রংপরের পীরগঞ্জ উপজেলার শানেরহাট ইউনিয়নের মেষ্টা গ্রামের বাদশা মিয়া। কিশোর বয়স থেকে গাছ লাগানোর প্রতি তার আগ্রহ। নিজের জমি না থাকায় যুবক বয়সে বেছে নেন সড়কের দুই ধার, মসজিদ, বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান ও পতিত জায়গা। বিশ বছরে ত্রিশ হাজারের বেশি গাছ লাগিয়ে এলাকায় সবুজ পরিবেশ গড়ে তুলেছেন। তার এ সবুজায়ন ছড়িয়ে দিতে বিয়ে কিংবা সামাজিক অনুষ্ঠানে দাওয়াতে উপহার হিসেবে গাছ নিয়ে হাজির হন তিনি।

সরেজমিন দেখা গেছে, বড়দরগাহ্-মাদারগঞ্জ সড়কের মেষ্টা গ্রামের আমতলা থেকে ভগবানপুর পর্যন্ত প্রায় ৩ কিলোমিটার সড়কের দুই ধারে ফলদ, বনজ ও ঔষধি গাছের সমারোহ। ফলের গাছে ঝুলছে বিভিন্ন ধরনের ফল।

বাদশা গাছ লাগিয়ে থেমে যাননি বরং নিজস্ব অর্থায়নে সার কীটনাশকসহ প্রতিটি গাছের করেছেন সন্তানের মতো যত্ন। তার উদ্যোগে এলাকার পরিবেশ যেমন সুন্দর হয়েছে, তেমনি বেড়েছে জীববৈচিত্র্য।

বাদশা মিয়া যুগান্তরকে বলেন, ‘গাছ শুধু অক্সিজেনই দেয় না, মানুষের জীবন ও প্রকৃতিকে রক্ষা করে। তাই আমি সবাইকে বেশি বেশি গাছ লাগানোর অনুরোধ জানাই।’ তিনিও আরও বলেন, ‘আমার চাওয়া-পাওয়ার কিছু নেই। মানুষ বলে গাছগুলো বাদশা লাগিয়েছে, এটাই আমার বড় পাওয়া। আমার স্বপ্ন-একদিন পুরো এলাকা সবুজে ঘেরা হবে, আর মানুষ প্রকৃতির সঙ্গে আরও নিবিড় বন্ধনে আবদ্ধ হবে। স্থানীয় বাসিন্দা, শামীম, ইমরান, রতন বলেন, গ্রীষ্মের দাবদাহে বাদশার লাগানো গাছের ছায়া পথচারীদের স্বস্তি দেয়। পাশাপাশি গাছ থেকে ফল সংগ্রহ করে অনেকে খেয়ে থাকেন। শানেরহাট কেজে ইসলাম বালিকা স্কুল ও কলেজের ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ খন্দকার এখলাছুর রহমান বলেন, বাদশা প্রকৃত পরিবেশবন্ধু। তার এ উদ্যোগ নতুন প্রজন্মকে গাছ লাগাতে ও পরিবেশ রক্ষায় উদ্বুদ্ধ করছে। আমি সরকারের পক্ষ থেকে তাকে পরিবেশ পদক দেওয়ার অনুরোধ করছি।

শানেরহাট ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যান মেছবাহুর রহমান বলেন, জলবায়ু পরিবর্তনের এ সময়ে বাদশার মতো মানুষদের উদ্যোগ দেশের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। ব্যক্তিগত প্রচেষ্টায় সবুজায়নের যে দৃষ্টান্ত তিনি স্থাপন করেছেন, তা অনুকরণীয়।

উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মাহমুদুল হাসান যুগান্তরকে বলেন, বাদশা একজন বৃক্ষপ্রেমী। তার গাছ লাগানো অব্যাহত রাখতে উপজেলা পরিষদ থেকে প্রয়োজনীয় সহযোগিতা করা হবে।