ফরিদপুরের ভাঙ্গায় আধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করে প্রায় ৫ ঘণ্টা ধরে চলছে ১৬ গ্রামবাসীর সংঘর্ষ। এতে পুলিশ সদস্য, সাংবাদিক, রাজনৈতিক নেতাসহ অন্তত অর্ধশতাধিক ব্যক্তি আহত হয়েছেন। পাশাপাশি ঢাকা-বরিশাল মহাসড়কের ফরিদপুর-ভাঙ্গা অংশে যান চলাচল বন্ধ হয়ে পড়ছে। পুলিশ বলছে, মহাসড়কের দুই পাশে ৪ কিলোমিটারজুড়ে যানজটের সৃষ্টি হয়েছে।

আজ রোববার (২৮ জুন) সকাল ৮টা থেকে উপজেলার পুখুরিয়া বাসস্ট্যান্ড এলাকায় এই সংঘর্ষ শুরু হয়েছে। এতে হামিরদী ইউনিয়নের মহেশ্বরদী মৌজার ১১ গ্রাম ও মানিকদহ ইউনিয়নের ৪ গ্রামসহ ১৬টি গ্রামের বাসিন্দারা সংঘর্ষে অংশ নিয়েছেন বলে স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে কাজ করছে থানা-পুলিশসহ জেলার অতিরিক্ত পুলিশ।

জানা যায়, পুখুরিয়া বাসস্ট্যান্ড নিয়ন্ত্রণকে কেন্দ্র করে মানিকদহ ইউনিয়নের সুলতান মাতুব্বরের সমর্থক এবং হামিরদী ইউনিয়নের সিরু মোল্লার সমর্থকদের মধ্যে বিরোধ চলে আসছিল। তাঁর সূত্র ধরে আজ সকালে ঢাল-সড়কিসহ দেশীয় অস্ত্র নিয়ে ঢাকা-বরিশাল মহাসড়কে জড়ো হয় স্থানীয় লোকজন। যার এক পাশে অবস্থান নেয় মহেশ্বরদী মৌজার ১১ গ্রামের বাসিন্দারা ও অপর পাশে জড়ো হয় মানিকদহ ইউনিয়নের পুখুরিয়া, সদরদিসহ ৪ থেকে ৫ গ্রামের বাসিন্দারা। পরে তাঁদের মধ্যে শুরু হয় পাল্টাপাল্টি ধাওয়া। এই প্রতিবেদন লেখা পর্যন্ত দুপুর সাড়ে ১২টায় দফায় দফায় সংঘর্ষ চলছে।

এ সময় পুকুরিয়া বাসস্ট্যান্ডের দুই পাশে হাজারো গ্রামবাসী দেশীয় অস্ত্র নিয়ে সংঘর্ষে জড়িয়ে পড়েন। এই ঘটনায় পুলিশের সার্কেল কর্মকর্তা, ভাঙ্গা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি), একাধিক পুলিশ সদস্য, উপজেলা বিএনপির সভাপতি খন্দকার ইকবাল হোসেন সেলিম, সাংবাদিকসহ অন্তত অর্ধশতাধিক ব্যক্তি আহত হন।

এ ছাড়া স্থানীয় আরেকটি সূত্র জানায়, শনিবার (২৭ জুন) রাতে হামিরদী ইউনিয়নের মহেশ্বরদী মৌজায় স্থানীয়ভাবে মাদকবিরোধী সভা অনুষ্ঠিত হয়। পরে মাদক ব্যবসার আখ্যা দিয়ে ওই এলাকার সাবেক এক পুলিশ কর্মকর্তার বাড়িঘর ভাঙচুর করা হয়। এতে দুই পক্ষের মধ্যে আরও উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়লে এই সংঘর্ষ শুরু হয়।

এতে ঢাকা-বরিশাল মহাসড়কে যান চলাচল বন্ধ রয়েছে এবং ভোগান্তিতে পড়েছেন যাত্রীরা। ভাঙ্গা হাইওয়ে থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. হেলালুদ্দিন জানান, সকাল ৯টা থেকে গাড়ি চলাচল বন্ধ রয়েছে। এতে দুই পাশে ৪ কিলোমিটারজুড়ে যানজটের সৃষ্টি হয়েছে।

ভাঙ্গা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মিজানুর রহমান বলেন, পুকুরিয়া বাসস্ট্যান্ডের নিয়ন্ত্রণকে কেন্দ্র করে মানিকদহ ইউনিয়নের সুলতান মাতুব্বরের সমর্থক এবং হামিরদী ইউনিয়নের সিরু মোল্লার সমর্থকদের মধ্যে সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে একাধিক টিয়ার শেল নিক্ষেপ করে। তবে তাৎক্ষণিকভাবে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনা সম্ভব হয়নি।

মিজানুর রহমান আরও বলেন, অতিরিক্ত পুলিশ সদস্যের জন্য জেলা সদরকে অবহিত করা হয়েছে। অতিরিক্ত পুলিশ পৌঁছানোর পর পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনার চেষ্টা চলছে। বর্তমানে এলাকায় থমথমে পরিস্থিতি বিরাজ করছে। একই সঙ্গে মহাসড়কের দুই পাশে আটকা পড়া হাজারো যাত্রী চরম দুর্ভোগে পড়েছেন।