প্রাথমিক বৃত্তি পরীক্ষার ফল প্রকাশের কথা ছিল আজ বৃহস্পতিবার (৯ জুলাই)। কারিগরি ত্রুটির কারণে এ ফল প্রকাশ করা সম্ভব হয়নি। তবে ফেসবুকসহ বিভিন্ন সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে বৃত্তি পরীক্ষার ফলাফলের খণ্ডিত অংশ ছড়িয়ে পড়েছে। অনেকে এ ফল শেয়ার করে নিজের ছাত্র-ছাত্রী কিংবা সন্তানদের শুভেচ্ছাও জানিয়েছেন। কিন্তু এই ফল সঠিক নাকি ভুয়া, তা নিয়ে বিভ্রান্তি দেখা দিয়েছে।

নিজাম উদ্দিন জুয়েল নামের এক সহকারী শিক্ষক তার কর্মরত বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের ফলাফল ফেসবুকে প্রকাশ করেন। পোস্টের ক্যাপশনে তিনি লেখেন, ‘আলহামদুলিল্লাহ। শিক্ষকতা পেশায় সবচেয়ে বড় প্রাপ্তি! বড়কান্দা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় থেকে প্রথমবারের মতো পাঁচজন শিক্ষার্থী বৃত্তি পেয়েছে।’

ফলাফলের একটি পৃষ্ঠা শেয়ার করে ফেসবুকে পোস্ট দেন অভিভাবক কামরুন নাহার কেয়া। তিনি লেখেন, ‘আলহামদুলিল্লাহ। আমার ভাগনে ট্যালেন্টপুলে বৃত্তি পেয়েছে।’

আরও পড়ুন

প্রকাশের আগেই প্রাথমিক বৃত্তির ফল ‘ফাঁস’, বিভ্রান্তিতে অভিভাবকরা

তবে বিষয়টি নিয়ে অধিদপ্তরের মহাপরিচালক ও সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলেও তারা গণমাধ্যমে কোনো মন্তব্য করতে রাজি হননি।

প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তরের সিস্টেম অ্যানালিস্ট দিলীপ কুমার সরকার জাগো নিউজকে বলেন, ‘আজ বৃত্তি পরীক্ষার ফলাফল প্রকাশ করা হয়নি। কারা কোন ফল শেয়ার করছেন, তা আমাদের দেখার বিষয় নয়। আমরা আগামী সপ্তাহের শুরুতে ফলাফল প্রকাশ করবো।’jagonews24.com

তবে অধিদপ্তরের এক কর্মকর্তা নাম প্রকাশ না করার শর্তে বিকেলে জাগো নিউজকে জানান, দুপুরের আগে কয়েক মিনিটের জন্য ফলাফল ওয়েবসাইটে প্রকাশ করা হয়েছিল। তখন জেলা ও উপজেলা শিক্ষা কর্মকর্তারা তা দেখতে ও ডাউনলোড করতে সক্ষম হন। পরে নির্দেশনা দেওয়ায় তারা তা প্রকাশ করেননি। তবে ব্যক্তিগতভাবে কেউ কেউ অভিভাবক ও শিক্ষকদের কাছে তা শেয়ার করে থাকতে পারেন।

আরও পড়ুন

বই ছাপায় সিন্ডিকেট / মুদ্রণ সমিতি ভেঙে দিতে পারি, তবে অবৈধ হস্তক্ষেপ করবো না: শিক্ষামন্ত্রী

ফল প্রকাশ না হলেও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ফল ছড়িয়ে পড়ায় বিভ্রান্তিতে পড়েছেন অভিভাবকরা। এ ফল সঠিক কি না— এমন প্রশ্নও উঠছে। এ বিষয়ে ওই কর্মকর্তার ভাষ্য, ‘এটি আনুষ্ঠানিক ফল নয়। তবে ফল যে ভুল, সেটাও বলা সম্ভব নয়। যারা আজ ফল পেয়ে গেছেন, তারা রোববার প্রকাশিত ফলের সঙ্গে মিলিয়ে দেখার পরই নিশ্চিত হবেন।’

গত ১৫ এপ্রিল বাংলা বিষয়ের পরীক্ষার মাধ্যমে প্রাথমিক বৃত্তি পরীক্ষা শুরু হয়। ১৮ এপ্রিল বাংলাদেশ ও বিশ্বপরিচয় এবং প্রাথমিক বিজ্ঞান পরীক্ষা দিয়ে শেষ হয়। এ বছর মোট পরীক্ষার্থী ছিল ৬ লাখ ৪০ হাজারের কিছু বেশি। এর মধ্যে প্রায় সাড়ে ৫ লাখ সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের এবং প্রায় ৯০ হাজার বেসরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের (কিন্ডারগার্টেন) শিক্ষার্থী।

এএএইচ/কেএসআর