ফুটবল বিশ্বকাপ মানেই কোটি কোটি মানুষের নির্ঘুম রাত, আনন্দ-বেদনার মহাকাব্য। মাঠের ভেতরে ফুটবলাররা যখন পায়ের জাদুতে বিশ্ব জয় করতে চান, মাঠের বাইরে ভক্তরা তখন প্রিয় দলের সমর্থনে নামেন ভালোবাসার এক দারুণ প্রদর্শনীতে। বাংলাদেশ থেকে আর্জেন্টিনা, নাইজেরিয়া থেকে মেক্সিকো—বিশ্বকাপের মঞ্চে ভক্তদের এমন কিছু অবিশ্বাস্য ও অদ্ভুত পাগলামির গল্প নিচে তুলে ধরা হলো, যা ফুটবল ইতিহাসের অংশ হয়ে গেছে।
জমি বিক্রি করে সাড়ে সাত কিলোমিটার পতাকা: বাংলাদেশের আমজাদ হোসেন
বিশ্বকাপ ফুটবলকে কেন্দ্র করে ভক্তদের উন্মাদনার তালিকায় বাংলাদেশের নাম এখন বিশ্বজুড়ে সমাদৃত। এর সবচেয়ে বড় উদাহরণ মাগুরার কৃষক আমজাদ হোসেন। জার্মানি ফুটবল দলের এই পাঁড় ভক্ত ২০০৬ সাল থেকে প্রিয় দলের সমর্থনে বিশাল পতাকা তৈরি করে আসছেন।
২০১৪ সালে ৩.৫ কিলোমিটার দীর্ঘ পতাকা বানাতে তিনি তাঁর ২০ শতাংশ জমি বিক্রি করেন। এরপর ২০১৮ এবং সর্বশেষ ২০২৬ সালের বিশ্বকাপেও তিনি তাঁর শেষ সম্বল জমি বিক্রি করে পতাকার দৈর্ঘ্য বাড়াতে থাকেন, যা বর্তমানে প্রায় ৭.৫ কিলোমিটারে গিয়ে ঠেকেছে। তাঁর এই আত্মত্যাগ দেখে ২০১৪ সালে ঢাকার জার্মান দূতাবাস তাঁকে বিশেষভাবে পুরস্কৃত করে এবং জার্মানি জাতীয় ফুটবল দলের অফিশিয়াল ফ্যান ক্লাবের আজীবন সদস্যপদ প্রদান করে।
বেতন পান না কোচ, নিজেরাই খাবার কিনে খাচ্ছেন সেনেগাল দলের খেলোয়াড়েরা
প্রিয় দলের জন্য সাইকেলে মহাদেশ পাড়ি: স্পেনের সান্তিয়াগো সানচেজ
২০২২ সালের কাতার বিশ্বকাপে প্রিয় দল স্পেনকে গ্যালারিতে বসে সমর্থন জোগাতে এক অবিশ্বাস্য যাত্রা শুরু করেছিলেন সান্তিয়াগো সানচেজ। স্পেনের মাদ্রিদ থেকে কাতারের রাজধানী দোহা—প্রায় সাত হাজার কিলোমিটারের এই দীর্ঘ পথ তিনি হেঁটে এবং সাইকেল চালিয়ে পাড়ি দেওয়ার সিদ্ধান্ত নেন। ৯ মাসের এই দীর্ঘ যাত্রায় তিনি ফ্রান্স, ইতালি, গ্রিস, তুরস্ক ও ইরাক হয়ে কাতারে পৌঁছান। শুধু প্রিয় ফুটবল দলটির প্রতি ভালোবাসার টানে এক মহাদেশ থেকে আরেক মহাদেশে যাওয়ার এমন রোমাঞ্চকর রেকর্ড ফুটবল বিশ্বে বিরল।
বিশ্বকাপের গ্রুপ পর্বে কোন দল সবচেয়ে বেশি ফাউল করেছে, সবচেয়ে ভদ্র কারাজমানো টাকা দিয়ে ২,৭০০ মাইল হেঁটে ব্রাজিলে
২০১৪ সালের ব্রাজিল বিশ্বকাপে প্রিয় দল চিলিকে সমর্থন করতে অভাবনীয় এক ঘটনা ঘটান চিলির আলভারো জুনিগা। বিমানের টিকিট কাটার সামর্থ্য না থাকায় তিনি হেঁটে ব্রাজিল যাওয়ার সিদ্ধান্ত নেন। এ জন্য ব্যয় করেন তাঁর জমানো সব টাকা। বিশেষ একটি ব্যাকপ্যাক নিয়ে চিলির সান্তিয়াগো থেকে ব্রাজিলের রিও ডি জেনিরো পর্যন্ত প্রায় ২ হাজার ৭০০ মাইল (৪,৩০০ কিলোমিটার) পথ হেঁটে যান সান্তিয়াগো। মাঝে কিছু জায়গায় লরির সাহায্যও নিয়েছেন তিনি। দীর্ঘ তিন মাসের এই বিপজ্জনক ও ক্লান্তিকর যাত্রা শেষে তিনি যখন ব্রাজিলের স্টেডিয়ামে পৌঁছান, তখন চিলির জাতীয় দল তাঁকে বিশেষভাবে স্বাগত জানিয়েছিল।
৩ হাজার মাইল গাড়ি চালিয়ে বিশ্বকাপে মরক্কোর তিন বন্ধু
দীর্ঘ ২০ বছর পর ২০১৮ সালের রাশিয়া বিশ্বকাপে খেলার সুযোগ পায় মরক্কো। ঐতিহাসিক এই মুহূর্ত মাঠে বসে দেখার জন্য মরক্কোর তিন বন্ধু আদিল, ইউসেফ ও কাসেম কোনো বিমানের টিকিট না কেটে একটি পুরোনো ল্যান্ড রোভার গাড়ি নিয়ে রাশিয়ার উদ্দেশে রওনা হন। মরক্কোর কাসাব্লাঙ্কা থেকে শুরু করে ফেরি দিয়ে ভূমধ্যসাগর পার হয় তাঁদের গাড়ি। তারপর স্পেন, ফ্রান্স, জার্মানি, পোল্যান্ড হয়ে প্রায় তিন হাজার মাইল পথ গাড়ি চালিয়ে রাশিয়ার সেন্ট পিটার্সবার্গে পৌঁছান তিন বন্ধু। দীর্ঘ এই যাত্রায় তাঁদের গাড়ির পেছনে মরক্কোর বিশাল পতাকা লাগানো ছিল।
আর্লিং হলান্ড কেন নরওয়ের হয়ে খেলেন







