বিশ্বকাপের গ্রুপ পর্ব থেকে বাদ গেছে ১৬টি দল। সবারই কমবেশি সমালোচনার ভেতর দিয়ে যেতে হচ্ছে। কিন্তু দক্ষিণ কোরিয়ার কোচ হং মিয়ুং-বো যেন একটু বেশিই বিপদে পড়েছেন।
দেশটির প্রেসিডেন্ট বিশ্বকাপ ব্যর্থতা তদন্তের ঘোষণা দেওয়ার পর চাকরি ছেড়ে দিয়েছিলেন হং মিয়ুং-বো। কিন্তু তাতেও বিপদ কাটছে না। দক্ষিণ কোরিয়ান গণমাধ্যমের খবরের বরাত দিয়ে ব্রাজিলের সংবাদমাধ্যম ও’গ্লোবো জানিয়েছে, ক্রমাগত প্রাণনাশের হুমকি ও তীব্র জনরোষের মুখে পড়ে শেষ পর্যন্ত দেশ ছেড়ে যুক্তরাষ্ট্রে পাড়ি জমাতে হয়েছে তাঁকে। ৫৭ বছর বয়সী হং মিয়ুং দলের সঙ্গে দেশে ফেরার মাত্র দুই দিন পরই লস অ্যাঞ্জেলেসের উদ্দেশে রওনা হয়েছেন।
বিমানবন্দরে সাংবাদিকদের এড়িয়ে যাওয়ার চেষ্টা করলেও শেষ মুহূর্তে বোর্ডিংয়ের আগে সংবাদকর্মীরা তাঁকে ঘিরে ধরেন। দলের ভেতরে অভ্যন্তরীণ কোন্দলের গুঞ্জন উড়িয়ে দিয়ে সংবাদমাধ্যমকে তিনি বলেন, ‘খেলোয়াড়দের মধ্যে কোনো অভ্যন্তরীণ সমস্যা ছিল না।’ তবে প্রাণনাশের হুমকি পাওয়ার বিষয়ে কোনো মন্তব্য করতে রাজি হননি তিনি।
বিশ্বকাপের প্রথম ম্যাচে চেক প্রজাতন্ত্রের বিপক্ষে জয় দিয়ে শুরু করলেও পরের দুটি ম্যাচে মেক্সিকো ও দক্ষিণ আফ্রিকার কাছে হেরে টুর্নামেন্ট থেকে ছিটকে যায় দক্ষিণ কোরিয়া। এর পর থেকেই হং মিয়ুং-বোর ওপর চাপ বাড়ছিল। প্রত্যাশা অনুযায়ী খেলতে না পারায় সমর্থকদের ক্ষোভের লক্ষ্যবস্তুতে পরিণত হন কোচ হং মিয়ুং। সমালোচনার পাশাপাশি প্রাণনাশের হুমকিও নাকি পাচ্ছিলেন তিনি।
হং মিয়ুং-বোর সমালোচনা শুধু অনলাইনেই সীমাবদ্ধ থাকেনি, রাজপথেও ছড়িয়ে পড়েছে। স্থানীয় সংবাদমাধ্যমে প্রকাশিত ছবিতে দেখা গেছে, বিভিন্ন ব্যবসায়িক প্রতিষ্ঠানে সাইনবোর্ড ঝুলিয়ে দেওয়া হয়েছে, যেখানে লেখা আছে এই কোচকে তাদের প্রতিষ্ঠানে স্বাগত জানানো হবে না।
জাতীয় দলের খেলোয়াড় ও কোচিং স্টাফরা যখন বিমানবন্দরে পৌঁছান, তখনো সমর্থকেরা বিক্ষোভ প্রদর্শন করেন এবং কোচের পদত্যাগের দাবিতে স্লোগান দিতে থাকেন। খেলোয়াড় হিসেবে দক্ষিণ কোরিয়ার ফুটবলের অন্যতম কিংবদন্তি হং মিয়ুং ক্লাব পর্যায়ের সফল কোচ। বড় প্রত্যাশা নিয়েই জাতীয় দলের দায়িত্ব নিয়েছিলেন তিনি, তবে বিশ্বকাপ তাঁকে বিরূপ অভিজ্ঞতাই দিয়েছে।
ক্রোয়েশিয়াকে হারানো পর্তুগালের সামনের প্রতিপক্ষ কারা







