ফুলবাড়ীতে ধরলার তীব্র ভাঙনে ভিটেমাটি সব কিছু হারিয়ে নিঃস্ব হয়েছেন মজনু সরকার। নদী ভাঙনের শিকার হয়েছেন শিপন, রিপন, তাহাজ, রফিকুল ও আব্দুল মালেক। নদীপারে এসে দীর্ঘশ্বাস ফেলে তারা জানান, আমাদের কে খোঁজ নেয়। আমরা নদীপারের মানুষ এভাবেই আমাদের জীবনযাত্রা। শেষ সম্বল ছিল ১৬ শতক জমি। মজনু সরকারের সেটুকু জমিও চলে গেছে ধরলার পেটে। সেখানে এখন ধরলার তীব্র স্রোত ধারা। মজনু নির্মম বাস্তবতার শিকার। তার ওই বয়সে ছয়বার ধরলার ভাঙনের শিকার হয়েছেন। ভেঙে পড়েননি। কিন্তু এবার শেষ সম্বলটুকুও নেই। ঘর তুলে কীভাবে পরিবার-পরিজন নিয়ে বাঁচবেন। তারপরেও নিজেকে আঁকড়ে ধরে এগিয়ে যাওয়ার চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছেন। এখন তার দিন কাটছে অনিশ্চয়তায়।
এরইমধ্যে আগ্রাসী ধরলার ভাঙনের শিকার হয়েছেন উপজেলার চরগোরকমন্ডল এলাকার বদিরুজ্জামান, ছপুর উদ্দিন, ময়েন উদ্দিন, ঈমান, মুকুল ও আব্দুল মালেকসহ আরও অনেকে। সরেজমিন গিয়ে জানা যায়, ৪-৫ দিনে চরগোরকমন্ডল এলাকা আনন্দবাজারের পশ্চিমে ১ কিলোমিটারব্যাপী ধরলার ভাঙন আব্যাহত রয়েছে। সেই সঙ্গে প্রায় ১৫-২০ একর ফসলি জমিসহ ১৫ থেকে ২০ পরিবারে বসতভিটা নদীগর্ভে বিলীন হয়েছে। পানি উন্নয়ন বোর্ড ভাঙন রোধে দুই হাজার জিওব্যাগ দিলেও ভাঙন ঠেকাতে পারছে না। স্থানীয় মাওলানা আব্দুল মালেক জানান, ওই ভাঙন প্রতিরোধ করতে হলে প্রায় ৫০ হাজার জিওব্যাগের যেমন প্রয়োজন তেমনিভাবে টেকসই বাঁধসহ কংক্রিটের ব্লক দিয়ে বাঁধ নির্মাণ ও নদী তীরে বনায়ন প্রকল্প চালু রাখলে নদী ভাঙন প্রতিরোধ হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। ধরলাপাড়ের সাহার উদ্দিন জানান, ধরলা নদী ভাঙতে ভাঙতে আমার বাড়ি গিলে খেয়েছে। এখন আমার বসতভিটা নদীর মাঝে। দ্রুততম সময়ে যদি ভাঙন প্রতিরোধ করা না যায় তাহলে ওপারের ৬০ পরিবার নিয়ে তৈরি গুচ্ছ গ্রামটিও ধরলা গিলে খাবে। ইউপি সদস্য আয়াজ উদ্দিন জানান, ১৫-২০টি পরিবারসহ প্রায় এক কিলোমিটার সড়কসহ শতশত ফসলি জমি নদীগর্ভে বিলীন হয়েছে। পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী রাকিবুল জানান, চরগোরকমন্ডল এলাকায় ধরলা নদীর তীব্র ভাঙন ঠেকাতে ইতোমধ্যেই দুই হাজার জিওব্যাগ বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে। যদি কাজ শুরু হয়ে না থাকে তাহলে দ্রুত শুরু করা হবে। প্রয়োজন হলে আরও জিওব্যাগ সেখানে সরবরাহ করা হবে।







