নেত্রকোনার মোহনগঞ্জে হাওর থেকে জব্দ করা নিষিদ্ধ খনা জাল ও নৌকা পুলিশ তদন্ত কেন্দ্র থেকে ছিনিয়ে নিয়েছেন জেলেরা। এ ঘটনায় ১,১৬৫ জেলের বিরুদ্ধে মামলা হয়েছে। ইতিমধ্যে দুই জেলেকে গ্রেপ্তার করে আদালতে পাঠিয়েছে পুলিশ। আজ মঙ্গলবার মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা মোহনগঞ্জ থানার উপ-পরিদর্শক (এসআই) মাহমুদুল হাসান বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।
গ্রেপ্তার ব্যক্তিরা হলেন উপজেলার মাঘান কুড়েরপাড় এলাকার জাকির (২২) ও মামুন (২৪)।
পুলিশ জানায়, গত সোমবার রাতে পুলিশ বাদী হয়ে মামলা করে। মামলায় ৬৫ জনের নাম উল্লেখ করে অজ্ঞাত আরও ১,১০০ জনকে আসামি করা হয়েছে।
স্থানীয় সূত্র ও পুলিশ জানায়, গত শনিবার বিকেলে উপজেলার ডিঙ্গাপোতা হাওরে অভিযান চালিয়ে মোহনগঞ্জ থানার অধীন আদর্শনগর পুলিশ তদন্ত কেন্দ্রের সদস্যরা বিশাল আকৃতির চারটি নিষিদ্ধ খনা জাল ও দুটি নৌকা জব্দ করেন। একেকটি খনা জালের দৈর্ঘ্য ২ হাজার ৫০০ ফুট। পরে জব্দ করা জাল ও নৌকা তদন্ত কেন্দ্রে রাখা হয়।
অভিযোগ রয়েছে, পরদিন রোববার দুপুরে কয়েকশ জেলে সংঘবদ্ধ হয়ে আদর্শনগর পুলিশ তদন্ত কেন্দ্রে গিয়ে জব্দ করা জাল ও নৌকা নিয়ে যান। পরে সোমবার হাওরে অভিযান চালিয়ে একটি খনা জাল উদ্ধার করে পুলিশ।
এ ঘটনায় আদর্শনগর পুলিশ তদন্ত কেন্দ্রের ইনচার্জ উপপরিদর্শক (এসআই) রাসেল পারভেজ বাদী হয়ে ৬৫ জনের নাম উল্লেখ করে এবং অজ্ঞাত আরও ১ হাজার ১০০ জনকে আসামি করে মামলা করেন।
মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা এসআই মাহমুদুল হাসান বলেন, `মামলায় দুইজনকে গ্রেপ্তার করে আজ আদালতে পাঠানো হয়েছে। অন্য আসামিদের গ্রেপ্তারে অভিযান চলছে। মামলার তদন্ত চলমান। তদন্ত শেষে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।'
সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, সম্প্রতি মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ প্রতিমন্ত্রী সালাহ উদ্দিন টুকু এবং স্থানীয় সংসদ সদস্য লুৎফুজ্জামান বাবরের উদ্যোগে মদন, মোহনগঞ্জ ও খালিয়াজুরীর হাওরে ৭৫ হাজার মাছের পোনা অবমুক্ত করা হয়। পোনাগুলো বড় হওয়ার আগ পর্যন্ত নিষিদ্ধ জাল দিয়ে মাছ ধরা থেকে বিরত থাকতে স্থানীয়ভাবে আহ্বান জানানো হয়।
স্থানীয় জেলেদের দাবি, সরকারি নিষেধাজ্ঞার মেয়াদ গত ২৮ জুন শেষ হয়েছে। ফলে তারা বৈধভাবে মাছ ধরার অধিকার ফিরে পেয়েছেন। এ কারণে স্থানীয়ভাবে আরোপিত নিষেধাজ্ঞা মানতে তারা অনীহা প্রকাশ করছেন। বিষয়টি নিয়ে জেলে ও স্থানীয় প্রভাবশালী ব্যক্তিদের মধ্যে কয়েক দফা উত্তেজনা ও বাগ্বিতণ্ডার ঘটনাও ঘটেছে।
প্রশাসনের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, হাওরের মৎস্যসম্পদ রক্ষায় এবং দেশীয় মাছের বিস্তার বাড়াতে নিষিদ্ধ জালের বিরুদ্ধে অভিযান অব্যাহত থাকবে।








