ফ্যাটি লিভার রোগের জন্য কী খেতে হবে সেদিকে মনোযোগ দেওয়ার পাশাপাশি, দৈনন্দিন জীবনযাত্রার অভ্যাস পরিবর্তন করাও এ অবস্থাটি সামলানোর একটি কার্যকর উপায়। জীবনযাত্রা পরিবর্তনের কৌশলগুলোর মধ্যে রয়েছে-

* আদর্শ ওজন নিয়ন্ত্রণ ও বজায় রাখা

ফ্যাটি লিভার রোগ ব্যবস্থাপনার জন্য শরীরের ওজন এবং যে কোনো ওজন বৃদ্ধির ওপর নিয়মিত নজর রাখা অপরিহার্য। এটি লিভারে জমা হওয়া অতিরিক্ত চর্বির পরিমাণ সামঞ্জস্য করতে সাহায্য করে। যদি আপনার ওজন বেশি বা আপনি স্থূল হন, তবে আপনার আদর্শ শারীরিক ওজনে পৌঁছানোর জন্য ওজন কমানোর দিকে মনোযোগ দিন।

* যকৃতের স্বাস্থ্য ভালো রাখতে স্বাস্থ্যকর খাদ্যাভ্যাস গ্রহণ করা

একটি স্বাস্থ্যকর খাদ্য তালিকায় প্রধানত উদ্ভিদভিত্তিক খাবার থাকে, যার মধ্যে ফল, শাকসবজি, শস্যদানা এবং উদ্ভিজ্জ তেল অন্তর্ভুক্ত। সবুজ শাকসবজি ও ফলমূল প্রয়োজনীয় ভিটামিন ও খনিজ, বিশেষ করে ভিটামিন ‘এ’ এবং ‘ই’ সরবরাহ করে, যা যকৃতে আরও চর্বি জমা হওয়া প্রতিরোধ করতে সাহায্য করে। এটি যকৃতের কার্যকারিতা উন্নত করে এবং যকৃতের ওপর অতিরিক্ত চাপ কমায়। চর্বিযুক্ত খাবার, ফাস্ট ফুড পরিহার করুন।

* নিয়মিত ও ধারাবাহিকভাবে ব্যায়াম করুন

সপ্তাহে কমপক্ষে ৫ দিন, প্রতিদিন অন্তত ৩০ মিনিট ব্যায়াম করার লক্ষ্য রাখুন। আপনি যদি ব্যায়ামে নতুন হন, তবে হালকা ব্যায়াম দিয়ে শুরু করুন এবং ধীরে ধীরে এর তীব্রতা বাড়ান। নিয়মিত ব্যায়াম বিপাক ক্রিয়া বাড়ায় এবং শরীরের অতিরিক্ত চর্বি পোড়ায়, যা ওজন কমাতে এবং একটি স্বাস্থ্যকর ওজন বজায় রাখতে সাহায্য করে।

* কোলেস্টেরল কমানো

কোলেস্টেরল এবং ট্রাইগ্লিসারাইডের মাত্রা নিয়ন্ত্রণে রাখতে সম্পৃক্ত চর্বি এবং চিনির দিকে নজর রাখুন। যদি খাদ্যাভ্যাস এবং ব্যায়ামের মাধ্যমে কোলেস্টেরল কমানো সম্ভব না হয়, তবে ওষুধের বিকল্প সম্পর্কে আপনার ডাক্তারের সঙ্গে পরামর্শ করুন।

* ডায়াবেটিস ব্যবস্থাপনা

ডায়াবেটিস এবং ফ্যাটি লিভার ডিজিজ প্রায়শই একসঙ্গে দেখা যায়। সঠিক খাদ্যাভ্যাস এবং ব্যায়াম এ দুটি অবস্থাই নিয়ন্ত্রণে রাখতে সাহায্য করতে পারে।

ফ্যাটি লিভার ডিজিজের কোনো নির্দিষ্ট চিকিৎসা নেই। খাদ্যাভ্যাস এবং দৈনন্দিন জীবনযাত্রার অভ্যাস পরিবর্তনের মাধ্যমে এ রোগটি নিরাময় করা সম্ভব।

লেখক : পুষ্টিবিদ, রাইয়ান হেলথ কেয়ার হসপিটাল অ্যান্ড রিসার্চ সেন্টার, দিনাজপুর।