দিনাজপুরের বীরগঞ্জে পিকআপের ধাক্কায় মোটরসাইকেল আরোহী মা-ছেলে নিহত হয়েছেন। মঙ্গলবার সকালে উপজেলার ভোগনগর ইউনিয়নের দিনাজপুর-পঞ্চগড় সড়কের পাঁচপীর এলাকায় এ দুর্ঘটনা ঘটে। এদিকে মানিকগঞ্জে ছেলেকে স্কুল থেকে আনতে গিয়ে সড়ক দুর্ঘটনায় প্রাণ হারিয়েছেন মা কামনা রানি দাশ। এছাড়া দুর্ঘটনায় চার স্থানে নিহত হয়েছেন আরও ৮ জন। তাদের মধ্যে জয়পুরহাটে অটোচালকসহ তিনজন, কুমিল্লায় নারীসহ দুজন, বান্দরবানে শিশু এবং খুলনায় যুবকসহ দুজন রয়েছেন। ব্যুরো, স্টাফ রিপোর্টার ও প্রতিনিধিদের পাঠানো খবর-

বীরগঞ্জ (দিনাজপুর) : নিহতরা হলেন-মা ফাহিমা আক্তার ও ছেলে আব্দুল্লাহ। দুর্ঘটনায় আব্দুল্লাহ’র বাবা মোটরসাইকেলচালক নাজমুল ইসলাম গুরুতর আহত হয়ে হাসপাতালে রয়েছেন। নাজমুল কাহারোল উপজেলার সুন্দরপুর ইউনিয়নের মালগ্রাম এলাকার বাসিন্দা। তিনি মোটরসাইকেলে স্ত্রী-সন্তানকে নিয়ে ডাক্তার দেখানোর জন্য ঠাকুরগাঁওয়ে যাচ্ছিলেন। পথে বীরগঞ্জ উপজেলার ভোগনগর ইউনিয়নের পাঁচপীর এলাকায় দুর্ঘটনার কবলে পড়েন। এতে ঘটনাস্থলেই স্ত্রী ও ছেলে মারা যায়। স্থানীয়রা গুরুতর আহত নাজমুলকে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করেন।

মানিকগঞ্জ : নিহত কামনা রানী সদর উপজেলার ভগবানপুর গ্রামের সফল সূত্রধরের স্ত্রী। মঙ্গলবার সকালে ঢাকা-আরিচা মহাসড়কে নিয়ন্ত্রণ হারানো ট্রাক চাপায় তিনি প্রাণ হারান। দুর্ঘটনায় তার ছেলে অর্ক ও নূসরাত আলম নামের আরও একজন আহত হয়ে হাসপাতালে চিকিৎসাধীন।

জয়পুরহাট : জয়পুরহাটে সড়ক দুর্ঘটনায় নারীসহ তিনজন নিহত হয়েছেন। দুর্ঘটনায় আহত হয়েছেন শিশুসহ সাতজন। মঙ্গলবার জয়পুরহাট সদর উপজেলার বনখুর ও আক্কেলপুর উপজেলার পাঠানধারা এলাকায় এ দুর্ঘটনা ঘটে। নিহতদের মধ্যে দুজনের বিস্তারিত পরিচয় পাওয়া গেছে। তারা হলেন-পাঁচবিবি পৌর শহরের সরকারি গোরস্থান এলাকার অটোচালক যুবক তৌহিদুল ইসলাম ও আক্কেলপুর উপজেলার পুন্ডুরিয়া গ্রামের যুবক সাজ্জাদ হোসেন। তবে নিহত নারীর বিস্তারিত পরিচয় পাওয়া যায়নি। জয়পুরহাটগামী অটোরিকশা বনখুর এলাকায় পৌঁছালে ট্রাকের সঙ্গে সংঘর্ষ হয়। এতে অটোরিকশার চালকসহ নয় যাত্রী আহত হন। তাদের উদ্ধার করে হাসপাতালে নিলে চিকিৎসক অটোচালক তৌহিদুল ও ওই নারীকে মৃত ঘোষণা করেন। অন্যদিকে আক্কেলপুর উপজেলার তিলকপুর ইউনিয়নে নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে গাছে মোটরসাইকেলের ধাক্কায় নিহত হন সাজ্জাদ।

কুমিল্লা ও লাকসাম-মনোহরগঞ্জ : কুমিল্লা-নোয়াখালী মহাসড়কে সড়ক দুর্ঘটনায় নারীসহ দুজন নিহত ও অন্তত ১৫ জন আহত হয়েছেন। মঙ্গলবার সকালে বিপুলাসার বাজার এলাকায় ও খিলা বাজার এলাকায় এসব হতাহতের ঘটনা ঘটে। নিহতরা হলেন-নোয়াখালীর বেগমগঞ্জ উপজেলার কাছিহাটা গ্রামের মৃত ননী মিয়ার ছেলে বৃদ্ধ মোস্তফা কামাল ও কুমিল্লার মনোহরগঞ্জ উপজেলার মৈশাতুয়া ইউনিয়নের খানাতুয়া গ্রামের গৃহবধূ তাসলিমা আক্তার। তাসলিমা আক্তার ইসলামী ব্যাংক নাঙ্গলকোট শাখার জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তা আবু জাফরের স্ত্রী।

বান্দরবান : বান্দরবানের রোয়াংছড়িতে ট্রাকচাপায় শিশু রিমিতা তঞ্চঙ্গ্যার মৃত্যু হয়েছে। সে জামছড়ি ইউনিয়নের ৭ নম্বর ওয়ার্ডের শামুকঝিড়ি পাড়ার বাসিন্দা নিরঞ্জয় তঞ্চঙ্গ্যার মেয়ে। মঙ্গলবার সে দুর্ঘটনার কবলে পড়ে।

কটিয়াদী (কিশোরগঞ্জ) : কটিয়াদীতে সড়ক দুর্ঘটনায় বৃদ্ধ শান্তু মিয়ার মৃত্যু হয়েছে। দুর্ঘটনাটি ঘটেছে সোমবার সকালে কিশোরগঞ্জ-ভৈরব সড়কের চড়িয়াকোনা কাঠমহাল-সংলগ্ন এলাকায়। শান্ত মিয়া কটিয়াদী পৌরসভার চরিয়াকোনা মহল্লার আব্দুছ ছমেদের ছেলে।

খুলনা : খুলনা-সাতক্ষীরা মহাসড়কে নিয়ন্ত্রণ হারানো ট্রাকের সঙ্গে দুটি ইজিবাইকের সংঘর্ষে দুজন নিহত হয়েছেন। দুর্ঘটনায় আহত হয়েছেন অন্তত আটজন। মঙ্গলবার বিকালে খুলনা মহানগরের হরিণটানা থানাধীন পল্লী বিদ্যুৎ সমিতির কার্যালয়ের সামনে এ দুর্ঘটনা ঘটে। নিহতরা হলেন-পাইকগাছা উপজেলার হরিঢালী ইউনিয়নের সনাতনকাঠি গ্রামের যুবক শেখ দিদারুল হক এবং একই উপজেলার হরিদাসকাঠি এলাকার তাপস হোর ওরফে সুনু হোর। দিদারুল শেখ ওবায়দুল হকের ছেলে এবং সুনু বিনোধর হোরের ছেলে।