বিদ্যুৎ প্রতিমন্ত্রী অনিন্দ্য ইসলাম অমিত বলেছেন, ফ্যাসিস্ট সরকারের অপরিকল্পিত বিদ্যুৎ ব্যবস্থার কারণে আজ দেশের বিদ্যুৎ খাত বিপর্যয়ের মধ্যে পড়েছে। বিশেষ করে দেশে এখন বিদ্যুতের চাহিদা সর্বোচ্চ ১৮ হাজার মেগাওয়াট। এ অবস্থায় ২ হাজার মেগাওয়াট রিজার্ভ থাকলেই চলে। কিন্তু এখন অতিরিক্ত ১২ হাজার মেগাওয়াট বিদ্যুৎ উৎপাদনের অনুমতি দেওয়া হয়েছে। সেই অতিরিক্ত ১২ হাজার মেগাওয়াটের ক্যাপাসিটি চার্জ সরকারকে কোনো কারণ ছাড়াই দিতে হচ্ছে। বিদ্যুৎ ভবনে সোমবার দুপুরে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে তিনি বলেন, ফ্যাসিস্ট সরকার বিদ্যুৎ খাতে অনেক চুক্তি করেছে। যা রাষ্ট্রের স্বার্থ নিশ্চিত করা হয়নি। তাই অনেক বেসরকারি বিদ্যুৎ কোম্পানির সঙ্গে এই চুক্তির ক্রটি-বিচ্যুতি এবং তাদের ট্যারিফ কমানোর ব্যাপারে আলাপ-আলোচনা করছে সরকার। এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, সরকার চাইলেই অনেক চুক্তি বাতিল করতে পারে না।

৬ কারণ বেশির ভাগ চুক্তিতে রাষ্ট্র সার্বভৌম গ্যারান্টি দেওয়া আছে।

এ সময় বিদ্যুৎ সচিব মিনারা মাহরুখ বলেন, সরকার চাইলেই সিস্টেম থেকে ২ হাজার মেগাওয়াট বিদ্যুৎ বাদ দিতে পারবে না। কারণ সেই বিদ্যুৎ বাদ দিলে লোডশেডিং বাড়বে এবং জনগণ তা মেনে নিবেন কি না সন্দেহ।

বিদ্যুৎ সচিব বলেন, বিদ্যুৎ বিল নিয়ে হয়রানির সব অভিযোগ সরকার তদন্ত করে ব্যবস্থা নিয়েছে। তবে এর মধ্যে বেশির ভাগ বিল সত্য বলে প্রমাণিত হয়েছে। কারণ জুন মাস থেকে বিদ্যুতের দাম বাড়ানো হয়েছে। এ কারণে গ্রাহকের মাসের বিল বেড়েছে। অনেকে অভিযোগ করেছেন মিটারের সমস্যা আছে কি না, এ ব্যাপারে সচিব বলেন, বিদ্যুৎ বিল আসার কারণ মিটারের ক্রটি নয় বরং নতুন ট্যারিফ হারের প্রভাব। অনেক প্রিপেইড মিটারের গ্রাহকদের ক্ষেত্রে মাসের শেষে বিদ্যুৎ ব্যবহার বাড়ার কারণে ট্যারিফের স্লাব অতিক্রম করেছেন। সেই হারেই তাকে বিল দিতে হচ্ছে। তিনি বলেন, বাসাবাড়িতে বিদ্যুতের ব্যবহার বেড়েছে। এখন গ্রামেও ফ্রিজ, টিভি, রাইস কুকার, ব্লেন্ডার ও ইলেকট্রিক কেটলি উল্লেখযোগ্য হারে বেড়েছে। এই কারণে বিদ্যুতের বিলও বেড়েছে। বিদ্যুৎ সচিব মোহাম্মদপুর এবং খাগড়াছড়িতে দুটি অতিরিক্ত বিল দেওয়ার অভিযোগের উদাহরণ টেনে বলেন, মোহাম্মপুরের অভিযোগ তদন্ত করা হয়েছে। মোহাম্মদপুরের অভিযোগ মিথ্যা প্রমাণিত হয়েছে আর খাগড়াছড়ির বিলে ভুলে দুটি শূন্য বেশি পড়েছে। তিনি বলেন, বিল নিয়ে কারও কোনো অভিযোগ থাকলে বিদ্যুৎ বিভাগ তা তদন্ত করে দেখবে। এর মধ্যে কোনো সরকারি কর্মকর্তা কাউকে হয়রানি করলে তার বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

পল্লী বিদ্যুতায়ন বোর্ড-আরইবির চেয়ারম্যান মেজর জেনারেল এস এম জিয়া-উল-আজিম বলেন, দেশে ৫ কোটি বিদ্যুতের গ্রাহক আছে। এর মধ্যে আরইবির হচ্ছে সাড়ে তিন কোটির বেশি। তিনি বলেন, আরইবির কিছু গ্রাহক বাড়তি বিলের অভিযোগ করেছেন। আরইবি সব অভিযোগ তদন্ত করেছে। এর মধ্যে অভিযুক্ত সরকারি কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। বাকি অনেক অভিযোগের সত্যতা পাওয়া যায়নি। ওইসব অভিযোগের ক্ষেত্রে সংশ্লিষ্ট গ্রাহককে তার বিলের হিসাব বুঝিয়ে দেওয়া হয়েছে। এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, কোনো গ্রাহককে হয়রানি করা হলে ওই দায়ীদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে। এ সময় পিডিবির চেয়ারম্যান বিভিন্ন প্রশ্নের জবাব দেন।

‘নবায়নযোগ্য জ্বালানির ওপর জোর দিচ্ছে সরকার’ : দেশে জ্বালানি আমদানিনির্ভরতা থেকে বের হয়ে আসতে নবায়নযোগ্য জ্বালানির ওপর জোর দিচ্ছে সরকার। তবে কৃষিজমি নষ্ট হবে, এমন উদ্যোগ নেওয়া হবে না বলে জানিয়েছেন বিদ্যুৎ ও জ্বালানিমন্ত্রী ইকবাল হাসান মাহমুদ। সোমবার ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটিতে (ডিআরইউ) কনজুমার্স অ্যাসোসিয়েশন (ক্যাব) আয়োজিত ‘জাতীয় নবায়নযোগ্য জ্বালানি উন্নয়ন কৌশলপত্র (২০২৬-২০৩০)’ শীর্ষক নাগরিক সংলাপে প্রধান অতিথির বক্তৃতায় তিনি এসব কথা বলেন।

মন্ত্রী বলেন, দেশে ৮০ শতাংশ বিদ্যুৎকেন্দ্র এখন বেসরকারি খাতের হাতে থাকায় পিডিবিকে উচ্চমূল্যে বিদ্যুৎ কিনতে হচ্ছে। ক্যাবের সাধারণ সম্পাদক অ্যাডভোকেট হুমায়ুন কবীর ভূঁইয়ার সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন ক্যাবের জ্বালানি উপদেষ্টা অধ্যাপক এম শামসুল আলম। এছাড়া বক্তৃতা করেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের আন্তর্জাতিক সম্পর্ক বিভাগের অধ্যাপক তানজীমউদ্দিন খান, বিজিএমইএ’র সভাপতি মাহমুদ হাসান খান, বাংলাদেশ সাসটেইনেবল অ্যান্ড রিনিউয়েবল এনার্জি অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি মোস্তফা আল মাহমুদ, বাংলাদেশ পরিবেশ আন্দোলনের (বাপা) সাধারণ সম্পাদক আলমগীর কবির প্রমুখ।