অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে বিশ্বকাপের নকআউট পর্বে ঐতিহাসিক জয় ফিলিস্তিনের জনগণের উদ্দেশে উৎসর্গ করেছেন মিসর জাতীয় দলের প্রধান কোচ হোসাম হাসান। শুক্রবার ডালাস স্টেডিয়ামে শেষ বত্রিশের ম্যাচে নির্ধারিত ৯০ মিনিট ও অতিরিক্ত সময় শেষে ১-১ সমতা থাকায় ম্যাচ গড়ায় টাইব্রেকারে। সেখানে ৪-২ ব্যবধানে জিতে ইতিহাসে প্রথমবারের মতো বিশ্বকাপের নকআউট পর্বে জয়ের স্বাদ পায় মিসর।
টাইব্রেকারে অস্ট্রেলিয়ার হ্যারি সাউতার ও লুকাস হেরিংটন শট মিস করলে হোসাম আবদেলমাগুইদ জয়সূচক স্পট-কিকটি সফলভাবে জালে জড়ান। এর মাধ্যমে শেষ ষোলোয় জায়গা নিশ্চিত করে মিসর, যেখানে তাদের প্রতিপক্ষ হবে আর্জেন্টিনা। ৭ জুন রাত ১০টায় মাঠে গড়াবে ম্যাচটি।
ম্যাচের ১৩তম মিনিটে ইমাম আশুর হেডে গোল করে মিসরকে এগিয়ে দেন। তবে দ্বিতীয়ার্ধের ১০ মিনিটে মোহামেদ হানির আত্মঘাতী গোলে সমতায় ফেরে অস্ট্রেলিয়া।
ম্যাচ শেষে সংবাদমাধ্যমের সঙ্গে কথা বলতে গিয়ে হোসাম হাসান বলেন, 'আল্লাহ যেন ফিলিস্তিনিদের বিজয় দান করেন এবং তাদের শহীদদের প্রতি রহমত বর্ষণ করেন।'
তিনি আরও বলেন, 'আমি এই জয় মিসরের জনগণ এবং ফিলিস্তিনের জনগণের উদ্দেশে উৎসর্গ করছি—সেই সম্মানিত ও মহান মানুষদের জন্য।'
জয়ের পর হোসাম হাসান মাঠে মিসর ও ফিলিস্তিন—দুই দেশের পতাকা হাতে নিয়ে প্রবেশ করেন। পরে পুরো দল একসঙ্গে মাঠে সিজদায় লুটিয়ে পড়ে তাদের ঐতিহাসিক সাফল্যের জন্য কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করে।
এদিকে, বহু ফিলিস্তিনি ফুটবল সমর্থক সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে মিসরের জয়ে নিজেদের আনন্দ প্রকাশ করেছেন। গাজাভিত্তিক বাসিন্দা তামের নাহেদ এক্স (সাবেক টুইটার)-এ লিখেছেন, 'এই প্রথম আমি এত উত্তেজনা নিয়ে বিশ্বকাপ অনুসরণ করছি।'
তিনি আরও লেখেন, 'কিছুক্ষণ আগে মিসরের জয়ে আমি খুব আনন্দিত হয়েছিলাম। কিন্তু সবচেয়ে সুন্দর দৃশ্য ছিল এখানে। হাজার হাজার মানুষ নিজেদের তাঁবু এবং ধ্বংসস্তূপে পরিণত হওয়া বাড়িঘর থেকে বেরিয়ে এসে একসঙ্গে ম্যাচটি দেখেছে। মানুষের মুখে ছিল হাসি, চারদিকে ধ্বনিত হচ্ছিল উল্লাস। মনে হচ্ছিল, চারপাশের সব দুঃসহ বাস্তবতার মাঝেও সবাই অন্তত কিছুক্ষণের জন্য জীবনকে ফিরে পেতে চেয়েছে।'
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া ভিডিওগুলোতে দেখা যায়, বোমায় বিধ্বস্ত ভবন ও অস্থায়ী তাঁবুর মাঝেই বড় পর্দায় ম্যাচ দেখছেন গাজার বাসিন্দারা। অনেকের মুখে হাসি, কারও হাতে মিসরের পতাকা, আবার অনেক শিশুর মুখে আঁকা ছিল মিসরের জাতীয় পতাকার রং।
আরআর/এসকেডি/এএসএম








