কুমিল্লায় ‘পরিবেশবন্ধু’ এস এম মিজানুর রহমানের নানা উদ্যোগ সর্বত্রই প্রশংসিত হচ্ছে। জেলার বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে বৃক্ষরোপণ, সরকারি খালি জায়গায় ঔষধি গাছ লাগানো, বিভিন্ন স্টেশন ও জনবহুল এলাকায় পরিচ্ছন্নতা অভিযান চালিয়ে প্লাস্টিক অপসারণ করছেন তিনি। তার এ কার্যক্রম সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমসহ বিভিন্ন প্ল্যাটফর্মে আলোচিত হচ্ছে।

খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, কুমিল্লার দাউদকান্দি উপজেলার লক্ষ্মীপুর গ্রামের বাসিন্দা এসএম মিজানুর রহমান। শৈশব থেকেই যার নেশা গাছ লাগানো। প্রকৃতির সঙ্গে তিনি এক নীরব বন্ধন তৈরি করে ফেলেছেন। নিজ হাতে রোপণ করেছেন অসংখ্য বনজ ও ফলদ বৃক্ষ। শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান, বিভিন্ন সড়কের পাশে, পতিত উঁচু-নিচু জায়গায়, নদী ও খালপাড়ে হাজার হাজার গাছ রোপণ করেছেন তিনি। নিজ এলাকা ছাড়িয়ে জেলার বিভিন্ন এলাকায় গাছ রোপণ করেছেন এই প্রকৃতিপ্রেমী। বর্তমানে তিনি পরিবেশ রক্ষায় সচেতনতা তৈরি এবং প্লাস্টিক ব্যবহারের ক্ষতিকর দিক তুলে ধরছেন।

ইতিপূর্বে কক্সবাজারের সমুদ্রসৈকতে পর্যটকদের প্লাস্টিক ব্যবহারের বিষয়ে সচেতন করতে ক্যাম্পেইন করেছেন এস এম মিজান। ‘প্লাস্টিকের ব্যবহার পরিবেশের ক্যানসার’ স্লোগান নিয়ে তিনি সম্প্রতি সৈকতের সুগন্ধা পয়েন্টে এ ক্যাম্পেইন করেন। তার সঙ্গে যোগ দেন একদল স্বেচ্ছাসেবী পরিবেশকর্মী। শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের আঙিনায় গাছ লাগানো তার নেশা। পাশাপাশি তিনি শিক্ষার্থীদের নিয়ে দূষণমুক্ত পরিবেশ গড়তে নিয়মিত আলোচনা অনুষ্ঠান, সচেতনতা ক্যাম্পেইন, ক্যাম্পাস পরিচ্ছন্নতা অভিযান, জাতীয় ও আন্তর্জাতিক দিবসে আলোচনা এবং শোভাযাত্রাও করে থাকেন।

গাছ লাগানোর অভিযান ও পরিবেশ সচেতনতা কার্যক্রম তিনি নিজ গ্রাম থেকেই শুরু করেছেন। লক্ষ্মীপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের আঙিনায় তার লাগানো ঔষধি গাছের উপকার ভোগ করছেন অনেকেই। নিজ গ্রামের মসজিদের আঙিনা ও সড়কের পাশে তার লাগানো গাছও দিচ্ছে সবুজ শোভা। তার লাগানো গাছ রয়েছে চান্দিনার কুটুম্বপুর উচ্চ বিদ্যালয় প্রাঙ্গণ, দাউদকান্দির ইলিয়টগঞ্জ রাজেন্দ্র বিশ্বনাথ উচ্চ বিদ্যালয়, ড. মোশাররফ ফাউন্ডেশন ডিগ্রি কলেজ, মুরাদনগর উপজেলার গোমতা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় ও গোমতা ইসহাকিয়া উচ্চ বিদ্যালয়, লাকসাম ক্রিসেন্ট মডেল কলেজসহ বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে। পাশাপাশি স্থানীয় সড়ক, মসজিদ, সামাজিক প্রতিষ্ঠানের আঙিনা, ঐতিহাসিক স্থাপনা কিংবা হাটবাজারের যেখানেই খালি জায়গা পেয়েছেন, সেখানেই তিনি গাছ লাগিয়েছেন। তার লাগানো গাছ রয়েছে দাউদকান্দির বানিয়াপাড়া মাদ্রাসা ও দরবার শরিফে যাওয়ার পথে, পুটিয়া থেকে আদমপুর যাওয়ার পথে এবং শিসউক অফিস সড়ক, শিসউক অফিস প্রাঙ্গণ, পুটিয়া অপূর্ব ট্যুরিজম পার্ক ও ইলিয়টগঞ্জ হাইওয়ে পুলিশ থানা ভবন, ইলিয়টগঞ্জ ইউনিয়ন পরিষদ ভবন, ইলিয়টগঞ্জ ইউনিয়ন স্বাস্থ্যকেন্দ্র, লক্ষ্মীপুর বড়বাড়ী মসজিদ, লক্ষ্মীপুর গ্রামের সিএনবি সড়ক, মোবারকপুর জামে মসজিদ, দাউদকান্দি হাইওয়ে পুলিশ থানার পুরোনো ভবন, নিমসার মাঈন কোচিং সেন্টার, দেবিদ্বার, বুড়িচং, ব্রাহ্মণপাড়াসহ বিভিন্ন এলাকার সামাজিক প্রতিষ্ঠানের আঙিনা ও সড়কের পাশে।

এস এম মিজানুর রহমান বলেন, পরিবেশ রক্ষায় প্রচুর পরিমাণে গাছ লাগাতে হবে। প্রকৃতির সঙ্গে আমরা অনেক বৈরী আচরণ করছি। এতে দিন দিন পরিবেশের বিপর্যয় ঘটছে। পরিবেশের জন্য প্লাস্টিক এক ভয়াবহ হুমকি হয়ে দাঁড়িয়েছে। একবার ব্যবহারযোগ্য প্লাস্টিক যেমন-পলিথিন ব্যাগ, বোতল ও স্ট্র শত শত বছর ধরে মাটিতে ও পানিতে অবিকৃত অবস্থায় পড়ে থাকে। ফলে মাটি উর্বরতা হারায়, নদী, খাল ও সমুদ্র দূষিত হয় এবং জলজ প্রাণী মারাত্মক ক্ষতির শিকার হয়। অন্যদিকে প্লাস্টিক ভেঙে মাইক্রোপ্লাস্টিকে পরিণত হয়ে খাদ্যচক্রে প্রবেশ করছে, যা এখন মানবদেহেও শনাক্ত হচ্ছে। তাই প্লাস্টিকের ব্যবহার কমানো, পুনর্ব্যবহার বৃদ্ধি এবং পরিবেশবান্ধব বিকল্প গ্রহণ করা এখন সময়ের দাবি।