মাত্র তিন মাস আগেও তিনি ছিলেন ফ্রান্স অনূর্ধ্ব-২১ দলের অধিনায়ক। তিনিই এখন বিশ্বকাপের কোয়ার্টার ফাইনালে ফ্রান্সের বিপক্ষে মরক্কোর মাঝমাঠের অন্যতম ভরসা। ১৮ বছর বয়সি আইয়ুব বুয়াদ্দির গল্প তাই বিশ্বকাপের অন্যতম আলোচিত বিষয়। আজ রাত ২টায় বোস্টনে কোয়ার্টার ফাইনালে মুখোমুখি হবে ফ্রান্স ও মরক্কো। ম্যাচের আগে আলোচনার কেন্দ্রে লিলের এই মিডফিল্ডার। যার জন্ম ও বেড়ে ওঠা ফ্রান্সে। কিন্তু জাতীয় দল হিসাবে বেছে নিয়েছেন পূর্বপুরুষের দেশ মরক্কোকে। গত মার্চে ফ্রান্সের কোচ দিদিয়ের দেশম বলেছিলেন, বুয়াদ্দির সম্ভাবনা নিয়ে কোনো সন্দেহ নেই, তবে সিনিয়র দলে জায়গা পেতে তাকে অপেক্ষা করতে হবে। কিন্তু অপেক্ষা করেননি বুয়াদ্দি। মরক্কোর প্রস্তাব গ্রহণ করে বিশ্বকাপের আগেই জাতীয় দলের জার্সি গায়ে তোলেন। বিশ্বকাপে অভিষেকের পর থেকে দারুণ ছন্দে আছেন এই তরুণ। কোয়ার্টার ফাইনালে তার দায়িত্ব থাকবে ফ্রান্সের আক্রমণের যোগসূত্র ভেঙে দেওয়া এবং কিলিয়ান এমবাপ্পের কাছে বল পৌঁছানোর পথ কঠিন করে তোলা।

ফ্রান্স ফুটবল ফেডারেশনের কারিগরি পরিচালক উবের ফুরনিয়েরও স্বীকার করেছেন, বুয়াদ্দিকে হারানো তাদের জন্য বড় ক্ষতি। তার ভাষায়, ‘অনেক বছর ধরে আমরা তাকে অনুসরণ করেছি। তার বয়সি খেলোয়াড়দের মধ্যে বুয়াদ্দির মতো আর কেউ নেই। তবে সিদ্ধান্তটা ছিল তার।’ মাত্র ১৬ বছর বয়সে লিলের হয়ে অভিষেক হয় বুয়াদ্দির। ১৭তম জন্মদিনে চ্যাম্পিয়ন্স লিগে রিয়াল মাদ্রিদের বিপক্ষে দুর্দান্ত পারফরম্যান্স করে আলোচনায় আসেন তিনি। সেই প্রতিভাই এবার মরক্কোর বিশ্বকাপ স্বপ্নের অন্যতম ভরসা। বিদেশে জন্ম নেওয়া প্রতিভাবান ফুটবলারদের দলে ভেড়ানোর কৌশলে সফল মরক্কো। কানাডার বিপক্ষে শেষ ষোলোর ম্যাচে তাদের শুরুর একাদশের ১০ জনই ছিলেন দেশের বাইরে জন্ম নেওয়া। বর্তমান দলে বুয়াদ্দি ছাড়াও আছেন ফ্রান্সে জন্ম নেওয়া ইসা দিওপ ও নিল এল আইনাউই। ২০২২ বিশ্বকাপের সেমিফাইনালে ফ্রান্সের কাছে হেরে বিদায় নিয়েছিল মরক্কো। সেই দলের মাত্র চারজন এবারও নিয়মিত একাদশে আছেন। নতুন প্রজন্ম নিয়ে এবার প্রতিশোধের স্বপ্ন দেখছে আটলাসের সিংহরা। আর সেই নতুন প্রজন্মের সবচেয়ে উজ্জ্বল মুখ বুয়াদ্দি। তাকে ফরাসি সংবাদমাধ্যম লেকিপ এরই মধ্যে আখ্যা দিয়েছে, ‘হারানো রত্ন’।