প্রতিবন্ধী ছেলেকে কুপিয়ে ও গলা টিপে হত্যার অভিযোগে প্রতিপক্ষের ১৮ জনকে আসামি করে মামলা করেছিলেন এক ব্যক্তি। থানা-পুলিশের তদন্তে প্রতিপক্ষের সম্পৃক্ততার প্রমাণ পাওয়ার বিষয়টি আসে। কিন্তু এর এক বছর পর তদন্তভার হাতে নিয়ে পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশনের (পিবিআই) এক কর্মকর্তার মনে জাগে তিনটি প্রশ্ন। সেই প্রশ্নগুলোর উত্তর খুঁজতে গিয়েই উল্টে যায় পুরো মামলার চিত্র।

প্রায় দেড় বছরের তদন্ত, নিরপেক্ষ সাক্ষীদের গোপন জবানবন্দি, আলামত ও স্বীকারোক্তি মিলিয়ে যে চিত্র বেরিয়ে আসে, তা ছিল মামলার এজাহারের সম্পূর্ণ বিপরীত। অভিযোগের তীর প্রতিপক্ষের দিকে নয়, ঘুরে যায় নিহত তরুণের নিজের বাবা, চাচা ও তিন চাচাতো ভাইয়ের দিকে। উদ্দেশ্য ছিল প্রতিপক্ষকে একটি হত্যা মামলায় ফাঁসানো। প্রায় নয় বছর আগের এই হত্যাকাণ্ডের মামলাটি এখন আদালতে বিচারাধীন।

পিবিআইয়ের প্রধান ও পুলিশের অতিরিক্ত মহাপরিদর্শক মোস্তফা কামাল প্রথম আলোকে বলেন, তদন্তের শুরুতে যে চিত্র ছিল, শেষ পর্যন্ত সত্য ছিল তার সম্পূর্ণ বিপরীত। প্রায় দেড় বছর ধরে চলা তদন্ত শেষে মামলার চিত্র পুরোপুরি পাল্টে গেছে। যাঁরা শুরুতে বাদী ছিলেন, তাঁরাই এখন আসামি হিসেবে অভিযুক্ত।

যে তিন প্রশ্নে বদলে যায় তদন্ত

২০১৭ সালের ২৪ জুন মৌলভীবাজারের শ্রীমঙ্গলের হাজীপুর গ্রামে নিহত হন ১৮ বছর বয়সী বাক্, বুদ্ধি ও শারীরিক প্রতিবন্ধী আরিফুল ইসলাম।

হত্যাকাণ্ডের পরদিন আরিফুলের বাবা আরবেশ আলী বাদী হয়ে মামলা করেন। অভিযোগ ছিল, গ্রাম্য সংঘর্ষের সুযোগে প্রতিপক্ষের লোকজন আরিফুলকে হত্যা করেছে। মামলায় ১৮ জনের নাম দেওয়া হয়। পরে থানা-পুলিশ ১৫ জনের বিরুদ্ধে অভিযোগপত্র দেয়।

২০১৭ সালের ২৪ জুন মৌলভীবাজারের শ্রীমঙ্গলের হাজীপুর গ্রামে নিহত হন ১৮ বছর বয়সী বাক্, বুদ্ধি ও শারীরিক প্রতিবন্ধী আরিফুল ইসলাম। হত্যার পরদিনই নিহত আরিফুলের বাবা আরবেশ আলী বাদী হয়ে মামলা করেন। অভিযোগ ছিল, গ্রাম্য সংঘর্ষের সুযোগে প্রতিপক্ষের লোকজন আরিফুলকে হত্যা করেছে।

পিবিআইয়ের নথি অনুযায়ী, ঘটনার সাড়ে চার মাস পর শ্রীমঙ্গল থানা-পুলিশ আদালতে অভিযোগপত্র দেয়। এজাহারে থাকা তিনজনের নাম বাদ দিয়ে ১৫ জনকে আসামি করা হয়। তবে আরবেশ আলীর দাবি ছিল, ‘প্রকৃত’ কয়েকজন আসামিকে বাদ দেওয়া হয়েছে। এ অভিযোগে তিনি আদালতে নারাজি আবেদন করেন। পরে আদালত মামলাটির অধিকতর তদন্তের দায়িত্ব দেয় পিবিআইকে।

মামলার তদন্তভার পান পিবিআইয়ের মৌলভীবাজারের তৎকালীন পরিদর্শক মুহাম্মদ শিবিরুল ইসলাম। তিনি বর্তমানে ময়মনসিংহ রেঞ্জে কর্মরত।

মামলার নথি ঘাঁটতে গিয়ে তাঁর সামনে তিনটি প্রশ্ন দাঁড়ায়। প্রশ্নগুলো হলো—সংঘর্ষে সবচেয়ে গুরুতর আহত আরিফুলকে কেন সবার শেষে হাসপাতালে নেওয়া হয়েছিল? ইটপাটকেলের সংঘর্ষে তাঁর শরীরে ধারালো অস্ত্রের আঘাত এল কোথা থেকে? সর্বশেষ প্রশ্নটি হলো, গ্রামের সংঘর্ষে কেন লক্ষ্যবস্তু করা হলো একজন প্রতিবন্ধী তরুণকে?

এই তিন প্রশ্নের উত্তর খুঁজতে গিয়েই উন্মোচিত হয় একটি হত্যাকাণ্ডের নেপথ্য কাহিনি।

—মোস্তফা কামাল, পিবিআই প্রধানতদন্তের শুরুতে যে চিত্র ছিল, শেষ পর্যন্ত সত্য ছিল তার সম্পূর্ণ বিপরীত। প্রায় দেড় বছর ধরে চলা তদন্ত শেষে মামলার চিত্র পুরোপুরি পাল্টে গেছে। যাঁরা শুরুতে বাদী ছিলেন, তাঁরাই পরে আসামি হিসেবে অভিযুক্ত হয়েছেন।

তদন্ত কর্মকর্তা মুহাম্মদ শিবিরুল ইসলাম প্রথম আলোকে বলেন, শুরুতে মামলাটি যতটা সহজ মনে হয়েছিল, বাস্তবে ততটাই জটিল ছিল। নথি পর্যালোচনা এবং স্থানীয়দের সঙ্গে কথা বলার পর তিনটি গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন সামনে আসে, যেগুলোর উত্তর ছিল না।

এই তদন্ত কর্মকর্তা আরও বলেন, স্থানীয়দের সঙ্গে কথা বলতে গিয়ে দেখা যায়, নিরপেক্ষ সাক্ষীরা প্রকাশ্যে কিছু বলতে চাইছেন না। তাঁদের অভিযোগ, বাদীপক্ষের লোকজনের ভয়ে তাঁরা মুখ খুলতে পারছেন না। পরে কয়েকজন সাক্ষীকে গোপনে ডেকে নিরাপত্তার আশ্বাস দেওয়া হয়। তখন একে একে তাঁরা যে বর্ণনা দেন, তাতে তদন্তের মোড় ঘুরে যায়। বেরিয়ে আসে, প্রতিপক্ষ নয়, আরিফুল হত্যার নেপথ্যে ছিলেন তাঁর বাবা, চাচা ও তিন চাচাতো ভাই।

পুরোনো হত্যা মামলার প্রতিশোধ নিতে নতুন ষড়যন্ত্র

পিবিআইয়ের তদন্তে উঠে আসে, হত্যাকাণ্ডের কয়েক ঘণ্টা আগেই বসেছিল একটি গোপন বৈঠক।

ঘটনার দিন সকালে পুকুরঘাটে থালাবাসন ধোয়া নিয়ে দুই পক্ষের মধ্যে কথা–কাটাকাটি হয়। দুপুরে সেই ঘটনাকে কেন্দ্র করে হাজীপুর গ্রামের কালাম মিয়ার বাড়িতে বৈঠকে বসেন আরবেশ আলী, তাঁর ভাই ইয়াকুত মিয়া এবং ইয়াকুতের তিন ছেলে জুনায়েদ আহমদ, বেলাল (বিল্লাল) মিয়া ও তোফায়েল আহমেদ বল্লাদ।

পিবিআই বলছে, আরিফুল হত্যার পেছনে ছিল কয়েক মাস আগের একটি হত্যা মামলার জের। ২০১৭ সালের ১ এপ্রিল দায়ের হওয়া সানজাব হত্যা মামলায় আরিফুলের বাবা আরবেশ আলী এবং তাঁর ভাই ইয়াকুত মিয়ার ছেলে বেলাল মিয়া আসামি ছিলেন। ওই মামলার বাদীপক্ষের লোকজনকে ফাঁসাতেই আরিফুলকে হত্যা করে তাঁদের বিরুদ্ধে নতুন হত্যা মামলা দেওয়ার পরিকল্পনা করা হয়।

পিবিআইর তদন্তে উঠে আসে, সেই বৈঠকেই আরবেশ আলীর প্রতিবন্ধী ছেলে আরিফুল ইসলামকে লক্ষ্যবস্তু হিসেবে বেছে নেওয়া হয়। পরিকল্পনা ছিল, সন্ধ্যায় সংঘর্ষ বাধলে আরিফুলকে হত্যা করে দায় চাপানো হবে প্রতিপক্ষের ওপর।

পিবিআই বলছে, আরিফুল হত্যার পেছনে ছিল কয়েক মাস আগের একটি হত্যা মামলার জের। ২০১৭ সালের ১ এপ্রিল দায়ের হওয়া সানজাব হত্যা মামলায় আরিফুলের বাবা আরবেশ আলী এবং তাঁর ভাই ইয়াকুত মিয়ার ছেলে বেলাল মিয়া আসামি ছিলেন। ওই মামলার বাদীপক্ষের লোকজনকে ফাঁসাতেই আরিফুলকে হত্যা করে তাঁদের বিরুদ্ধে নতুন হত্যা মামলা দেওয়ার পরিকল্পনা করা হয়।

পানি চেয়েছিলেন আরিফুল, কিন্তু অপেক্ষা করছিল মৃত্যু

পিবিআইয়ের নথি বলছে, ওদিন সন্ধ্যায় দুই পক্ষের মধ্যে ইটপাটকেল নিক্ষেপ ও সংঘর্ষ শুরু হয়। পরিকল্পনা অনুযায়ী আরবেশ আলী নিজেই প্রতিবন্ধী ছেলে আরিফুলকে কোলে করে ঘর থেকে বের করে আনেন এবং সিঁড়ির কাছে ফেলে দেন।

—মুহাম্মদ শিবিরুল ইসলাম, মামলার তদন্ত কর্মকর্তা ও পিবিআই পরিদর্শকস্থানীয়দের সঙ্গে কথা বলতে গিয়ে দেখা যায়, নিরপেক্ষ সাক্ষীরা প্রকাশ্যে কিছু বলতে চাইছেন না। পরে কয়েকজন সাক্ষীকে গোপনে ডেকে নিরাপত্তার আশ্বাস দেওয়া হয়। তখন একে একে তাঁরা যে বর্ণনা দেন, তাতে তদন্তের মোড় ঘুরে যায়। বেরিয়ে আসে, প্রতিপক্ষ নয়, আরিফুল হত্যার নেপথ্যে ছিলেন তাঁর বাবা, চাচা ও তিন চাচাতো ভাই।

এরপর ইয়াকুত মিয়া বাঁশের টুকরা দিয়ে তাঁর মাথায় আঘাত করেন। মাথা ফেটে রক্তাক্ত অবস্থায় মাটিতে পড়ে যান আরিফুল।

পিবিআইয়ের নথিতে বলা হয়েছে, সে সময় আরিফুল হাত তুলে পানি চেয়েছিলেন। কিন্তু তাঁকে সাহায্য করার বদলে তাঁর বাবা লাথি মারার চেষ্টা করেন। এতে প্রতিবেশীরা বাধা দিতে এলে তাঁদের ধমক দিয়ে চুপ করিয়ে দেওয়া হয়।

খুনের পর নিজের মৃত্যুর কথা রটিয়ে উধাও আসামি ধরা পড়লেন কৌশলী ফাঁদে

হাসপাতালের পথে নয়, নির্জন চা-বাগানে

পিবিআইয়ের তদন্তে উঠে আসে, সংঘর্ষে আহত অন্যদের দ্রুত হাসপাতালে পাঠানো হয়। কিন্তু সবচেয়ে গুরুতর আহত আরিফুলকে হাসপাতালে নেওয়া হয়নি। তাঁকে প্রথমে কালাম মিয়ার বাড়ির বারান্দায় শুইয়ে রাখা হয়। সেখানেই ইয়াকুত মিয়া তাঁর তিন ছেলেকে নির্দেশ দেন—হাসপাতালে নেওয়ার পথেই আরিফুলকে হত্যা করতে হবে।

এরপর শুরু হয় পরিকল্পনার দ্বিতীয় ধাপ। ইয়াকুতের ছেলে জুনায়েদ একটি অটোরিকশা নিয়ে আসেন। আর তোফায়েল শ্রীমঙ্গল শহরে গিয়ে ১৪০ টাকা দিয়ে নতুন একটি দা কিনে আনেন।

এর কিছুক্ষণ পর আরিফুলকে অটোরিকশায় তোলা হয়। দুই পাশে বসে তাঁকে ধরে রাখেন জুনায়েদ ও বেলাল। হাসপাতালের দিকে রওনা দিলেও ভৈরবগঞ্জ বাজার পার হয়ে অটোরিকশা ঘুরিয়ে নেওয়া হয় মাজদিহি চা-বাগানের দিকে। রাত নয়টার দিকে চা-বাগানের নির্জন একটি স্থানে আরিফুলকে অটোরিকশা থেকে নামানো হয়।

পিবিআইয়ের ভাষ্য অনুযায়ী, সেখানে আরিফুলকে হত্যার পরিকল্পনা থাকলেও একটি গাড়ির আলো দেখা গেলে আরিফুলকে আবার অটোরিকশায় তোলা হয়। এরপর গিয়াসনগর এলাকায় পৌঁছানোর পর দা দিয়ে কুপিয়ে তাঁকে হত্যা করা হয়। এরপর রাত ১০টার দিকে তাঁকে মৌলভীবাজার সদর হাসপাতালে নেওয়া হয়। সেখানে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাঁকে মৃত ঘোষণা করেন।

মুঠোফোনের অ্যালার্মে খুলল চার খুনের রহস্য

জানাজার পর নীরব থাকার শপথ

তদন্তে আরও উঠে আসে, আরিফুলকে হত্যার পরদিন তাঁর জানাজায় অংশ নেন অভিযুক্তরা। জানাজা শেষে সন্ধ্যায় ইয়াকুত মিয়ার বাড়িতে জড়ো হন জুনায়েদ, বেলাল ও তোফায়েল। সেখানে তাঁরা শপথ করেন, এই হত্যাকাণ্ডের কথা জীবনে কাউকে বলবেন না। ঘটনার বিষয়ে কেউ মুখ খুললে সবার বিপদ হবে বলেও নিজেদের মধ্যে আলোচনা করেন তাঁরা।

এর কয়েক দিন পর অটোরিকশাচালক শামসুল হককেও ডেকে সতর্ক করা হয়। তাঁকে বলা হয়, ঘটনাটি প্রকাশ পেলে তিনিও মামলায় জড়িয়ে পড়বেন।

তদন্তে জানা গেছে, চুপ থাকার বিনিময়ে তাঁকে দেওয়া হয় তিন হাজার টাকা।

এক বস্তা হাড়গোড়, একটি ডিএনএ পরীক্ষা, একটি ফোনালাপে এক খুনের রহস্যভেদ

স্বীকারোক্তিতে মিলল তদন্তের সূত্র

নিরপেক্ষ সাক্ষ্য, আলামত এবং অন্যান্য তথ্যের ভিত্তিতে ২০১৮ সালের জানুয়ারিতে প্রথমে ইয়াকুত মিয়াকে গ্রেপ্তার করে পিবিআই। জিজ্ঞাসাবাদে তিনি হত্যাকাণ্ডে নিজের সম্পৃক্ততার কথা স্বীকার করেন বলে জানায় পিবিআই।

ইয়াকুতের দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে গ্রেপ্তার করা হয় জুনায়েদ আহমদ ও তোফায়েল আহমেদ বল্লাদকে। পরে তাঁরা আদালতে ফৌজদারি কার্যবিধির ১৬৪ ধারায় স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দেন।

এ ছাড়া তদন্ত চলাকালে দুই প্রত্যক্ষদর্শী সাক্ষী আবদুর রশিদ ও শিরিনা বেগমও আদালতে ১৬৪ ধারায় জবানবন্দি দেন। পাশাপাশি হত্যাকাণ্ডে ব্যবহৃত সিএনজিচালিত অটোরিকশা উদ্ধার করা হয়। এসব তথ্য-প্রমাণ বিশ্লেষণ করে পিবিআই নিশ্চিত হয়, আরিফুল হত্যার ঘটনায় প্রতিপক্ষের লোকজন নয়, বরং তাঁর বাবা, চাচা ও স্বজনেরাই জড়িত ছিলেন।

স্যুটকেসে মিলল নারীর মরদেহ, পুরোনো প্রেসক্রিপশন সন্ধান দিল খুনিদের

বাদী এবার আসামি

আরিফুল হত্যাকাণ্ডে প্রতিপক্ষ নয়, বরং আরবেশ আলী, ইয়াকুত মিয়া ও তাঁদের সহযোগীরা জড়িত— পিবিআইয়ের তদন্তে এই তথ্য উঠে আসার পর ২০১৮ সালের ২১ নভেম্বর নতুন মামলা করে পুলিশ।

শ্রীমঙ্গল থানার উপপরিদর্শক (এসআই) শাহীন মিয়ার করা এই মামলায় আরবেশ আলী, ইয়াকুত মিয়া, জুনায়েদ আহমদ, বেলাল (বিল্লাল) মিয়া, তোফায়েল আহমেদ বল্লাদ ও অটোরিকশাচালক শামসুল হককে আসামি করা হয়।

তাঁদের বিরুদ্ধে হত্যা, প্রমাণ নষ্ট এবং নিরীহ লোকজনকে ফাঁসানোর অভিযোগ আনা হয়। পরে ২০১৮ সালের ১২ ডিসেম্বর ওই মামলায় আদালতে অভিযোগপত্র জমা দেওয়া হয়।

মামলার তদন্ত কর্মকর্তা মুহাম্মদ শিবিরুল ইসলাম প্রথম আলোকে বলেন, প্রায় সাড়ে সাত বছর আগে আদালতে অভিযোগপত্র দেওয়া হলেও এখনো বিচারকাজ শেষ হয়নি। মামলাটি এখন সাক্ষ্য গ্রহণ পর্যায়ে আছে।