প্লাস্টিকের আর্দ্রতা কমানো গেলে স্বয়ংক্রিয় পৃথকীকরণ ব্যবস্থার কার্যকারিতা আরও বাড়বে বলে মনে করেন লাফার্জ হোলসিমের ডেপুটি ম্যানেজার (জিও সাইকেল) তামরিন চৌধুরী।

বৃহস্পতিবার (১৬ জুলাই) রাজধানীর আগারগাঁওয়ে পরিবেশ অধিদপ্তরে বিশ্ব পরিবেশ দিবস-২০২৬ উপলক্ষে ‘বাংলাদেশে টেকসই প্লাস্টিক বর্জ্য ব্যবস্থাপনা: চ্যালেঞ্জ ও অংশীদারদের দায়িত্ব’ শীর্ষক গোলটেবিল বৈঠকে তিনি বিষয়টি তুলে ধরেন।

পরিবেশ অধিদপ্তর ও প্রাণ-আরএফএল গ্রুপ যৌথভাবে এ বৈঠকের আয়োজন করে। মিডিয়া পার্টনার ছিল জাগোনিউজ২৪.কম।

গোলটেবিলে লাফার্জ হোলসিমের ডেপুটি ম্যানেজার (জিও সাইকেল) তামরিন চৌধুরী বলেন, ২০১৭ সাল থেকে লাফার্জ বর্জ্য প্রক্রিয়াজাতকরণে কাজ করছে। ২০২০ সাল থেকে বিভিন্ন শিল্পপ্রতিষ্ঠানের সঙ্গে পূর্ণাঙ্গভাবে কার্যক্রম শুরু হয়, যা এখনো চলমান। ২০২৪ সালে সিলেট সিটি করপোরেশনের সহযোগিতায় দেশের প্রথম অটোমেটেড ম্যাটেরিয়াল রিকভারি ফ্যাসিলিটি (এমআরএফ) স্থাপন করা হয়েছে।

প্লাস্টিকের আর্দ্রতা কমানো গেলে স্বয়ংক্রিয় পৃথকীকরণ আরও কার্যকর হবেগোলটেবিল আলোচনায় আলোচকরা/ছবি: জাগো নিউজ

তিনি বলেন, উৎসে বর্জ্য পৃথকীকরণ অত্যন্ত প্রয়োজনীয় হলেও এটি মানুষের আচরণগত পরিবর্তনের সঙ্গে সম্পর্কিত হওয়ায় সময়সাপেক্ষ। তাই দ্রুত ফল পেতে বর্জ্যকে সরাসরি ভাগাড়ে না পাঠিয়ে পুনর্ব্যবহারযোগ্য সম্পদ হিসেবে কাজে লাগানোর উদ্যোগ বা ল্যান্ডফিল ডাইভারশনে জোর দেওয়া হচ্ছে।

তামরিন চৌধুরী বলেন, ল্যান্ডফিলকেও যদি একটি ‘সোর্স’ হিসেবে বিবেচনা করে সেখানে পৃথকীকরণ ও অটোমেটেড ম্যাটেরিয়াল রিকভারি ফ্যাসিলিটি গড়ে তোলা যায় তাহলে উল্লেখযোগ্য পরিমাণ সম্পদ পুনরুদ্ধার সম্ভব।

আরও পড়ুন

প্লাস্টিক পুনঃব্যবহারে ভ্যাট-ট্যাক্স নয়, প্রয়োজন প্রণোদনা

তিনি জানান, ২০২৪ সালে কার্যক্রম সম্প্রসারণের পর ২০২৫ সালের মধ্যে প্রায় ১০ হাজার টন নন-ভ্যালুয়েবল (অমূল্য) প্লাস্টিক থেকে রিসোর্স রিকভারি করা সম্ভব হয়েছে।

তবে বাংলাদেশের অন্যতম বড় চ্যালেঞ্জ হিসেবে তিনি উল্লেখ করেন, পৌর বর্জ্যে প্লাস্টিকের আর্দ্রতার (ময়েশ্চার) পরিমাণ ৫৫ শতাংশেরও বেশি। এতে সম্পদ বা শক্তি পুনরুদ্ধারের প্রক্রিয়া কঠিন হয়ে পড়ে এবং দুর্গন্ধ সৃষ্টি হয়।

এ সমস্যা মোকাবিলায় আন্তর্জাতিক বিশেষজ্ঞদের সহযোগিতায় সিটি করপোরেশনকে ‘বায়োগ্রিন’ প্রযুক্তি ব্যবহারের পরামর্শ দেওয়া হয়েছে এবং প্ল্যান্টের ভেতরে দুর্গন্ধ নিয়ন্ত্রণে বিনিয়োগ করা হয়েছে বলে জানান তিনি।

তামরিন চৌধুরীর মতে, প্লাস্টিকের আর্দ্রতা কমানো গেলে অটোমেটেড পৃথকীকরণ ব্যবস্থার কার্যকারিতা আরও বাড়বে। বর্তমানে যেখানে প্রায় ৮০ শতাংশ পৃথকীকরণ সম্ভব হচ্ছে, সেখানে ভবিষ্যতে তা ৯৫ শতাংশ পর্যন্ত উন্নীত করা যেতে পারে। এতে প্লাস্টিকমুক্ত জৈব বর্জ্য সহজেই কম্পোস্ট বা জৈব সার উৎপাদনে ব্যবহার করা যাবে।

আরও পড়ুন

গোলটেবিল বৈঠকে বক্তারা / টেকসই প্লাস্টিক বর্জ্য ব্যবস্থাপনায় অংশীদারদের সমন্বয় জরুরি

তিনি বলেন, বর্তমানে বাংলাদেশে এমএলপি (মাল্টি-লেয়ার প্লাস্টিক), ফ্লেক্সিবল প্লাস্টিক ও ব্যবহৃত ডায়াপারের মতো নন-রিসাইকেলেবল বর্জ্য ব্যবস্থাপনার জন্য কোনো শিল্পভিত্তিক অবকাঠামো নেই। তাই এক্সটেনডেড প্রডিউসার রেসপনসিবিলিটি (ইপিআর) নীতিমালায় এসব প্লাস্টিক অন্তর্ভুক্ত করা জরুরি।

তার ভাষ্য, ইপিআর নীতিমালায় শুধু পুনর্ব্যবহারযোগ্য প্লাস্টিক নয়, পুনর্ব্যবহার অযোগ্য অংশগুলোর ব্যবস্থাপনারও সুস্পষ্ট ব্যবস্থা থাকতে হবে। এক্ষেত্রে শিল্পপ্রতিষ্ঠানগুলোর সহযোগিতা পাওয়া যাচ্ছে।

পরিবেশ অধিদপ্তরের পরিচালক (বর্জ্য ও কেমিক্যাল ব্যবস্থাপনা) রাজিনারা বেগমের সঞ্চালনায় অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন পরিবেশ অধিদপ্তরের মহাপরিচালক ড. মো. লুৎফর রহমান। পরিবেশ অধিদপ্তরের পরিচালক (আইন) খালেদ হাসান, পরিচালক (প্রাকৃতিক সম্পদ ব্যবস্থাপনা) এ কে এম রফিকুল ইসলাম, পরিচালক (পরিকল্পনা শাখা) মো. হাসান হাসিবুর রহমান, পরিচালক (আইটি) মো. সাদিকুল ইসলাম, উপ-পরিচালক (বর্জ্য ও রাসায়নিক পদার্থ ব্যবস্থাপনা) ড. আব্দুল্লাহ আল মামুনসহ পরিবেশ অধিদপ্তরের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।

এছাড়া ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের প্রধান বর্জ্য ব্যবস্থাপনা কর্মকর্তা এয়ার কমোডর মো. মাহবুবুর রহমান তালুকদার, গাজীপুর সিটি করপোরেশনের প্রধান বর্জ্য ব্যবস্থাপনা কর্মকর্তা মো. সোহেল রানা, বাংলাদেশ পেট্রোকেমিক্যাল কোম্পানি লিমিটেডের (বিপিসিএল) প্রধান নির্বাহী খাদেম ইউসুফ, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ভূগোল ও পরিবেশ বিজ্ঞান বিভাগের অধ্যাপক ড. আসিব আহমেদ, বুয়েটের আরবান ও রিজিওনাল প্ল্যানিং বিভাগের অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ শাকিল আক্তার, জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের পরিবেশ বিজ্ঞান বিভাগের অধ্যাপক আব্দুল কাদের ইবনে কামাল, বিইউপির পরিবেশ বিজ্ঞান বিভাগের সহকারী অধ্যাপক আরিফুর রহমান ভূঁইয়া, প্রাণ-আরএফএল গ্রুপের পরিচালক (বিপণন) কামরুজ্জামান কামাল ও হেড অব সাসটেইনেবিলিটি সুমাইয়া তাবাসসুম আহমেদ, জাতিসংঘ শিল্প উন্নয়ন সংস্থা (ইউনিডো) বাংলাদেশের ন্যাশনাল প্রজেক্ট কো-অর্ডিনেটর সত্য ভট্টাচার্য, ইউনিলিভার বাংলাদেশের কান্ট্রি প্রকিউরমেন্ট লিড দিলরুবা আহমেদ চৌধুরী, ব্র্যাকের পরিচালক ড. মো. লিয়াকত আলী, ব্র্যাকের বাংলাদেশ সাসটেইনেবিলিটি অ্যালায়েন্সের প্রধান সমন্বয়কারী সংকলিতা সোম, নেসলে বাংলাদেশের এইচআর ডিরেক্টর হোসনে আরা লোমা, ম্যারিকো বাংলাদেশের ডিরেক্টর (লিগ্যাল অ্যান্ড করপোরেট অ্যাফেয়ার্স) রাশেদ এহসান, ওয়েস্ট কনসার্নের কো ফাউন্ডার ও ডিরেক্টর ইফতেখার এনায়েতুল্লাহ, জাগো নিউজের সম্পাদক কে এম জিয়াউল হক, সমকালের সিনিয়র রিপোর্টার জাহিদুর রহমান প্রমুখ বৈঠকে অংশ নেন।

এসএম/এএসএ