ফরিদপুরের আলফাডাঙ্গায় পূর্বশত্রুতার জেরে ২৬ জুন কলেজছাত্র সুমন শেখকে কুপিয়ে হত্যার জেরে এখনো পরিস্থিতি উত্তপ্ত। উপজেলার বড়ভাগ গ্রামের ১৭টি পরিবারসহ কয়েকশ মানুষ বাড়িঘর ছেড়ে পালিয়ে গেছেন। ১২ দিন ধরে প্রতিপক্ষের ঘরবাড়িতে হামলা, ভাঙচুর ও লুটপাট চলছে। এজন্য সুযোগসন্ধানীদের দায়ী করছেন গ্রামবাসী।
পুলিশ, নিহতের স্বজন ও স্থানীয়দের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, ২৬ জুন বড়ভাগ গ্রামের দিনমজুর আলাউদ্দিন শেখের ছেলে কলেজছাত্র সুমন শেখকে পূর্বশত্রুতার জেরে কুপিয়ে হত্যা করা হয়। এ ঘটনায় নিহতের ভাই শামীম শেখ আলফাডাঙ্গা থানায় ১৭ জনকে আসামি করে মামলা করেন। হত্যাকাণ্ডের পর অভিযুক্ত হোসাইন শেখ, এনায়েত, জনি, কবির, মন্টুসহ ১০টি বাড়িতে হামলা চালানো হয়। ১২ দিন ধরে আসামিদের বাড়িতে হামলা-লুটপাটের পাশাপাশি যারা ঘটনার সঙ্গে জড়িত নয়, তাদের বাড়িতেও হামলা-লুটপাট চালানো হচ্ছে।
এ হত্যাকাণ্ডে জড়িত একজনকে পুলিশ গ্রেফতার করেছে। তবে বেশির ভাগ আসামি গ্রেফতার না হওয়ায় স্থানীয়রা ক্ষুব্ধ হয়েছেন। আর এ পরিস্থিতির সুযোগ নিচ্ছে কিছু মানুষ। স্থানীয় কয়েকজন জানান, হত্যাকাণ্ডের জেরে এতদিন হামলা ও লুটপাট চলায় গ্রামের হাজারো মানুষ আতঙ্কে দিন কাটাচ্ছেন। দিনে গ্রামে শান্ত অবস্থা বিরাজ করলেও রাতে নেমে আসে ভীতিকর পরিস্থিতি। সোমবার সরেজমিন গেলে নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক কয়েকজন জানান, খুনের ঘটনার পর আসামি ও তাদের পরিবারের সদস্যরা বাড়িঘর ছেড়ে যাওয়ার পর প্রতিপক্ষ হামলা চালায়। কয়েকটি ভবনের বেশির ভাগই গুঁড়িয়ে দেওয়া হয়েছে। ভাঙচুর ছাড়াও ঘরের দরজা, জানালাসহ সব মালামাল লুট করে নেওয়া হয়েছে। বাড়িগুলো ধ্বংসস্তূপে পরিণত হয়েছে।
কয়েকজন আসামির স্বজন অভিযোগ করেন, খুনের সঙ্গে তারা জড়িত না থাকলেও কেবল প্রতিহিংসার কারণে তাদের সবকিছু শেষ করে দেওয়া হয়েছে।
স্থানীয়দের কয়েকজন জানান, খুনের সঙ্গে জড়িত ছাড়াও নিরীহ কিছু মানুষের বাড়িতে হামলা-লুটপাট হচ্ছে। মূলত রাতে তৃতীয়পক্ষ এমন সুযোগ নিচ্ছে। এতে গ্রামজুড়ে আতঙ্ক বিরাজ করছে।
নিহত সুমন শেখের ভাই শামীম দাবি করেন, তাদের পরিবারের কেউই প্রতিপক্ষের বাড়িঘরে হামলা-লুটপাটের সঙ্গে জড়িত নয়। স্থানীয় বিক্ষুব্ধরা এসব করছে। যারা সুমন শেখের হত্যার বিচার চায় না, তারাই হামলা-লুটপাট করে থাকতে পারে।
এ বিষয়ে সহকারী পুলিশ সুপার (মধুখালী সার্কেল) মো. আজম খান জানান, হত্যাকাণ্ডের ঘটনাটি গুরুত্ব দিয়ে তদন্ত করা হচ্ছে। আসামিদের গ্রেফতারে সর্বোচ্চ চেষ্টা চালানো হচ্ছে। তিনি বলেন, যারা হত্যার সঙ্গে জড়িত, তারা যেমন অপরাধী; তেমনই বাড়িঘরে হামলা চালিয়ে ভাঙচুর ও লুটপাটের সঙ্গে জড়িতরাও অপরাধী। এ বিষয়ে পুলিশের তরফ থেকে কাউকেই ছাড় দেওয়া হবে না। তবে তিনি দাবি করেন, গ্রামজুড়ে দিনরাত পুলিশের টহল রয়েছে।








