জেলা অ্যাকাউন্টস অ্যান্ড ফিন্যান্স অফিসারের কার্যালয় থেকে বিল অনুমোদনের জন্য ঘুস দিতে হবে। এজন্য প্রতিটি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষককে গুনতে হয়েছে এক হাজার টাকা করে। এমন অভিযোগ উঠেছে ঝিনাইদহ সদর উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসার (টিইও) ও সহকারী উপজেলা শিক্ষা অফিসারের (এটিও) বিরুদ্ধে। অভিযোগ অস্বীকার করেছেন জেলা অ্যাকাউন্টস অ্যান্ড ফিন্যান্স অফিসার।
জানা যায়, ঝিনাইদহ সদর উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসের অধীন ২১৮টি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় রয়েছে। এর মধ্যে ২০২৫-২৬ অর্থবছরে বিভিন্ন খাতে ৭০ লাখ ৪৩ হাজার টাকা বরাদ্দ দেওয়া হয়। এর মধ্যে সিলিপ (স্কুল লেভেল ইমপ্রুভমেন্ট প্ল্যান) খাতে ৩৩ লাখ, ১০১টি স্কুলের ইন্টারনেট বিল বাবদ চার লাখ, পরিচ্ছন্নতা খাতে ১০ লাখ ৯৬ হাজার, কনটিনজেন্সি ছয় লাখ এবং ৯টি স্কুল মেরামত বাবদ ১১ লাখ ৪৭ হাজার টাকা বরাদ্দ দেওয়া হয়। এই টাকার বিল ভাউচার অনুমোদন নিতে ঘুস দিতে হয়েছে। এর জন্য প্রতিটি বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষকের কাছ থেকে এক হাজার টাকা করে নেওয়া হয়েছে।
একাধিক স্কুলের প্রধান শিক্ষক এমন অভিযোগ করেছেন। কিন্তু জেলা অ্যাকাউন্টস অ্যান্ড ফিন্যান্স অফিসার ইসরাইল হোসেন বুধবার যুগান্তরকে বলেন, ঘুস নেওয়ার খবর আমি জানার পর যাচাই করে দেখেছি ঘটনা সঠিক নয়। এই অফিসে সরকারি দপ্তরের বিল-ভাউচার অনুমোদন করতে কাউকে ঘুস দিতে হয় না বলে তিনি দাবি করেন। সদর উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসার মোহা. কামরুল বাশার উমর ফারুক বলেন, কে বা কারা আমাদের নাম ভাঙিয়ে অনৈতিক কাজগুলো করছে তা আমাদের জানা নেই। আমাদের কাছে কেউ অভিযোগ করেনি। অভিযোগ পেলে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে। এই দপ্তরে উচ্চমান সহকারী কাজল বিশ্বাস অভিযোগের কথা শুনে আকাশ থেকে পড়েন। তিনি বলেন, আমি কিছু জানি না। আমার কাছে কেউ টাকা দেয়নি, আমিও কারও টাকা নিইনি।
এদিকে একাধিক সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষকের পরস্পর কথোপকথনের রেকর্ড করা ফোনকল থেকে জানা যায়, উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসার মোহা. কামরুল বাশার উমর ফারুকের সরাসরি নির্দেশে এটিও মিঠুন দাস ও কয়েকজন শিক্ষক নেতা প্রতিটি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের প্রধানের কাছ থেকে এজি অফিসে ঘুস দেওয়া বাবদ ৩০ জুনের আগে এক হাজার টাকা করে আদায় করেছেন। কিন্তু শিক্ষক নেতাদের নাম স্পষ্ট করা হয়নি। অভিযোগ অস্বীকার করেছেন মিঠুন দাস (উপজলা সহকারী প্রাথমিক শিক্ষা অফিসার)। তার দাবি, বিলে স্বাক্ষর করেন উপজেলা সরকারি প্রাথমিক শিক্ষা অফিসার এবং চূড়ান্ত অনুমোদন ও চেক দিয়ে থাকে এজি অফিস। আমি আমার ক্লাস্টারের অন্তর্ভুক্ত স্কুলগুলোর বিল-ভাউচারে স্বাক্ষর দিয়ে থাকি। সূত্র জানায়, সদর উপজেলার প্রাথমিক বিদ্যালয়গুলো ৮টি ক্লাস্টারে ভাগ করে ৮ জন এটিও দিয়ে পরিচালনা করা হয়।
এদিকে ভুক্তভোগীদের দাবি-ঘটনা সত্য। চাকরির ক্ষতি, বদলি কিংবা শাস্তির ভয়ে নিরীহ শিক্ষকরা প্রকাশ্যে মুখ খুলতে চান না।








