গত রোববারের ঘটনা। প্রধানমন্ত্রী তার গুলশানের বাসভবন থেকে যাচ্ছিলেন সচিবালয়ে। পথে দেখতে পান একটি মন্ত্রণালয় আয়োজিত কর্মসূচি উপলক্ষ্যে ব্যানার-ফেস্টুনে তার ছবি প্রদর্শিত হচ্ছে। পরে নিজ দপ্তরে গিয়ে মন্ত্রিপরিষদ সচিবকে ডেকে নির্দেশ দেন, সরকারি যে কোনো অনুষ্ঠানের প্রচারে ব্যানার-ফেস্টুন বা বিলবোর্ডে থ্রিডি কিংবা অন্য কোনো আঙ্গিকে আর প্রধানমন্ত্রীর ছবি ব্যবহার করা যাবে না। পাশাপাশি বলে দেন, প্রচারণামূলক উপকরণের নকশা এমনভাবে প্রস্তুত করতে হবে, যাতে অনুষ্ঠানের উদ্দেশ্য, বার্তা ও বিষয়বস্তু সুস্পষ্টভাবে প্রতিফলিত হয়। বিষয়বস্তুকেই সর্বাধিক প্রাধান্য দিতে হবে। অন্যকিছু নয়।
ব্যস, ঘটনা এইটুকুই। কিন্তু মাস্টার স্ট্রোক। বাতিল করে দিলেন ফ্যাসিবাদের দূষিত গলিত দুর্গন্ধময় নর্দমা। সৃষ্টি করলেন নতুন ইতিহাস। এ হলো এমন এক ইতিহাস, যা কেউ কখনো ভাবেনি, দেখেওনি।
এর আগে আরও তিনটি কাজ তিনি করে ফেলেছেন, যার ওপর আলোকপাত হয়নি। সেটা হলো অফিস-আদালত, স্কুল-কলেজ, বিশ্ববিদ্যালয়ের কর্তাদের কক্ষে আর কোনো ছবিই লটকিয়ে রাখার দরকার নেই। বিগত ১৭ বছর ধরে যে অবর্ণনীয় ব্যক্তিবন্দনা ও ছবি রাজনীতির আস্ফালন এদেশের মানুষ দেখে দেখে ধরেই নিয়েছিল হয়তো এই অসুস্থ প্রবণতাই আমৃত্যু তাদের সইতে হবে। হয়তো এটাই নিয়ম। কিন্তু সেখানেও নীরবে-নিভৃতে এক অর্থে বিপ্লব করে ফেলেছেন প্রধানমন্ত্রী। ছবি নিয়ে পাগলামি বন্ধ করে এবার দেশ গড়ার কাজে মন দেন সবাই।
সাধারণত কোনো অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রী বা প্রেসিডেন্ট বা মন্ত্রী সাহেবরা থাকলে তাদের জন্য বিশেষ ধরনের চেয়ারের ব্যবস্থা থাকত। সেই প্রথারও মূলোৎপাটন করে সবাইকে অবাক করেছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। আগে প্রধানমন্ত্রীর নাম ঘোষণার পূর্বে অর্ধকিলোমিটার দীর্ঘ বিশেষণ, উপাধি ও গুণের মাহাত্ম্য বর্ণনা করা হতো। হরপ্রসাদ শাস্ত্রী বর্ণিত এই তৈল মর্দনের কুৎসিত কসরতও তিনি বন্ধ করে দিয়েছেন। কোনো বিশেষণ নয়, এখন শুধু ‘জনাব’ কথাটি ব্যবহার হচ্ছে।
চলাফেরা ও পোশাক-আশাকে তার অনাড়ম্বরতা বিস্ময়কর। তার বিনয় ও প্রাঞ্জল রুচিস্নিগ্ধ শব্দময় ভাষণ তাকে সত্যিকার অর্থেই অন্যদের থেকে আলাদা করেছে। দিয়েছে এক ধরনের অনন্যতা।
দুই
আমাদের দেশের একজন খ্যাতিমান নাট্যকার ছিলেন এস এম সোলায়মান। তার একটি বিখ্যাত নাটক ‘ইঙ্গিত’। নাটকে দেখা যাচ্ছে, সময় ২০শে ফেব্রুয়ারি রাত ১২টা ১ মিনিট। স্থান কেন্দ্রীয় শহীদ মিনার। ফুলে ফুলে সজ্জিত ও লাল সূর্যের আলোয় আলোকিত। শহীদদের স্মৃতির প্রতি শ্রদ্ধা জানানো হবে। শ্রদ্ধা নিতে বেহেশত থেকে বহু শহীদ নেমে এসে শহীদ মিনারের মূল বেদিতে সারিবদ্ধভাবে দাঁড়িয়ে আছেন। মাইকে বাজছে ‘আমি কি ভুলিতে পারি’ গান। প্রেসিডেন্ট, প্রধানমন্ত্রী ফুল দিয়ে চলে যাওয়ার পরপরই বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের শত শত নেতাকর্মী নিজ নিজ নেতাদের ছবি নিয়ে হামলে পড়লেন মূল বেদির ওপর। শহীদ মিনারের মাথায় মাথায় নিজ নিজ নেতাদের ছবি টানানোর চলল উন্মত প্রতিযোগিতা। সে এক ভয়াবহ হুলুস্থুল ব্যাপার। কে কার আগে নিজ নিজ নেতার ছবি টানাবে এ নিয়ে তুমুল উত্তেজনা। বেহেশত থেকে আসা শহীদদের ঘাড়ে ধরে তাদের ঘাড়ে উঠে নেতাদের ছবি টানানোর সে দৃশ্য দেখে শহীদরা হতভম্ব। এর মধ্যে কাছে-ধারে ককটেল ফুটল দুই-একটা। কাঁদুনে গ্যাস। দৌড়াদৌড়ি, হুড়োহুড়িতে অনেক শহীদও আহত হয়ে বেদিতে কাতরাচ্ছেন। এর মধ্যে বেহেশত থেকে মই ফেলে দেওয়া হয়। সেই মই বেয়ে রক্তাক্ত আহত শহীদরা বেহেশতের দিকে চলে যাচ্ছেন। তখনও মাইকে গান বাজছে, ‘আমরা তোমাদের ভুলবো না’। আর শহীদরা আকাশের দিকে যেতে যেতে কেঁদে কেঁদে বলে যাচ্ছেন, আল্লাহ-রসুলের দোহাই, তোরা আমাদের ভুইলা যা।-নাটকের এখানেই যবনিকাপাত।
এস এম সোলায়মানের নাটক ইঙ্গিত আমাদের জন্য রেখে যায় অনেক ইঙ্গিত। সেই ইঙ্গিতের অন্তর্নিহিত তাৎপর্য অনুধাবনের সময় ছিল না দুঃশাসকদের। তারা আইন করে, অধ্যাদেশ জারি করে সরকারি প্রতিটি দপ্তরে, স্কুল-কলেজে, বিশ্ববিদ্যালয়ে, রাস্তাঘাটে, মাঠে-ময়দানে, কাঁচাবাজারে, ক্ষেত্রবিশেষ ওয়াশরুমের দেওয়ালেও পিতা ও কন্যার ছবি লটকাতে বাধ্য করেছিল।
আমার মনে আছে, ১৯৭২ সালের পর শেখ মুজিবের নামের আগে এক লোক বঙ্গবন্ধু বলেনি। এই অপরাধে মনুষটার জিহ্বা কেটে নেওয়া হয়েছিল। তাছাড়া নিজ নিজ আবাসস্থলেও তার ছবি ঝুলিয়ে রাখার অলিখিত আইন ছিল। ছবি না টানালে নির্ঘাত বিপদে পড়তে হতো।
ছবি সম্পর্কে এলিয়ট এরউইট বলে গেছেন, ছবি হলো অতীত দেখার জানালা, একই সঙ্গে তা ভবিষ্যতের দিকে তাকানোর সুযোগ করে দেয়।
দুঃখজনক হলেও সত্য, আওয়ামী শাসকরা আমাদের অতীতের অন্ধকার ঘরেই আটকে রেখেছিল। বন্ধ করে দিয়েছিল ভবিষ্যৎ দেখার সুযোগ।
ছবি রাখার সেই অন্ধকার সময় থেকে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান জাতিকে উদ্ধার করে এনেছেন। আর চারদিকে এখন ঝলমল করছে সকালের রোদ। আর বহুকাল ধরে আমাদের জনগণের মনে যে স্বপ্নের প্রধানমন্ত্রীর ছবি আঁকা, ধীরে ধীরে তা এখন বাস্তবে ধরা দিচ্ছে।
তিন
প্রধানমন্ত্রীর দৈনন্দিন জীবন, তার কর্মপদ্ধতি, বাইরে থেকে জানা বা যাচাই-বাছাই করা কষ্টসাধ্য বিষয়। তবুও যতটুকু ব্যক্তিগতভাবে আমার নজরে পড়েছে, সেসব নিয়ে কিছু কথা না বললেই নয়। তবে শুধু দ্রুতরেখ স্কেচমাত্র, বিস্তারিত নয়।
প্রথমে চমকে যাই যখন তিনি সরকারি গাড়ি ব্যবহার করতে মানা করে দিলেন। তিনি ব্যবহার করছেন নিজের গাড়ি, গাড়ির জ্বালানি ও ড্রাইভারের বেতন নিজের পকেট থেকে দিচ্ছেন। তার বাসভবনে সাধারণত যারা কাজকর্ম করেন, তাদের বেতন-ভাতাদি সরকারি ফান্ড থেকে যায়। এখানেও তিনি ব্যতিক্রম, তাদের সব দায়দায়িত্ব নিজেই মেটান। রাস্তাঘাটে চলাচলের সময় প্রধানমন্ত্রীর যে সুবিধা পেতেন, অর্থাৎ রাস্তাঘাট বন্ধ করার সংস্কৃতি ইত্যাদি তিনি বাতিল করে নেমে এলেন সাধারণ মানুষের কাতারে। ৩০/৪০টা গাড়ির যে বহর চলে এসেছে প্রধানমন্ত্রীর কনভয়ে-সেটাও খারিজ। সর্বোচ্চ ৫ থেকে ৬টা দরকারি গাড়ি শুধু এখন তার চলার সঙ্গী।
ব্যক্তিবন্দনার নামে যেসব স্তুতি প্রচলিত ছিল এতদিন-তিনি সেটাও বাতিল করে দিয়েছেন। প্রধানমন্ত্রীর নিরাপত্তার কৌশলেও পরিবর্তন এনেছেন। তিনি পরিষ্কার করে বলেছেন, নিরাপত্তা দেওয়ার নামে আমাকে জনগণ থেকে দূরে ঠেলে দেবেন না।
সংসদে ডিনারের নামে ৫০ লাখ থেকে ১ কোটি টাকা খরচ হতো, তিনি তা অদরকারি বলে নাকচ করে দিয়েছেন। দুপুরের খাবার ও নাশতার নামে যে ৮০০ থেকে ১০০০ টাকা খরচের রেওয়াজ ছিল, তিনি তা প্রত্যাখ্যান করে ১৫০ টাকায় নামিয়ে এনেছেন।
তিনি তার প্রাপ্য বেতন থেকে ১০% প্রতিমাসে সরকারের কোষাগারে জমা দেন। এখন তার পথ ধরে অনেক মন্ত্রীও সরকারি গাড়ি বাদ দিয়ে নিজেদের গাড়িই ব্যবহার শুরু করেছেন। তারাও বেতনের ১০% টাকা রাষ্ট্রীয় কোষাগারে জমা দেন।
তিনি টুথপেস্ট থেকে শুরু করে সব প্রসাধনসামগ্রী ও ওষুধপত্র ব্যবহারের ক্ষেত্রেও পরিপূর্ণভাবে বাংলাদেশি পণ্যে নির্ভর করেন। বিদেশে নির্বাসনে থাকার সময়েও তিনি তাই করতেন। লিফট থেকে শুরু করে যেসব পণ্য বাংলাদেশ উৎপাদন করে, তিনি সেগুলো ব্যবহারে জোর দিয়েছেন।
সকাল সাড়ে ৭ থেকে ৮টার মধ্যে নাশতা সেরে বাসভবন ছেড়ে সচিবালয়ের পথে চলে যান। পৌনে ৯টার মধ্যে পৌঁছেন নিজ দপ্তরে। সাধারণত রাত ১০টা-সাড়ে ১০টা পর্যন্ত অফিস করেন।
বিরোধী দল ও সংসদে বিরোধী নেতার প্রতি যে সৌজন্য তিনি দেখিয়ে যাচ্ছেন, তা রীতিমতো আন্তরিকতাপূর্ণ। বিরোধী দলের নেতার এলাকার সমস্যা দেখার জন্য দুই মন্ত্রী পাঠিয়ে সবাইকে আপ্লুত করেছেন।
প্রতিষ্ঠানের নামকরণের ক্ষেত্রেও যে বিচক্ষণতা ও ঔদার্য তিনি দেখাচ্ছেন, তা ঈর্ষণীয় সৌন্দর্যে উদ্ভাসিত। নাম বদলের সব প্রস্তাব তিনি ফিরিয়ে দিয়েছেন। তার কাছে এগুলো ব্যাড প্র্যাকটিস। অপ্রয়োজনীয়ও বটে।
বিদেশে মানবসম্পদ প্রেরণের যে জটিলতা ছিল, সেখানে একজন শ্রমিকের ১৫ থেকে ২০ লাখ টাকা গচ্চা যেত, তা বন্ধ করে তিনি চালু করেছেন শ্রমিক ঋণ। এখন থেকে প্রতিজন শ্রমিক বিদেশ যাওয়ার খরচ বাবদ ৩ লাখ টাকা ঋণ পাবেন। এই ঋণ তিনি বিদেশে কাজ করে পর্যায়ক্রমে পরিশোধ করবেন। এটা আমাদের দেশের জন্য অভাবনীয় খবর। তেমনই আরেকটি খবর হলো শিক্ষা ঋণ। এখন থেকে দরিদ্র ছাত্রদের নিজেদের পড়াশোনা চালিয়ে যেতে যাতে কোনো সমস্যায় পড়তে না হয়, সেজন্য চালু হয়েছে এই ঋণ। ছাত্ররা কর্মজীবনে প্রবেশের পর এই ঋণ ধীরে ধীরে পরিশোধ করবে।
আগে প্রধানমন্ত্রীর বিদেশ যাত্রার বহরে ৮০ থেকে ১০০ জন থাকতেন সফরসঙ্গী। অদরকারি এই সঙ্গী বহন তিনি বন্ধ করে কমিয়ে দিয়েছেন ৩০ জনেরও নিচে। এছাড়া আমলা বা সচিবরা সফরসঙ্গী হলে টিএডিএসহ ২ লাখ থেকে ৫ লাখ টাকা পেতেন। জনাব তারেক রহমান এই নিয়ম খারিজ করে দিয়েছেন।
শুনেছি খলিফা উমরের উদ্ধৃতি দিয়ে তিনি নিকটজনদের বলেন, দেশের একটা প্রাণীও যদি কষ্ট পায়, না খেয়ে থাকে, সে দায়ও আমার। তিনি বলেন, মানুষের পক্ষে তো কেউ না কেউ দাঁড়ায়; কিন্তু অবোধ প্রাণী ও পাখিদের পাশে দাঁড়ানোর মতো তেমন কেউ নেই।
বিদেশ সফর থেকে শুরু করে সব ক্ষেত্রে তিনি অপচয়ের পথ রুদ্ধ করে দিয়েছেন।
তার নির্বাচনি অঙ্গীকার মোতাবেক ইতোমধ্যে তিনি ফ্যামিলি কার্ড, কৃষক কার্ড, স্বাস্থ্য কার্ড, ধর্মীয় ইমাম-মুয়াজ্জিন, পুরোহিত ও পাদরিদের বেতন চালু করেছেন। চালু করেছেন ওয়ান ট্যাব ওয়ান টিচার। কৃষকদের ১০ হাজার টাকা পর্যন্ত ঋণ মাফ করে দেওয়া হয়েছে। জানা যায়, প্রায় ১২ লাখ কৃষক ইতোমধ্যে এই সুবিধা পেয়েছেন।
কমলকুঁড়ি স্পোর্টস চালু করে লাখ লাখ খুদে ছাত্রছাত্রীর জন্য নতুন দিগন্ত খুলে দিয়েছেন। খুদে বৈজ্ঞানিক প্রকল্পও আরেকটি উজ্জ্বল নিদর্শন। পড়াশোনায় প্রচলিত পদ্ধতির সঙ্গে বাড়তি একটা ভাষা শিক্ষার কার্যক্রম চালু হতে যাচ্ছে।
‘নজরুলবর্ষ’ তার আরেক চমক। তার নজরুল নিয়ে আগ্রহ ও মনোযোগ দেশপ্রেমিক ও বোদ্ধা মানুষকে অনুপ্রাণিত করেছে। তিনি অন্য অনেক কথার পরে একটি বিশেষ বাক্য ব্যবহার করে আমার মতো অনেককে শিহরিত করেছেন, ‘নজরুল হলেন বাংলাদেশের মন।’ এই কথার তাৎপর্য অসীম। সেই অসীম স্পর্শ করে প্রধানমন্ত্রী উচ্চারণ করেন,
‘গাহি সাম্যের গান
মানুষের চেয়ে বড় কিছু নাই নহে কিছু মহিয়ান।’
দেশ ও জনগণের উদ্দেশ্যে জাতীয় কবির এই কাব্যাংশ ছড়িয়ে তিনি যেন বলেন, জাতিকে বিভেদ, হানাহানির মধ্যে নিক্ষেপ করার দিন শেষ। এখন ঐক্যবদ্ধভাবে, প্রীতি, সম্প্রীতি, সমঝোতা ও সমন্বয়ের মাধ্যমে সামনে এগিয়ে যাওয়ার সময়। কারণ, তার শেষ লক্ষ্য একটিই-সুখী-সমৃদ্ধ গণতান্ত্রিক বাংলাদেশ। এজন্যই হয়তো বারবার উচ্চারণ করেন-সবার আগে বাংলাদেশ। এজন্যই তিনি জুলাই যোদ্ধাদের প্রতি শ্রদ্ধাশীল।
চার
এভাবে প্রতিদিন তিনি নিজেকে অতিক্রম করে যাচ্ছেন। আর বদলে যাচ্ছে প্রিয় জন্মভূমি। এ কথা এখন নিঃসন্দেহে বলা যায়, তিনি তার মহান পিতা-মাতার প্রদর্শিত পথেই এগিয়ে যাচ্ছেন। তার লক্ষ্য ও উদ্দেশ্য পরিষ্কার।
কিন্তু কিছু রাজনীতিক, বুদ্ধিজীবী, আমলা ও বিএনপির একশ্রেণির নেতাকর্মী তার ভদ্রতা, শিষ্টাচার, রুচি ও নির্ঘুম কর্মতৎপরতা অনুধাবন করতে ব্যর্থ। তারা হীনস্বার্থে এখানে-ওখানে কিছু অন্যায় ও অপকর্ম করে তার পরিচ্ছন্ন ইমেজকে প্রশ্নবিদ্ধ করার অপচেষ্টায় লিপ্ত। এসব পোকামাকড় সম্পর্কে সতর্ক না হলে দেশ ও জাতির অপূরণীয় ক্ষতি হয়ে যেতে পারে।
কবি আহসান হাবীব লিখেছেন,
‘জানতাম না তো সূর্যমুখীর নয়নের আলো কেড়ে
তারই ছায়াতলে কোটি কোটি কীট দিনে দিনে ওঠে বেড়ে।’
এই কীটপতঙ্গগুলোকে সুপথে আনতে হবে। মেরামতের অযোগ্য হলে কঠোর পথ বেছে নিতে হবে। প্রদীপের নিচের অন্ধকারও দূর করতে হবে। কারণ, ইতিহাস আমাদের জাতিকে দাঁড় করিয়ে দিয়েছে এক অগ্নিপরীক্ষায়। এই পরীক্ষায় ৯৯ পেলেও ফেল।
এমতাবস্থায় তারেক রহমানের নেতৃত্বে পুরো জাতি লুক ফরওয়ার্ড মুডে আছে। স্বপ্নের মঞ্জিলে আমাদের পৌঁছতেই হবে। প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের অভিপ্রায়কে অন্তরস্থ করে তার দিনবদলের সংগ্রামে নিজেদের শামিল করাই এখন সময়ের দাবি।








