ফুলছড়ীর ব্রহ্মপুত্র নদের তীব্র ভাঙনে চৌমোহন চর এলাকায় নেমে এসেছে মানবিক বিপর্যয়। মাত্র এক সপ্তাহের ব্যবধানে নদীগর্ভে বিলীন হয়েছে দুই শতাধিক পরিবারের বসতভিটা, একটি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের ভবন, কয়েকশ একর আবাদি জমি এবং অসংখ্য গাছপালা। মাথা গোঁজার ঠাঁই হারিয়ে শত শত মানুষ এখন খোলা আকাশের নিচে কিংবা পাশের নতুন চরে অস্থায়ী আশ্রয়ে মানবেতর জীবন কাটাচ্ছেন। সরেজমিন দেখা যায়, নদীর অব্যাহত ভাঙনের মুখে আতঙ্কিত মানুষজন ঘরবাড়ি, টিন, কাঠ, আসবাবপত্র ও গৃহস্থালির মালামাল নৌকাযোগে নিরাপদ স্থানে সরিয়ে নিতে হিমশিম খাচ্ছেন। কেউ কেউ শেষ সম্বলটুকু বাঁচানোর চেষ্টা করছেন, আবার অনেকেই চোখের সামনে নিজেদের ভিটেমাটি নদীতে তলিয়ে যেতে দেখেও কিছু করতে পারছেন না। নদীগর্ভে বিলীন হয়েছে চৌমোহন সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের ভবনও। ফলে এলাকার শিশুদের শিক্ষাজীবন ব্যাহত হয়েছে। বিদ্যালয়টি অন্য একটি চরে স্থানান্তর করা হলেও সেখানে পৌঁছানো অনেক শিক্ষার্থীর জন্য কষ্টসাধ্য হয়ে পড়েছে।
চৌমোহন চরের হযরত আলী বলেন, জীবনে এমন ভয়াবহ নদীভাঙন দেখিনি। আগে ভাঙনের কিছুটা পূর্বাভাস পাওয়া যেত, এবার নদী কোনো সুযোগই দেয়নি। ভেবেছিলাম আরও দুই-তিন বছর এখানে থাকতে পারব। কিন্তু সবকিছু মুহূর্তেই শেষ হয়ে গেল। এখন যে নতুন চরে আশ্রয় নিচ্ছি সেটি নিচু এলাকা। বর্ষায় পানি বাড়লেই আবারও নতুন সংকটে পড়তে হবে। গত মাসের শেষ দিকে কালবৈশাখী ঝড়ে আমরা অনেক ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছি। সেই ক্ষতি কাটিয়ে ওঠার আগেই নদীভাঙন আমাদের নিঃস্ব করে দিল। একই গ্রামের আব্দুল আলীম জানান, গত ১৫ বছর ধরে তিনি ওই চরে বসবাস করছিলেন। তার ধারণা ছিল চরটি স্থায়ী রূপ নেবে। কিন্তু হঠাৎ ভাঙনে সবকিছু হারিয়ে এখন তিনি পরিবার নিয়ে চরম অনিশ্চয়তার মধ্যে রয়েছেন। গণউন্নয়ন কেন্দ্রের নির্বাহী প্রধান এম আবদুস সালাম বলেন, চরের মানুষের সবচেয়ে বড় দুর্ভোগ হলো নদীভাঙন। এতে মানুষ শুধু ঘরবাড়ি বা জমিজমাই হারায় না, তাদের সামাজিক নিরাপত্তা, পারিবারিক বন্ধন ও জীবিকার ভিত্তিও ধ্বংস হয়ে যায়। ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলোর জরুরি পুনর্বাসনে সরকারি উদ্যোগের পাশাপাশি বেসরকারি উন্নয়ন সংস্থাগুলোকেও এগিয়ে আসতে হবে। স্থানীয়দের দাবি, অবিলম্বে নদীভাঙন রোধে কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণ, ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলোর পুনর্বাসন, খাদ্য ও বিশুদ্ধ পানির ব্যবস্থা এবং ক্ষয়ক্ষতির সঠিক তালিকা প্রণয়ন করে দ্রুত সরকারি সহায়তা নিশ্চিত করা হোক।







