বগুড়া শহীদ জিয়াউর রহমান মেডিকেল কলেজ (শজিমেক) হাসপাতালের প্রধান সহকারী পদে পদায়নকে কেন্দ্র করে পরিচালকের ফরোয়ার্ডিং চিঠি ব্যবহার করে আবেদনপত্র পরিবর্তনের অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় গঠিত তদন্ত কমিটি প্রতারণার প্রমাণ পেলেও অভিযুক্ত উচ্চমান সহকারী শাহীন ইসলামের বিরুদ্ধে এখনো চূড়ান্ত বিভাগীয় ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি বলে অভিযোগ উঠেছে। অভিযোগ সূত্রে জানা গেছে, উচ্চমান সহকারী শাহীন ইসলাম জেলার যে কোনো স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে শূন্য থাকা প্রধান সহকারী পদে পদায়নের জন্য আবেদন করেছিলেন। হাসপাতালের পরিচালক সেই আবেদন ফরোয়ার্ড করে ডিসপ্যাচ শাখার মাধ্যমে স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের মহাপরিচালকের কাছে পাঠানোর নির্দেশ দেন। তবে অভিযোগ রয়েছে, পরিচালকের স্বাক্ষরযুক্ত ফরোয়ার্ডিং চিঠি অপরিবর্তিত রেখে মূল আবেদনপত্র সরিয়ে একই প্রতিষ্ঠানের প্রধান সহকারী পদে পদায়ন চেয়ে নতুন আবেদন সংযুক্ত করা হয়। ওই আবেদনের সঙ্গে কয়েকজন রাজনৈতিক ব্যক্তির সুপারিশপত্রও যুক্ত করা হয়। এর মাধ্যমে স্বাস্থ্য অধিদপ্তরকে বিভ্রান্ত করে পদায়নের আদেশ নেওয়া হয়েছে বলে অভিযোগকারীদের দাবি। এ ঘটনায় হাসপাতালের বর্তমান প্রধান সহকারী এস এম কামরুজ্জামান ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন বলে সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন। তাদের দাবি, তার বিরুদ্ধে কোনো বিভাগীয় মামলা, শাস্তি বা অসদাচরণের অভিযোগ নেই। দীর্ঘদিন ধরে তিনি সুনামের সঙ্গে দায়িত্ব পালন করে এলেও নিয়মবহির্ভূতভাবে তাকে সরিয়ে অন্যকে একই পদে পদায়নের উদ্যোগ প্রশাসনিক বিধিবিধানের পরিপন্থি। এ নিয়ে অভিযোগ পাওয়ার পর হাসপাতালের পরিচালক তিন সদস্যের তদন্ত কমিটি গঠন করেন। তদন্ত শেষে গত ২১ মে জমা দেওয়া প্রতিবেদনে প্রতারণার মাধ্যমে পদায়নের আদেশ নেওয়ার বিষয়টি উল্লেখ করা হয়। পরে স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের মহাপরিচালকের কাছে পদায়নের আদেশ বাতিল, বর্তমান প্রধান সহকারীকে স্বপদে বহাল রাখা এবং অভিযুক্ত কর্মচারীর বিরুদ্ধে বিভাগীয় ব্যবস্থা নেওয়ার সুপারিশ করে তিনটি পৃথক পত্র পাঠানো হয়। অভিযোগ রয়েছে, অভিযুক্ত শাহীন ইসলাম অতীতে বঙ্গবন্ধু পরিষদ শজিমেক শাখার সক্রিয় সদস্য ছিলেন এবং আওয়ামী লীগ সরকারের সময় বিভিন্ন কর্মসূচিতে নেতৃত্ব দিয়েছেন। বর্তমানে তিনি বিএনপির বিভিন্ন নেতার আত্মীয় পরিচয় দিচ্ছেন বলেও অভিযোগ উঠেছে। এ বিষয়ে বক্তব্য জানতে শাহীন ইসলামের সঙ্গে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি সাড়া দেননি। তবে তদন্ত কমিটির কাছে দেওয়া লিখিত বক্তব্যে তিনি ফরোয়ার্ডিং সংক্রান্ত অনিয়মের কথা স্বীকার করে ক্ষমা প্রার্থনা করেছেন বলে জানা গেছে। শজিমেক হাসপাতালের উপপরিচালক ডা. মনজুর-এ মোরশেদ বলেন, তদন্ত করে বিধি অনুযায়ী প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।