- বিজ্ঞাপন ছাড়া ক্রেতা পাওয়া অসম্ভব
- দেশের বাইরে চলে যাচ্ছে কোটি কোটি টাকা
- স্থানীয় পর্যায়ে ডিজিটাল বিপণনের বিকল্প ব্যবস্থা তৈরির দাবি
চাঁপাইনবাবগঞ্জে দিন দিন অনলাইনে আম বিক্রির প্রবণতা বাড়ছে। বর্তমানে জেলার ৩০ শতাংশেরও বেশি আম অনলাইন প্ল্যাটফর্মের মাধ্যমে দেশের বিভিন্ন স্থানে পৌঁছে যাচ্ছে। ঘরে বসে আম কেনার সুবিধা পাওয়ায় ক্রেতাদের আগ্রহও বাড়ছে।
অনলাইন আম উদ্যোক্তাদের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, ক্রেতাদের আকৃষ্ট করতে তারা আমবাগানে গিয়ে ভিডিও ধারণ ও প্রচারণামূলক কনটেন্ট তৈরি করেন। পরে এসব ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে বিজ্ঞাপন হিসেবে প্রচার করা হয়। ফেসবুকসহ বিভিন্ন প্ল্যাটফর্মে বিজ্ঞাপন দিতে ডলারে অর্থ পরিশোধ করতে হয়। এই অর্থ মোটেও অল্প নয়। এতে আমের দামের ওপরও প্রভাব পড়ছে। আর বিদেশে চলে যাচ্ছে শত শত কোটি টাকা।
‘আম বিক্রি করতে গিয়ে ডলার খরচের বোঝাতেই এখন আমরা বেশি চাপে পড়ছি। অনলাইনে বিক্রি করতে হলে বাধ্য হয়েই ফেসবুকসহ বিভিন্ন প্ল্যাটফর্মে বিজ্ঞাপন দিতে হয়, আর সেই বিজ্ঞাপনের খরচ ডলারে পরিশোধ করতে হয়। এতে প্রতিটি বিক্রিত আমের কেজিতে গড়ে আরও অন্তত ৩০ টাকা পর্যন্ত অতিরিক্ত খরচ যোগ হয়ে যাচ্ছে।’
উদ্যোক্তারা জানান, অনলাইনে আম বিক্রির পরিমাণ বাড়লেও বিজ্ঞাপন, প্যাকেজিং ও পরিবহন ব্যয়ের কারণে প্রত্যাশিত লাভ পাওয়া কঠিন হয়ে পড়ছে। বিশেষ করে দূরবর্তী জেলায় আম পাঠাতে কুরিয়ার চার্জ উল্লেখযোগ্য হারে বেড়ে যাওয়ায় ব্যবসায়ীদের অতিরিক্ত খরচ গুনতে হচ্ছে। এতে লোকসান গুনতে হচ্ছে চাষি ও ব্যবসায়ীদের।
আরও পড়ুন
চীনে ফল রপ্তানিতে থাইল্যান্ড-ভিয়েতনামের রাজত্ব, বাংলাদেশের বড় সুযোগ
অনলাইন বাজার তৈরি করতে হলে বিজ্ঞাপনের পেছনে উল্লেখযোগ্য পরিমাণ অর্থ ব্যয় করতে হয়। বিশেষ করে ফেসবুকসহ বিভিন্ন সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে বিজ্ঞাপন প্রচারের জন্য ডলারে মূল্য পরিশোধ করতে হয়।
সংশ্লিষ্টরা জানান, প্রথমে কোনো ব্যাংকের কার্ডে ডুয়েল কারেন্সি সুবিধা চালু করতে হয়। এরপর পাসপোর্টের বিপরীতে নির্ধারিত পরিমাণ বৈদেশিক মুদ্রা বা ডলার এন্ডোর্স করা হয়। ডুয়েল কারেন্সি সুবিধাসম্পন্ন এসব কার্ড ব্যবহার করে আন্তর্জাতিক লেনদেন করা যায়। পরে সেই কার্ডের মাধ্যমে ফেসবুকসহ বিভিন্ন ডিজিটাল প্ল্যাটফর্মে বিজ্ঞাপনের বিল পরিশোধ করা হয়। এসব কার্ডের মাধ্যমে একটি অর্ডার পেতে খরচ করতে হয় অন্তত ১ ডালার। বর্তমানে মার্কিন ডলারের বিনিময় মূল্য প্রায় ১২২ থেকে ১২৩ টাকা।
দীর্ঘ ৫ বছর ধরে অনলাইনে আমের ব্যবসা করে আসছেন কানসাট এলাকার আব্দুর রহিম। তিনি বলেন, আম বিক্রি করতে গিয়ে ডলার খরচের বোঝাতেই এখন আমরা বেশি চাপে পড়ছি। অনলাইনে বিক্রি করতে হলে বাধ্য হয়েই ফেসবুকসহ বিভিন্ন প্ল্যাটফর্মে বিজ্ঞাপন দিতে হয়, আর সেই বিজ্ঞাপনের খরচ ডলারে পরিশোধ করতে হয়। এতে প্রতিটি বিক্রিত আমের কেজিতে গড়ে আরও অন্তত ৩০ টাকা পর্যন্ত অতিরিক্ত খরচ যোগ হয়ে যাচ্ছে। ফলে যতটা লাভের আশা করি, তার বড় একটি অংশই বিজ্ঞাপনের খরচে চলে যাচ্ছে। বিজ্ঞাপন ছাড়া অনলাইনে ক্রেতার কাছে পৌঁছানো এখন প্রায় অসম্ভব।
‘অনলাইনে ক্রেতা পেতে প্রতিদিন ফেসবুকে ৫০ ডলারের বিজ্ঞাপন চালাতে হতো। বাংলাদেশি মুদ্রায় যার পরিমাণ প্রায় ৬ হাজার টাকা। এছাড়া অর্ডার ব্যবস্থাপনা, প্যাকেজিং ও অন্যান্য কাজে শ্রমিক বাবদ প্রতিদিন আরও প্রায় ২ হাজার টাকা ব্যয় হতো। অর্থাৎ শুধুমাত্র বিজ্ঞাপন ও শ্রমিক খাতেই প্রতিদিন তার খরচ দাঁড়াত প্রায় ৮ হাজার টাকা।’
রানিহাটি এলাকার শাহীন আলীও অনলাইনে আম বিক্রি করেন। তিনি বলেন, ‘আমের ব্যবসা এখন পুরোপুরি ফেসবুককেন্দ্রিক হয়ে গেছে। এখানে টিকে থাকতে হলে বাধ্য হয়েই ডলার খরচ করে বিজ্ঞাপন দিতে হয়। বিজ্ঞাপন দিলে তবেই অর্ডার আসে, আর বিজ্ঞাপন না দিলে কোনো অর্ডারই আসে না। তাই প্রতিদিনই বিজ্ঞাপনের পেছনে টাকা খরচ করতে হচ্ছে। কিন্তু সমস্যা হলো, বিজ্ঞাপনের রেট অনেক বেশি এবং সময়ের সঙ্গে সঙ্গে এই খরচ আরও বাড়ছে। ফলে যে পরিমাণ আম বিক্রি করি, তার একটা বড় অংশই বিজ্ঞাপনের খরচে চলে যাচ্ছে। এতে ব্যবসার লাভ কমে যাচ্ছে, অনেক সময় লোকসানের মুখেও পড়তে হচ্ছে। এখন আর কোনোভাবে এই খরচ কুলিয়ে ওঠা সম্ভব হচ্ছে না, ব্যবসাটা দিন দিন কঠিন হয়ে যাচ্ছে।’
আরও পড়ুন
যেভাবে এলো বেদানা লিচু
আতিকুর রহমান স্বজন নামে আরও এক উদ্যোক্তা অনলাইনে আম বিক্রি করে বড় ধরনের লোকসানের মুখে পড়েন। পরে ব্যবসা গুটিয়ে নিতে বাধ্য হয়েছেন। চলতি মৌসুমে প্রায় ৫ লাখ টাকা ক্ষতির পর তিনি অনলাইনে আম বিক্রির কার্যক্রম আপাতত বন্ধ রেখেছেন।
তিনি জানান, অনলাইনে ক্রেতা পেতে প্রতিদিন ফেসবুকে ৫০ ডলারের বিজ্ঞাপন চালাতে হতো। বাংলাদেশি মুদ্রায় যার পরিমাণ প্রায় ৬ হাজার টাকা। এছাড়া অর্ডার ব্যবস্থাপনা, প্যাকেজিং ও অন্যান্য কাজে শ্রমিক বাবদ প্রতিদিন আরও প্রায় ২ হাজার টাকা ব্যয় হতো। অর্থাৎ শুধুমাত্র বিজ্ঞাপন ও শ্রমিক খাতেই প্রতিদিন তার খরচ দাঁড়াত প্রায় ৮ হাজার টাকা।

আতিকুর রহমান স্বজন বলেন, এত টাকা খরচ করার পরও প্রতিদিন বিক্রি থেকে আয় হতো গড়ে মাত্র ৫ হাজার টাকার মতো। ফলে প্রতিদিন ৩ হাজার টাকারও বেশি লোকসান গুনতে হয়েছে। শুরুতে আশা ছিল, মৌসুমের শেষ দিকে হয়ত লোকসান কাটিয়ে ওঠা যাবে। কিন্তু দিন যত গেছে, ক্ষতির পরিমাণ তত বেড়েছে। শেষ পর্যন্ত প্রায় ৫ লাখ টাকা লোকসান হওয়ার পর ব্যবসা বন্ধ করে দিতে বাধ্য হয়েছি।
তিনি আরও বলেন, অনলাইনে আম বিক্রি করতে গিয়ে সবচেয়ে বড় সমস্যায় পড়তে হয়েছে বিজ্ঞাপন ব্যয় নিয়ে। ক্রেতারা মনে করেন আমরা বেশি দামে আম বিক্রি করছি। কিন্তু বাস্তবে চাষিদের কাছ থেকে বেশি কমে আম কিনতে পারি না। আবার কম দামে বিক্রি করলেও বিজ্ঞাপন, শ্রমিক, প্যাকেজিং ও পরিবহন খরচ যোগ করে লাভ করা সম্ভব হয় না। এক অর্থে মধ্যস্বত্বভোগীদের মতো ফেসবুকও বিজ্ঞাপনের মাধ্যমে বড় একটি অংশ নিয়ে নিচ্ছে। বিষয়টি বুঝে উঠতে উঠতেই অনেক ক্ষতি হয়ে গেছে।
ঢাকার উত্তরা থেকে কানসাট আমবাজার ঘুরতে এসেছেন নয়ন আলি। বাজার ঘুরে আমের দাম দেখে তিনি বিস্ময় প্রকাশ করেন। তিনি বলেন, ‘অনলাইনে বিভিন্ন পেজ ও প্ল্যাটফর্মে প্রতি কেজি আম ১৫০ টাকা বা তারও বেশি দামে বিক্রি হতে দেখেছি। কিন্তু কানসাট বাজারে এসে দেখলাম বাস্তব চিত্র ভিন্ন। এখানে আমের দাম তুলনামূলক অনেক কম। অথচ সেই সুবিধা পাচ্ছেন না চাষিরা।’
আরও পড়ুন
পাহাড়ে বাড়ছে ফলের উৎপাদন, চট্টগ্রাম থেকে রপ্তানিতে প্রতিবন্ধকতা
তিনি আরও বলেন, ‘অনলাইনে যারা আমের ব্যবসা করছেন, তারা তুলনামূলক বেশি দামে আম বিক্রি করছেন। এতে একদিকে ক্রেতারা বেশি দাম দিচ্ছেন, অন্যদিকে চাষিরাও ন্যায্যমূল্য পাচ্ছেন না। মাঝখানে বিভিন্ন খরচ ও মধ্যবর্তী প্রক্রিয়ার কারণে প্রকৃত লাভের বড় অংশ চলে যাচ্ছে অন্য খাতে। ফলে উৎপাদক ও ভোক্তা দুই পক্ষই ক্ষতির শিকার হচ্ছেন।’
তার মতে, চাষিদের কাছ থেকে সরাসরি ক্রেতাদের কাছে আম পৌঁছানোর ব্যবস্থা আরও সহজ ও কার্যকর করা গেলে কৃষক ন্যায্যমূল্য পাবেন এবং সাধারণ মানুষও কম দামে ভালো মানের আম কিনতে পারবেন।
‘বিজ্ঞাপন, প্যাকেজিং, শ্রমিক ও পরিবহন ব্যয় মেটাতে গিয়ে ব্যবসায়ীরা বাধ্য হয়ে আমের বিক্রয়মূল্য বাড়িয়ে দেন। ফলে ক্রেতারা মনে করেন অনলাইনে অতিরিক্ত দামে আম বিক্রি করা হচ্ছে। কিন্তু সেই বাড়তি দাম থেকে চাষিরা কোনো বাড়তি সুবিধা পান না। বরং অনেক সময় উৎপাদন খরচের তুলনায় কম দামে আম বিক্রি করতে বাধ্য হন।’
শিবগঞ্জ উপজেলা ম্যাংগো ফাউন্ডেশনের সদস্য সচিব আহসান হাবিব বলেন, চাঁপাইনবাবগঞ্জে বর্তমানে অন্তত ২০০ জন অনলাইনভিত্তিক আম ব্যবসায়ী সক্রিয় রয়েছেন। তাদের মধ্যে অনেকেই ক্রেতা আকর্ষণ করতে প্রতিদিন ১০০ ডলার বা তারও বেশি অর্থ ফেসবুকসহ বিভিন্ন সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে বিজ্ঞাপন বাবদ ব্যয় করেন। বাংলাদেশি মুদ্রায় যার পরিমাণ প্রায় ১২ হাজার টাকার বেশি। এছাড়া প্যাকেজিং, শ্রমিক, পরিবহন ও অন্যান্য ব্যবস্থাপনা খরচতো রয়েছেই। এসব অতিরিক্ত ব্যয়ের প্রভাব শেষ পর্যন্ত আমের বাজার এবং চাষিদের ওপর গিয়ে পড়ছে।
তিনি বলেন, অনেকে মনে করেন অনলাইনে বেশি দামে আম বিক্রি করে ব্যবসায়ীরা বড় অঙ্কের লাভ করছেন। কিন্তু বাস্তবতা ভিন্ন। অনলাইন ব্যবসা পরিচালনা করতে গিয়ে বিপুল পরিমাণ অর্থ বিজ্ঞাপন খাতে ব্যয় করতে হচ্ছে। একজন ব্যবসায়ী যদি প্রতিদিন ১০০ ডলার বিজ্ঞাপনে ব্যয় করেন, তাহলে জেলার শত শত ব্যবসায়ীর সম্মিলিত ব্যয়ের পরিমাণ দাঁড়ায় কয়েক কোটি টাকায়। এই অর্থের বড় একটি অংশ বিদেশি প্রযুক্তি কোম্পানির কাছে চলে যাচ্ছে।
আহসান হাবিব আরও বলেন, বিজ্ঞাপন, প্যাকেজিং, শ্রমিক ও পরিবহন ব্যয় মেটাতে গিয়ে ব্যবসায়ীরা বাধ্য হয়ে আমের বিক্রয়মূল্য বাড়িয়ে দেন। ফলে ক্রেতারা মনে করেন অনলাইনে অতিরিক্ত দামে আম বিক্রি করা হচ্ছে। কিন্তু সেই বাড়তি দাম থেকে চাষিরা কোনো বাড়তি সুবিধা পান না। বরং অনেক সময় উৎপাদন খরচের তুলনায় কম দামে আম বিক্রি করতে বাধ্য হন। অর্থাৎ উৎপাদক ও ভোক্তা দুই পক্ষই ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছেন, আর মাঝখানে বিপুল অর্থ বিজ্ঞাপন ব্যয় হিসেবে দেশের বাইরে চলে যাচ্ছে।
আরও পড়ুন
দেশের মাটিতে চাষ হওয়া বিদেশি ফল রপ্তানির হাতছানি
তিনি বলেন, বর্তমানে অনলাইন বিপণন আম শিল্পের জন্য গুরুত্বপূর্ণ হলেও এর সঙ্গে যুক্ত ব্যয় ও অর্থের বহির্গমন নিয়ে এখনই ভাবতে হবে। স্থানীয় পর্যায়ে ডিজিটাল বিপণনের বিকল্প ব্যবস্থা তৈরি, সরাসরি ক্রেতা-চাষি সংযোগ বৃদ্ধি এবং সরকারি পৃষ্ঠপোষকতা না থাকলে ভবিষ্যতে ছোট উদ্যোক্তাদের টিকে থাকা আরও কঠিন হয়ে পড়বে। বিষয়টি এখনই গুরুত্ব দিয়ে দেখা প্রয়োজন, কারণ প্রতিদিন অজান্তেই কোটি কোটি টাকা বিজ্ঞাপন ব্যয়ের মাধ্যমে দেশের বাইরে চলে যাচ্ছে, যার প্রভাব সরাসরি আমের বাজার ও কৃষকদের আয়ের ওপর পড়ছে।
চাঁপাইনবাবগঞ্জ জেলা বিপণন কর্মকর্তা মো. মোমিনুল হক বলেন, জেলার কৃষিপণ্য বিশেষ করে আম বিপণন ব্যবস্থাকে আরও সহজ ও কার্যকর করতে নানা উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। প্রান্তিক চাষিদের সরাসরি বাজারের সঙ্গে যুক্ত করার লক্ষ্যে বিভিন্ন ইউনিয়ন পর্যায়ে সচেতনতামূলক কার্যক্রম ও প্রশিক্ষণ কর্মসূচি পরিচালনা করা হচ্ছে।
তিনি বলেন, আমরা বিভিন্ন ইউনিয়নে কৃষি ও বিপণন বিষয়ক প্রশিক্ষণ ও সচেতনতামূলক কার্যক্রম পরিচালনা করছি। পাশাপাশি প্রান্তিক চাষিদের সঙ্গে নিয়মিতভাবে বৈঠক করা হচ্ছে, যাতে তারা আধুনিক বিপণন ব্যবস্থার সঙ্গে যুক্ত হতে পারেন।
মোমিনুল হক আরও বলেন, স্থানীয় চাষিদের বাজার সম্প্রসারণের জন্য সুপারশপসহ বিভিন্ন ব্যবসায়িক প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে তাদের সরাসরি সংযোগ স্থাপনের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। এতে মধ্যস্বত্বভোগীদের প্রভাব কমবে এবং চাষিদের ন্যায্যমূল্য পাওয়ার সুযোগ বাড়বে।
তিনি আরও উল্লেখ করেন, আমরা চাই চাষিরা যেন সরাসরি বড় বাজার ও প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে যুক্ত হতে পারেন। এজন্য বিভিন্ন সুপারশপ ও ব্যবসায়ীদের সঙ্গে চাষিদের যোগাযোগ করিয়ে দেওয়া হচ্ছে। এর ফলে বিপণন ব্যবস্থায় স্বচ্ছতা আসবে এবং কৃষকরা তাদের উৎপাদিত পণ্যের ভালো মূল্য পাবেন।
চাঁপাইনবাবগঞ্জ আঞ্চলিক উদ্যানতত্ত্ব গবেষণা কেন্দ্রের ভারপ্রাপ্ত মুখ্য বৈজ্ঞানিক কর্মকর্তা ড. মো. শরফ উদ্দিন বলেন, আমের রপ্তানি বাড়ানো গেলে বাজারে মধ্যস্বত্বভোগীদের দৌরাত্ম্য অনেকটাই কমে আসবে। যদি উৎপাদন পর্যায় থেকেই রপ্তানিযোগ্য মান নিশ্চিত করা যায়, তাহলে কৃষক সরাসরি আন্তর্জাতিক বাজারের সঙ্গে যুক্ত হওয়ার সুযোগ পাবেন, ফলে স্থানীয় বাজারে অতিরিক্ত চাপ ও মধ্যস্বত্বভোগীদের প্রভাব কমে যাবে।
তিনি বলেন, আমাদের প্রথম লক্ষ্য হলো উত্তম কৃষি চর্চা অনুসরণ করে মানসম্মত ও রপ্তানিযোগ্য আম উৎপাদন নিশ্চিত করা। যদি আমরা উৎপাদনের শুরু থেকেই সঠিক মান বজায় রাখতে পারি, তাহলে আন্তর্জাতিক বাজারে চাঁপাইনবাবগঞ্জের আমের চাহিদা আরও বাড়বে।
ড. শরফ উদ্দিন আরও বলেন, বর্তমানে গবেষণা কেন্দ্র থেকে এমনভাবে কাজ করা হচ্ছে যাতে ভবিষ্যতে শতভাগ আম রপ্তানিযোগ্য মানে উৎপাদন করা সম্ভব হয়। এতে একদিকে কৃষকরা ন্যায্যমূল্য পাবেন, অন্যদিকে দেশের আম শিল্প বৈদেশিক মুদ্রা আয়ের নতুন সম্ভাবনা তৈরি করবে।
এফএ/জেআইএম








