একটি ফ্ল্যাটে ৩০০টিরও বেশি অজগর সাপ (পাইথন) লালন-পালন করার অপরাধে এক ব্যক্তিকে কারাদণ্ড দিয়েছে আদালত। বিদ্যুতের অস্বাভাবিক ব্যবহার তদন্ত করতে গিয়েই তার এই অবৈধ কর্মকাণ্ডের সন্ধান পায় পুলিশ। এটি চীনের পূর্বাঞ্চলের ঘটনা।

চীনের রাষ্ট্রীয় সংবাদমাধ্যম সিসিটিভি জুনের শেষ দিকে ঘটনাটিকে বিরল ও বিপন্ন বন্যপ্রাণীর জন্য ‘গুরুতর ক্ষতিকর অপরাধ’ হিসেবে উল্লেখ করে।

চীনের আইনে পাইথন ‘গ্রেড-টু’ সুরক্ষিত প্রাণী হিসেবে তালিকাভুক্ত। সরকারি অনুমতি ছাড়া এ ধরনের সাপ কেনাবেচা, প্রজনন বা পরিবহন নিষিদ্ধ।

ঘটনার সূত্রপাত ২০২৪ সালের মার্চে। ঝেজিয়াং প্রদেশের তাইঝৌ শহরে এক বৃদ্ধ স্থানীয় একটি পাহাড়ের পাদদেশে বড় আকারের একটি সাপ দেখতে পান। তিনি বিষয়টি কর্তৃপক্ষকে জানালে তদন্ত শুরু হয়।

পুলিশের ধারণা হয়, সাপটি কোনো খামার বা ব্যক্তিগত সংগ্রহ থেকে পালিয়ে এসেছে। কারণ ওই অঞ্চলে এ ধরনের সাপ স্বাভাবিকভাবে পাওয়া যায় না এবং মার্চ মাসে সাধারণত সাপ বনে খুব বেশি সক্রিয়ও থাকে না।

তদন্তে এক পেশাদার সাপ পালকের সহায়তা নেয় পুলিশ। তিনি জানান, পাইথন বাঁচিয়ে রাখতে সব সময় ২০ থেকে ৩০ ডিগ্রি সেলসিয়াস তাপমাত্রা ও আর্দ্র পরিবেশ দরকার হয়। ফলে এমন কেউ থাকলে তার বিদ্যুৎ খরচও অস্বাভাবিকভাবে বেশি হওয়ার কথা।

এরপর আশপাশের বাসিন্দাদের বিদ্যুৎ ব্যবহারের তথ্য যাচাই করে পুলিশ গুয়ো নামের এক ব্যক্তিকে সন্দেহভাজন হিসেবে চিহ্নিত করে। অবিবাহিত ও বেকার গুয়ো একাই ওই ফ্ল্যাটে বসবাস করতেন।

তদন্তকারীরা আরও জানতে পারেন, দি নামের আরেক ব্যক্তি নিয়মিত গুয়োর বাসায় যাতায়াত করতেন। তিনি প্রায়ই অনলাইনে কেনা সাদা ইঁদুরের পার্সেল সংগ্রহ করতেন। বিক্রেতারা পুলিশকে জানান, এসব ইঁদুর সাধারণত সরীসৃপ প্রাণীর খাবার হিসেবে ব্যবহৃত হয়।

এছাড়া সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে গুয়ো নিয়মিত সাপের ছবি পোস্ট করতেন এবং কখনো কখনো পাইথন বিক্রির ইঙ্গিতও দিতেন। তদন্তে এমন একটি লেনদেনের তথ্যও পাওয়া যায়, যেখানে দি দুইটি পাইথন ১ হাজার ইউয়ানে (প্রায় ১৫০ মার্কিন ডলার) বিক্রি করেছিলেন।

এসব তথ্যের ভিত্তিতে পুলিশ গুয়ো ও দিকে গ্রেপ্তারের সিদ্ধান্ত নেয়।

গুয়োর ফ্ল্যাটে অভিযান চালিয়ে পুলিশ হতবাক হয়ে যায়। সেখানে অসংখ্য প্লাস্টিকের বাক্স সারি করে রাখা ছিল এবং প্রতিটি বাক্সেই ছিল একটি করে পাইথন।

নিজের একটি শোবার ঘরে আসবাবপত্র রেখে বাকি দুইটি শোবার ঘর ও বসার ঘর পুরোপুরি সাপ পালনের জন্য ব্যবহার করছিলেন গুয়ো।

অভিযানে মোট ৩০৯টি পাইথন উদ্ধার করা হয়। পরে সেগুলো একটি স্থানীয় চিড়িয়াখানায় স্থানান্তর করা হয়েছে।

পুলিশ জানিয়েছে, অবৈধভাবে সুরক্ষিত প্রাণী পালন ও বিক্রির অভিযোগে দুই অভিযুক্তের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে।

সূত্র: দ্য সাউথ চায়না মর্নি পোস্ট

এমএসএম