জাতীয় অর্থনৈতিক পরিষদের নির্বাহী কমিটির (একনেক) সভায় নতুন ও সংশোধিত মিলিয়ে ৯টি উন্নয়ন প্রকল্প অনুমোদন দেওয়া হয়েছে। একই সঙ্গে প্রকল্প গ্রহণ, অনুমোদন ও বাস্তবায়নের প্রতিটি ধাপে আরো স্বচ্ছতা, জবাবদিহি, সময়ানুবর্তিতা এবং ব্যয়ের দক্ষতা নিশ্চিত করতে সংশ্লিষ্ট সংস্থাগুলোকে নির্দেশনা দিয়েছেন প্রধামন্ত্রী।
বুধবার (২২ জুলাই) বাংলাদেশ সচিবালয়ের মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের সভাকক্ষে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সভাপতিত্বে একনেক সভা অনুষ্ঠিত হয়। সভা শেষে সচিবালয়ের পিআইডি অডিটোরিয়ামে আয়োজিত ব্রিফিংয়ে পরিকল্পনা প্রতিমন্ত্রী জোনায়েদ সাকি এসব তথ্য জানান।
প্রতিমন্ত্রী বলেন, “ভোলা জেলার নদীভাঙন প্রতিরোধ প্রকল্পটি নীতিগতভাবে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। প্রকল্পটির বিভিন্ন দিক নিয়ে একনেক সভায় কিছু পর্যবেক্ষণ দেওয়া হয়েছে। এসব বিষয় বিবেচনায় নিয়ে প্রকল্পটি পুনর্গঠন করে আগামী একনেক সভায় উপস্থাপন করা হবে।”
তিনি বলেন, “উন্নয়ন প্রকল্পের ক্ষেত্রে সরকার এখন থেকে শুধু অনুমোদন নয়, বরং বাস্তবায়নের গুণগত মান, নির্ধারিত সময়ে কাজ শেষ করা এবং জনগণের অর্থের সর্বোচ্চ ব্যবহার নিশ্চিত করার ওপর গুরুত্ব দিচ্ছে। এ লক্ষ্যে প্রকল্প ব্যবস্থাপনায় আরো কার্যকর নজরদারি বাড়ানো হচ্ছে।”
প্রতিমন্ত্রী জানান, “একনেক সভায় অনুমোদিত প্রকল্পগুলোর মধ্যে রয়েছে ‘বৃহত্তর দিনাজপুরের দিনাজপুর, ঠাকুরগাঁও ও পঞ্চগড় জেলার সমন্বিত উন্নয়ন প্রকল্প’ এবং ‘পল্লী সড়ক রক্ষণাবেক্ষণ ও কর্মসংস্থান প্রকল্প’। নতুন এ দুটি প্রকল্প স্থানীয় সরকার বিভাগ বাস্তবায়ন করবে। এছাড়া ‘সর্বজনীন সামাজিক অবকাঠামো (ফেজ-২)’ প্রকল্পের প্রথম সংশোধনী এবং ‘ঘূর্ণিঝড় আশ্রয়কেন্দ্র নির্মাণ, সংস্কার ও উন্নয়ন’ প্রকল্পের দ্বিতীয় সংশোধনী প্রস্তাব অনুমোদন দেওয়া হয়েছে।
জোনায়েদ সাকি জানান, ভৌত অবকাঠামো খাতে গুরুত্বপূর্ণ প্রকল্প ‘ঢাকা-আশুলিয়া এলিভেটেড এক্সপ্রেসওয়ে নির্মাণ প্রকল্প’-এর দ্বিতীয় সংশোধনী অনুমোদন দেওয়া হয়েছে। এর আগে প্রকল্পটির প্রথম সংশোধনী অনুমোদন করা হয়েছিল। জ্বালানি খাতে ‘উন্নয়ন কূপ বেগমগঞ্জ-৫ এবং অনুসন্ধান কূপ বেগমগঞ্জ-৬ ও সুনেত্র-২ খনন’ শীর্ষক নতুন প্রকল্প অনুমোদন পেয়েছে বলেও জানান তিনি।
প্রতিমন্ত্রী জানান, সিলেট বিভাগের বিদ্যুৎ বিতরণ ব্যবস্থা উন্নয়ন প্রকল্পের তৃতীয় সংশোধনীও একনেকে অনুমোদন দেওয়া হয়েছে। প্রকল্পটির মূল কাজ শেষ হলেও কিছু আর্থিক বিল পরিশোধ এবং প্রয়োজনীয় কারিগরি ও আর্থিক সমন্বয়ের জন্য সংশোধনী আনা হয়েছে।
এছাড়া, মেডিকেল কলেজ হাসপাতালগুলোতে ৫০ শয্যাবিশিষ্ট এবং জেলা হাসপাতালগুলোতে ২০ শয্যাবিশিষ্ট ডায়ালাইসিস সেন্টার স্থাপন প্রকল্পের দ্বিতীয় সংশোধনী অনুমোদন দেওয়া হয়েছে।
জোনায়েদ সাকি বলেন, “একনেক সভায় অনুমোদিত প্রকল্পগুলোর বিষয়ে বেশ কিছু পর্যবেক্ষণ ও নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। প্রকল্পের শুরু থেকে শেষ পর্যন্ত প্রতিটি পর্যায়ে স্বচ্ছতা, জবাবদিহি এবং কার্যকর ব্যবস্থাপনা নিশ্চিত করতে হবে। প্রকল্প বাস্তবায়নে দীর্ঘসূত্রতা, অপ্রয়োজনীয় ব্যয় বৃদ্ধি এবং সময়ক্ষেপণ কমাতে সরকার বিদ্যমান প্রক্রিয়াকে আরো কার্যকর করার উদ্যোগ নিয়েছে। সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয় ও বাস্তবায়নকারী সংস্থাগুলোকে নির্ধারিত সময়ে প্রকল্পের কাজ শেষ করার পাশাপাশি গুণগত মান বজায় রাখার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।”
তিনি বলেন, “জনগণের কল্যাণে নেওয়া উন্নয়ন প্রকল্পগুলো যেন নির্ধারিত লক্ষ্য অনুযায়ী বাস্তবায়িত হয়, সে বিষয়টি সরকার সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়ে দেখছে। উন্নয়ন কর্মকাণ্ডে স্বচ্ছতা ও জবাবদিহি নিশ্চিত করার মাধ্যমে জনগণের অর্থের সঠিক ব্যবহার নিশ্চিত করা হবে।”
এ সময় উপস্থিত ছিলেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের উপ-প্রেস সচিব (ডিপিএস) মো. সুজাউদ্দৌল্লা (সুজন মাহমুদ)।








