পশ্চিম তীরে ফিলিস্তিনি কর্তৃপক্ষের প্রশাসনিক নিয়ন্ত্রণাধীন এরিয়া–এ-এর ১০০টি কৌশলগত স্থান দখলের পরিকল্পনা তৈরি করেছে ইসরায়েলি বসতি স্থাপনকারী (সেটলার) সংগঠনগুলো। সেটলার ফার্মস অ্যাসোসিয়েশন এবং হাভাত (ফার্মস) ফোরাম একত্রে এই পরিকল্পনা করেছে।
সোমবার (২৯ জুন) ইসরায়েলি দৈনিক ইসরায়েল হায়োম প্রকাশিত এক প্রতিবেদনে এমন দাবি করা হয়েছে।
প্রতিবেদনে বলা হয়, প্রণীত এই পরিকল্পনার লক্ষ্য অধিকৃত পশ্চিম তীরের বর্তমান ভূ-রাজনৈতিক বাস্তবতাকে মৌলিকভাবে পরিবর্তন করা। পরিকল্পনায় একটি নির্দিষ্ট কার্যকর করার দিন (Execution Day) নির্ধারণ করে পশ্চিম তীরের প্রায় ১০০টি কৌশলগত স্থানে বাহিনী মোতায়েনের রূপরেখা দেওয়া হয়েছে। ইসরায়েল সরকারের কয়েকজন মন্ত্রী এবং প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুর ঘনিষ্ঠ ব্যক্তিদের কাছে উপস্থাপন করা হয়েছে। এতে পশ্চিম তীরের প্রধান প্রধান ফিলিস্তিনি শহরও অন্তর্ভুক্ত রয়েছে বলে দাবি করা হয়।
এসব স্থান এরিয়া–এ-এর অন্তর্ভুক্ত যা ১৯৯৫ সালের অসলো-২ চুক্তি অনুযায়ী ফিলিস্তিনি কর্তৃপক্ষের প্রশাসনিক ও নিরাপত্তা নিয়ন্ত্রণে রয়েছে। অসলো চুক্তি অনুযায়ী পশ্চিম তীর (ওয়েস্ট ব্যাংক) তিনটি প্রশাসনিক অঞ্চলে বিভক্ত; এরিয়া এ, বি এবং সি।
এরিয়া এ: সম্পূর্ণভাবে ফিলিস্তিনি কর্তৃপক্ষের বেসামরিক ও নিরাপত্তা নিয়ন্ত্রণের অধীনে।
এরিয়া বি: বেসামরিক প্রশাসন ফিলিস্তিনি কর্তৃপক্ষ পরিচালনা করে, তবে নিরাপত্তা নিয়ন্ত্রণ ইসরায়েলের হাতে থাকে।
এরিয়া সি: সম্পূর্ণরূপে ইসরায়েলের নিয়ন্ত্রণাধীন এবং এটি পশ্চিম তীরের প্রায় ৬০ শতাংশ এলাকাজুড়ে বিস্তৃত।
ফিলিস্তিন মুক্তি সংস্থা (পিএলও)-সংশ্লিষ্ট অ্যান্টি-ওয়াল অ্যান্ড সেটেলমেন্ট কমিটির প্রধান মুয়াইয়্যাদ শাবান এই প্রস্তাবকে বিপজ্জনক পদক্ষেপ বলে অভিহিত করেন।
তার মতে, এটি অবৈধ সেটলার গোষ্ঠীগুলোর স্বতন্ত্র উদ্যোগ নয় বরং ডানপন্থি ইসরায়েলি সরকারগুলোর দীর্ঘদিনের নীতিরই প্রতিফলন।
এদিকে, ইসরায়েলি সেনাবাহিনী প্রায় প্রতিদিনই পশ্চিম তীরের বিভিন্ন শহর ও জনপদে অভিযান চালিয়ে আসছে। এসব অভিযানে গ্রেফতার, ঘটনাস্থলেই জিজ্ঞাসাবাদ এবং বাড়ি তল্লাশির ঘটনা ঘটছে।
ফিলিস্তিনি কর্তৃপক্ষের তথ্য অনুযায়ী, অক্টোবর ২০২৩ থেকে পশ্চিম তীরে ইসরায়েলি সেনাবাহিনী ও বসতি স্থাপনকারীদের হামলায় ১ হাজার ১৭৩ জনের বেশি ফিলিস্তিনি নিহত, ১২ হাজার ৬৬৬ জন আহত এবং প্রায় ২৩,০০০ জন গ্রেপ্তার হয়েছেন।
কেএম








