বিশ্বকাপের নকআউট পর্বের সৌন্দর্যই হলো, এখানে এক মুহূর্তে নায়ক বদলে যায়, এক সিদ্ধান্তে ভেঙে যায় একটি জাতির স্বপ্ন। উত্তর আমেরিকার গ্রীষ্মের দুপুর ও বিকালের গরমে অনুষ্ঠিত বুধবারের ম্যাচগুলো (স্থানীয় সময় অনুযায়ী) ছিল ঠিক তেমনই-নাটক, প্রত্যাবর্তন, বিতর্ক আর হৃদয়ভাঙার এক ফুটবল-উপাখ্যান। ইংল্যান্ড, বেলজিয়াম ও যুক্তরাষ্ট্র শেষ ষোলো নিশ্চিত করেছে, কিন্তু তাদের তিনটি জয় এসেছে তিন ভিন্ন গল্পের ভেতর দিয়ে। দিনের সবচেয়ে কঠিন পরীক্ষায় পড়েছিল ইংল্যান্ড। দ্বিতীয় বিশ্বকাপ খেলতে আসা ডিআর কঙ্গো প্রথমার্ধেই এগিয়ে গিয়ে ইংলিশদের চাপে ফেলে দেয়। দীর্ঘ সময় পর্যন্ত মনে হচ্ছিল, ১৯৬৬ সালের পর আরেকটি বিশ্বকাপ জয়ের স্বপ্ন হয়তো আরও একবার ভেঙে যাবে। কিন্তু বড় খেলোয়াড়রা বড় মঞ্চেই নিজেদের প্রমাণ করেন। শেষ ১৫ মিনিটে অধিনায়ক হ্যারি কেইন জোড়া গোল করে ম্যাচ ঘুরিয়ে দেন। বিশেষ করে শেষ দিকের গোলটি শুধু ইংল্যান্ডকে শেষ ষোলোয় তোলেনি, দলটিকে বড় ধরনের অঘটনের হাত থেকেও রক্ষা করেছে। এখন তাদের সামনে অপেক্ষা করছে মেক্সিকোর কঠিন পরীক্ষা।

তবে দিনের সবচেয়ে আলোচিত ম্যাচ ছিল বেলজিয়াম ও সেনেগালের লড়াই। এক সময় ২-০ গোলে এগিয়ে থাকা সেনেগাল প্রায় নিশ্চিত জয় দেখছিল। হাবিব দিয়ারা ও ইসমাইলা সারের গোলে আফ্রিকার প্রতিনিধিরা ম্যাচের নিয়ন্ত্রণ নিজেদের হাতে রেখেছিল দীর্ঘ সময়। কিন্তু শেষ কয়েক মিনিটে বদলে যায় সবকিছু। ৮৬ মিনিটে রোমেলু লুকাকুর গোল বেলজিয়ামকে ম্যাচে ফেরায়। নির্ধারিত সময়ের একেবারে শেষ মুহূর্তে ইউরি টিলেমানসের হেডারে সমতা ফেরে। অতিরিক্ত সময়েও দুই দল সমানতালে লড়াই চালায়। কিন্তু ম্যাচের ভাগ্য নির্ধারণ করে একটি বিতর্কিত মুহূর্ত। বক্সের ভেতরে টিলেমানসকে ফেলে দেওয়ার অভিযোগে সেনেগালের লামিন কামারার বিরুদ্ধে পেনালটি দেন রেফারি। রিপ্লেতেও সিদ্ধান্তটি নিয়ে প্রশ্ন ওঠে। অনেক বিশ্লেষকের মতে, এটি ছিল খুবই স্বাভাবিক সংস্পর্শ, যেখান থেকে পেনালটি না দিলেও চলত। সেই সুযোগ থেকেই ১২৫ মিনিটে জয়সূচক গোল করে বেলজিয়াম। সেনেগালের খেলোয়াড়দের হতাশা ছিল স্পষ্ট। ম্যাচজুড়ে দারুণ ফুটবল খেলেও শেষ পর্যন্ত একটি বিতর্কিত সিদ্ধান্ত তাদের বিশ্বকাপ স্বপ্ন শেষ করে দেয়। নকআউট ফুটবলের নির্মম বাস্তবতা যেন আবারও সামনে এলো-ভালো খেলাই সব সময় জয়ের নিশ্চয়তা নয়।

দিনের শেষ ম্যাচে স্বাগতিক যুক্তরাষ্ট্র তুলনামূলক নিয়ন্ত্রিত ফুটবল খেলেই ২-০ গোলে হারায় বসনিয়াকে। ফ্লোরিয়ান বালোগান প্রথমার্ধে গোল করে দলকে এগিয়ে দেন। পরে তিনি লাল কার্ড দেখলেও দশজনের দল নিয়ে যুক্তরাষ্ট্র দারুণ শৃঙ্খলা বজায় রাখে। শেষ দিকে মালিক টিলম্যানের দুর্দান্ত ফ্রি-কিক স্বাগতিকদের জয় নিশ্চিত করে। এই জয়ের ফলে শেষ ষোলোয় আবারও মুখোমুখি হচ্ছে বেলজিয়াম ও যুক্তরাষ্ট্র-২০১৪ বিশ্বকাপের স্মরণীয় লড়াইয়ের পুনরাবৃত্তি।