টানা দ্বিতীয় বিশ্বকাপের কোয়ার্টার ফাইনালে উঠেছে ফ্রান্স। স্বাগতিক কানাডাকে দাপটের সঙ্গে ৩-০ ব্যবধানে হারিয়ে এই পর্যায়ে এসেছে তারা। এবার তাদের টুর্নামেন্টের সবচেয়ে শক্তিশালী প্রতিপক্ষ ফ্রান্সের মোকাবেলা করতে হবে। বিশ্বের এক নম্বর দলটির বিপক্ষে খেলতে মানসিকভাবে শক্তিশালী হওয়ার পাশাপাশি নিজেদের উজাড় করে দিতে হবে বলে মনে করেন মরক্কোর কোচ মোহামেদ ওয়াহবি।
বুধবার ম্যাচ-পূর্ব সংবাদ সম্মেলনে মরক্কোর কোচ ওয়াহবি বলেন, ‘আমি সব সময় মনে করি, প্রতিযোগিতা শেষে সাফল্য বিচার করা উচিত। আমরা কোচিং স্টাফ হিসেবে খেলোয়াড়দের সঙ্গে কথা বলেছি। বাস্তবতা হলো, ফ্রান্সই ফেবারিট। তবে আগামীকালের ম্যাচ জিততে আমরা সর্বোচ্চ চেষ্টা করবো। শুধু এখানে পৌঁছেই সন্তুষ্ট থাকতে চাই না। আমাদের সবচেয়ে বড় লক্ষ্য বিশ্বকাপ জেতা।’
মরক্কোর কোচ ওয়াহবি নিশ্চিত করেছেন, বিশ্বকাপের কোয়ার্টার ফাইনালে ফ্রান্সের বিপক্ষে খেলতে পারবেন না মরক্কোর ফরোয়ার্ড সাইবারি। এই কোচ বলেন, ‘সাইবারি ছাড়া দলের সবাই প্রস্তুত। আশা করছি আমরা প্রতিযোগিতায় আরও এগিয়ে যেতে পারবো।’
চলতি বিশ্বকাপে পাঁচ ম্যাচে তিন গোল করে মরক্কোর অন্যতম সেরা খেলোয়াড় সাইবারি। গত শনিবার কানাডার বিপক্ষে ম্যাচে ডান পায়ের হ্যামস্ট্রিংয়ে চোট পেয়ে মাঠ ছাড়েন তিনি। সময়মতো সুস্থ হতে না পারায় ফ্রান্সের বিপক্ষে তাকে পাওয়া যাচ্ছে না। তার পরিবর্তে একাদশে দেখা যেতে পারে রাহিমিকে।
২০২২ সালের বিশ্বকাপে সেমিফাইনালে ফ্রান্সের কাছে ২-০ গোলে হারের স্মৃতি থাকলেও, এবার সেই ম্যাচের সঙ্গে কোনো তুলনা করতে চান না মরক্কো কোচ। ‘প্রতিটি ম্যাচেরই আলাদা প্রেক্ষাপট থাকে। এটি ২০২২ সালের মতো হবে না। এখন আমাদের দল ভিন্ন এবং আমরা এ পর্যন্ত যা দেখিয়েছি, সেটির ওপর বিশ্বাস রাখতে হবে।’
তিনি আরও বলেন,‘আমাদের শক্তিই আমাদের এখানে নিয়ে এসেছে। আগের বিশ্বকাপের তুলনায় আমরা আরও উন্নতি করেছি। এখন মুখোমুখি হচ্ছে ফুটবল ভালো খেলা দুটি দেশ। ফ্রান্সের মান আমাকে অবাক করে না। আমরা কোনো আক্ষেপ ছাড়াই ম্যাচ খেলতে চাই। শতভাগ উজাড় করে দিতে হবে। এখন পর্যন্ত যা করেছি তা খারাপ নয়, এবং আমরা সেই ধারাই ধরে রাখতে চাই।’
এদিকে, ফ্রান্স-মরক্কো ম্যাচে আর্জেন্টাইন রেফারির দায়িত্ব পাওয়া নিয়ে চলা বিতর্কে জড়াতে চাননি ওয়াহবি। এ প্রসঙ্গে তিনি বলেন, ‘তিনি একজন অভিজ্ঞ রেফারি এবং আমরা সেটাই চাই। আমরা শান্ত আছি। এর আগে নেদারল্যান্ডসের বিপক্ষে একজন ডাচ রেফারি ছিলেন, তিনি ভালো ম্যাচ পরিচালনা করেছেন। আমরা এসব বিতর্কে যেতে চাই না। তবে রেফারিদের কার্ড ব্যবহারে আরও ধারাবাহিকতা থাকা উচিত। কেউ খুব বেশি কার্ড দেন, কেউ আবার একেবারেই দেন না। এতে ম্যাচের ওপর প্রভাব পড়তে পারে। তবে সামগ্রিকভাবে তারা এই পর্যায়ে দায়িত্ব পালনের যোগ্য।’
আরআর/আইএন








