শিক্ষামন্ত্রী আ ন ম এহছানুল হক মিলনকে ঘিরে ছড়িয়ে পড়া একটি ফোনালাপের জেরে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে নতুন করে আলোচনায় এসেছে ‘ব্রয়লার চিকেন পার্টি’ নামে একটি ফেসবুক পেজ। এইচএসসি পরীক্ষা নিয়ে শিক্ষার্থীদের চলমান আন্দোলনের মধ্যেই চালু হওয়া পেজটি থেকে দিনভর আন্দোলনের খবর, ছবি ও ভিডিও প্রকাশ করা হচ্ছে।

ব্যক্তিগত ব্লগ ক্যাটাগরিতে পেজটি খোলা হয়েছে। খুব দ্রুতই এর অনুসারীর সংখ্যা বাড়ছে। পেজ খোলার পর মাত্র ১৯ ঘণ্টার মধ্যে এর অনুসারীর সংখ্যা ১৫ হাজার ছাড়িয়ে যায়। পেজটির বায়োতে লেখা হয়েছে, ‘আমরা অপমানিত হইনি, জাগ্রত হয়েছি।’

আজ মঙ্গলবার সারা দিন এইচএসসি পরীক্ষার্থীদের আন্দোলনের বিভিন্ন ছবি, ভিডিও ও আপডেট প্রকাশ করা হয় পেজটি থেকে।

এ দিকে, রাজধানীর উত্তরা, ঢাকা শিক্ষা বোর্ড, সায়েন্স ল্যাবসহ বিভিন্ন এলাকায় আন্দোলনরত শিক্ষার্থীদের মুখে শোনা গেছে ‘তুমি কে, আমি কে–ফার্মের মুরগি, ফার্মের...’ এবং ‘কে বলেছে, কে বলেছে–শিক্ষামন্ত্রী, শিক্ষা...’—এমন স্লোগান।

মঙ্গলবার সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে একটি অডিও ক্লিপ ছড়িয়ে পড়ে। সেখানে একজন পুরুষকে এক নারীর সঙ্গে ফোনে কথা বলতে শোনা যায়। কথোপকথনের একপর্যায়ে ওই পুরুষ বলেন, ‘এরা (এইচএসসি পরীক্ষার্থী) তো ফার্মের মুরগি...কিন্তু মাথায় বৃষ্টি পড়লেই জ্বর আসে...।’

পরে তিনি পরীক্ষা, বৃষ্টি এবং আবহাওয়ার পূর্বাভাস নিয়েও কথা বলেন। আন্দোলনরত শিক্ষার্থীদের অভিযোগ, অডিওতে শোনা পুরুষ কণ্ঠটি শিক্ষামন্ত্রী আ ন ম এহছানুল হক মিলনের।

এ প্রসঙ্গে জাতীয় সংসদে দেওয়া বক্তব্যে শিক্ষামন্ত্রী বলেন, ‘আমার ব্যক্তিগত কোনো মন্তব্য নিয়ে অনেকেই আপত্তি করেছেন। এ ব্যাপারে আমি বলতে চাই, আমি উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে কাউকে কিছু বলি নাই। যদি কেউ কষ্ট পেয়ে থাকে সিম্পলি দুঃখপ্রকাশ করছি।’

‘ব্রয়লার চিকেন পার্টি’ পেজটির একটি পোস্টে শিক্ষামন্ত্রীকে উদ্দেশ করে লেখা হয়েছে, “জনাব মিলন সাহেব, এই ‘ফার্মের মুরগীরা’ রাস্তায় না নামলে আপনার মতো ওয়াটারমিলনের আজ মন্ত্রী হওয়া হতো না। আপনি আপনার ওই চেয়ারের সম্মানটুকু ধরে রাখতে টোটালি ব্যর্থ। তাই হাঙ্কিপাঙ্কি বাদ দিয়ে সসম্মানে গদি থেকে নেমে যান।”

এর আগে গত মে মাসে ভারতের প্রধান বিচারপতির এক বিতর্কিত মন্তব্যের প্রতিবাদে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ‘ককরোচ জনতা পার্টি’ নামে পেজ খোলা হয়। অল্প সময়েই সেটি ব্যাপক জনপ্রিয়তা পায়।