দৌলতদিয়া ফেরিঘাটের অ্যাপ্রোচ সড়কে রডের পরিবর্তে বাঁশ ব্যবহারের ব্যাখ্যা দিয়েছেন নৌপরিবহণ মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী রাজিব আহসান। তিনি বলেন, ফেরিঘাটে সাধারণত নদীভাঙন হয়ে থাকে। তাই রড দিয়ে সেখানে কোনো কাজ হয় না। তাছাড়া বাঁশ দিয়ে কাজ করলে কারিগরি কোনো সমস্যাও হয় না। বহু বছর ধরে এভাবেই হয়ে আসছে। দৌলতদিয়া ফেরিঘাটের অ্যাপ্রোচ সড়ক নির্মাণে রডের পরিবর্তে বাঁশের ব্যবহার নিয়ে গণমাধ্যমে প্রচারিত একটি সংবাদ সরকারের দৃষ্টি আকর্ষণ করেছে। প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান প্রকৃত ঘটনা জানতে নৌপ্রতিমন্ত্রীকে ডেকেছিলেন। প্রতিমন্ত্রী তার নির্দেশেই বুধবার বিকালে ফেরিঘাট পরিদর্শনে এসেছেন। বিআইডব্লিউটিএ’র প্রকৌশল বিভাগে খোঁজ নিয়ে জেনেছেন, ফেরিঘাটে যে অ্যাপ্রোচ সড়কগুলো নির্মাণ করা হয় সেগুলো বাঁশ দিয়েই করা হয়। ১৯৬৩ সাল থেকে এভাবেই দেশের ফেরিঘাটের অ্যাপ্রোচ সড়কগুলো নির্মিত হয়ে আসছে। প্রতিমন্ত্রী বলেন, আমি কাজের শিডিউল সংগ্রহ করেছি। শিডিউলে বাঁশের ব্যবহারের কথাই বলা রয়েছে। ফেরিঘাটে সাধারণত নদীভাঙন হয়ে থাকে। তাই রড দিয়ে সেখানে কোনো কাজ হয় না। তাছাড়া বাঁশ দিয়ে কাজ করলে কারিগরি কোনো সমস্যাও হয় না। বহু বছর ধরে এভাবেই হয়ে আসছে। হঠাৎ করে এ ধরনের একটি সংবাদে সরকার বিব্রত হয়েছে।
প্রতিমন্ত্রী সাংবাদিকদের উদ্দেশে বলেন, আশা করছি আপনারা ভবিষ্যতে আরও খোঁজখবর নিয়ে দায়িত্বশীলতার সঙ্গে সংবাদ প্রকাশ করবেন।
এ সময় কয়েকজন সাংবাদিক বলেন, বিআইডব্লিউটিএ দৌলতদিয়া ঘাটে কী কাজ করছে সে সম্পর্কে গণমাধ্যম কর্মীদের অবহিত করা হয় না। ফোন দিয়েও দায়িত্বশীল কোনো কর্মকর্তাকে পাওয়া যায় না। কাজের বিস্তারিত তুলে ধরে কোনো সাইনবোর্ডও টানানো হয় না।
এর জবাবে প্রতিমন্ত্রী বলেন, ভুল বোঝাবুঝি এড়াতে আগামীতে এখানে যে কোনো কাজের ক্ষেত্রেই বিস্তারিত উল্লেখ করে সাইনবোর্ড টানানো থাকবে।
প্রতিমন্ত্রী আরও বলেন, দৌলতদিয়া ঘাটে সাম্প্রতিক সময়ে দুটি বাসডুবির ঘটনার পর এখানে যাত্রীদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে আমরা বিভিন্ন পদক্ষেপ গ্রহণ করেছি। এর মধ্যে ফেরিতে যত্রতত্র যাত্রীবাহী বাস ওঠানামা নিয়ন্ত্রণ করতে প্রতিটি ফেরিঘাটে হাইড্রোলিক বেরিয়ার, সিসি ক্যামেরা স্থাপনসহ বিভিন্ন কাজ চলমান রয়েছে। ঘাট পরিদর্শনকালে প্রতিমন্ত্রীর সঙ্গে ছিলেন বিআইডব্লিউটিসির পরিচালক (বাণিজ্য) মো. আশিকুজ্জামান, আরিচা অঞ্চলের ডিজিএম মো. সালাম হোসেন, পরিচালক (কারিগরি) হাসেমুর রহমান, বিআইডব্লিউটিএ’র আরিচা অঞ্চলের নির্বাহী প্রকৌশলী রবিউল ইসলাম এবং বিআইডব্লিউটিসি’র এমপ্লয়িজ ইউনিয়নের কেন্দ্রীয় সাধারণ সম্পাদক মো. আলাউদ্দিন।








