ অর্থ ও মুঠোফোনও অন্যান্য জিনিস ছিল। কিছুক্ষণ পর তার ব্যাগটির কথা মনে পড়লে, দ্রুত তিনি রাস্তায় আসলেও ততক্ষণে অটোবাইকটি চলে গিয়েছে। একপর্যায়ে গাজীপুর এলাকার রাস্তার পাশের একটি বেকারির সিসি টিভি ফুটেজ সংগ্রহ করে অটোবাইকটির চালক ও বাইকটি চিহ্নিত করেন। এ ঘটনার কয়েক দিন পর অর্থাৎ ১ জুন দুপুরে রাবেয়া বেগম তার লোকজন নিয়ে অটোবাইক চালককে খোঁজ করার একপর্যায়ে বাসস্ট্যান্ড এলাকায় অটোবাইক চালককে দেখতে পান। তাকে জিজ্ঞাসা করলে তিনি তাৎক্ষণিক গাড়িতে ব্যাগ পাওয়ার কথা স্বীকার করেন এবং তার বাড়িতে রয়েছে বলে জানান। দ্রুত তাদের নিয়ে বাড়িতে গিয়ে ব্যাগ ও তার ভেতরে থাকা মালামাল বুঝিয়ে দেন। কিন্তু বাধ সাদে একটি স্বর্ণের চেইন নিয়ে। ওই গৃহবধূর দাবি ব্যাগে স্বর্ণের চেইন ছিল। কিন্তু অটোবাইক চালকের দাবি তিনি যা পেয়েছেন, সবই এখানে। একপর্যায়ে তাকে ধরে নিয়ে অটোসহ থানায় সোপর্দ করেন এবং ওই অটো চালকের বিরুদ্ধে চুরির মামলা দেন গৃহবধূ। ওই মামলায় নিরীহ ওই অটোবাইক চালক জাহিদ এখন পর্যন্ত জেলহাজতে রয়েছেন।

এব্যাপারে মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা ফরিদগঞ্জ থানার এসআই শফিকুল ইসলাম বলেন, চুরির মামলার ঘটনায় আসামিকে রিমান্ড শেষে আদালতে পাঠানো হয়েছে। তবে অভিযুক্ত জাহিদুর রহমানের বিরুদ্ধে পূর্বের কোন ধরনের অপরাধের সঙ্গে জড়িত রয়েছে বলে জানা যায়নি। মামলার তদন্ত চলছে।