বিশ্বকাপের কোয়ার্টার ফাইনালে ওঠার লক্ষ্যে রাত ৩টায় মাঠে নামছে প্যারাগুয়ে। তবে শেষ আটে জায়গা করে নিতে হলে তাদের টপকাতে হবে শক্তিশালী ফ্রান্সকে। এর আগে সাবেক বিশ্ব চ্যাম্পিয়ন জার্মানিকে হারিয়ে চমক সৃষ্টি করে শেষ ষোলোতে জায়গা করে নেয় দক্ষিণ আমেরিকার দলটি।
ম্যাচের আগে সংবাদ সম্মেলনে কোচ গুস্তাভো আলফারো নিজের দলের বর্তমান অবস্থা বিশ্লেষণ করেন এবং স্বভাবসুলভ রূপকের মাধ্যমে প্রতিপক্ষের শক্তির বর্ণনা দেন।
প্যারাগুয়ে দলের বর্তমান অবস্থার বিষয়ে আলফারো বলেন, 'এখানে থাকতে পেরে ভালো লাগছে। আমরা ভালো অবস্থায় আছি। জার্মানির বিপক্ষে ম্যাচটি আমাদের অনেক কিছু শিখিয়েছে। আমরা জানতাম, আমাদের লক্ষ্য ছিল প্রতিদ্বন্দ্বিতা করা। এটাও জানতাম যে, এটি খেলোয়াড়দের প্রথম বিশ্বকাপ হওয়ায় আমাদের অভিজ্ঞতার ঘাটতি ছিল। আমার মনে হয়, আমরা সেখান থেকে অনেক কিছু শিখেছি। আগামীকালের ম্যাচের জন্য সেটি যথেষ্ট কি না? আমার মনে হয় না। তবে প্যারাগুয়ের জন্য এটি ইতিহাস, যদিও অন্যদের কাছে তা নাও হতে পারে। এমন মুহূর্তগুলো অসাধারণ। আশা করি, জার্মানির বিপক্ষে যেভাবে খেলেছিলাম, তেমন আরও বিকেল আমাদের সামনে আসবে।'
বিশ্বকাপে খেলোয়াড়দের শারীরিক ক্লান্তি এবং তীব্র গরম নিয়েও কথা বলেন তিনি, 'আপনি দেখছেন, অনেক দল নিচু ডিফেন্সিভ লাইনে খেলছে। পুরো মৌসুমের ক্লান্তি এবং তাপমাত্রার কারণেই এমন হচ্ছে। তাই উচ্চ পর্যায়ের প্রেসিং খুব একটা দেখা যাচ্ছে না। জার্মানির বিপক্ষে আমাদের যে পরিমাণ পরিশ্রম করতে হয়েছে, তা ছিল বিশাল। আমাদের অনেক পরিবর্তনই করতে হয়েছে শারীরিক ও মানসিক ক্লান্তির কারণে।'
ফ্রান্স সম্পর্কে কথা বলতে গিয়ে আলফারো তার পরিচিত রূপক ব্যবহার করেন, 'তাদের ৬০ মিনিটই যথেষ্ট ছিল। কিন্তু আগামীকালের ম্যাচ সম্পূর্ণ ভিন্ন হবে। ফ্রান্সের ফরোয়ার্ডরা ২০২৫ সালের ২০ মার্চ ক্রোয়েশিয়ার বিপক্ষে ম্যাচের পর থেকে আর গোল করেনি। কিন্তু তাদের গড় গোলের হার দেখুন—প্রতি ম্যাচে ৪-১। এ কারণেই তারা বিশ্বের এক নম্বর দল। আমি গ্রামের ছেলে। রাফায়েলায় যখন বজ্রঝড় আসত, তখন আশ্রয় নেওয়ার সুযোগও থাকত না, কারণ সেখানে বজ্রনিরোধক ছিল না। ফ্রান্স ঠিক সেই বজ্রঝড়ের মতো। তাদের বজ্রপাত সরাসরি গোলপোস্টের মাঝখানে এসে আঘাত হানে, আর আপনি জানেন, ঝড় আসছে। আমার মতে, বিশ্বকাপের চার প্রধান দাবিদার ছিল আর্জেন্টিনা, স্পেন, ফ্রান্স ও ব্রাজিল। আর তাদের মধ্যে ফ্রান্সই এক নম্বর।'
২০১০ সালের দক্ষিণ আফ্রিকা বিশ্বকাপে প্যারাগুয়ের ঐতিহাসিক অভিযানের সঙ্গে বর্তমান দলের তুলনা করতে চাননি আলফারো। তবে সেই প্রজন্মের খেলোয়াড়দের শুভেচ্ছাকে তিনি সম্মানের সঙ্গে গ্রহণ করেছেন।
তিনি বলেন, 'আমরা নিজেদের সঙ্গে তাদের তুলনা করতে চাই না। তারা এসে আমাদের শুভেচ্ছা জানিয়েছে, এতে আমি খুব খুশি। তারা প্যারাগুয়ের ইতিহাসের অংশ। আমরা আমাদের নিজস্ব ইতিহাস গড়তে চাই। আশা করি, এমন সুযোগ আরও আসবে। কিছু দলের জন্য ভালো বিশ্বকাপ মানে সেমিফাইনাল বা তারও ওপরে ওঠা। কিন্তু আমাদের জন্য গল্পটা ভিন্ন।'
শেষে তিনি খেলোয়াড়দের উদ্দেশে নিজের বার্তার কথা তুলে ধরেন এবং আত্মবিশ্বাসের গুরুত্বের ওপর জোর দেন, 'আমরা এখানে বেড়াতে আসিনি, আমরা এসেছি প্রতিদ্বন্দ্বিতা করতে। তবে আমি ছেলেদের বলেছি, আমরা যেখানে কয়েক মাস আগে ছিলাম, তার তুলনায় এখানে পৌঁছানোই একটি বড় জয়। তাই জার্মানিকে হারানো বা ফ্রান্সকে হারাতে পারা—এসব আমার কাছে সবকিছু বদলে দেয় না। হয়তো আমাদের কোয়ার্টার ফাইনালে ওঠার সম্ভাবনা মাত্র ৩ শতাংশ। কিন্তু একটি দলকে বড় করে তোলে একমাত্র আত্মবিশ্বাস। আর জার্মানিকে হারানোর পর সেই আত্মবিশ্বাস আমাদের যথেষ্ট আছে।'
আরআর/এসকেডি/এএসএম








