‘পূর্ণিমার রাতে, পরমের সাথে’—এই প্রতিপাদ্য সামনে রেখে ময়মনসিংহে আধ্যাত্মিক ভাবধারা ও সুফিবাদী গানের এক আসর অনুষ্ঠিত হয়েছে। গতকাল মঙ্গলবার মহররম মাসের পূর্ণিমার রাতে নগরীর বুড়াপীর মাজার সংলগ্ন ব্রহ্মপুত্র নদের তীরে এই বাউল ও ভক্তিগীতির আসর বসে।ময়মনসিংহ বাউল সমিতির উদ্যোগে এবং বাংলাদেশ সুফিবাদ ঐক্য পরিষদ ও হজরত বোরহান উদ্দিন বুড়াপীর শাহ মাজার কমিটির সহযোগিতায় এ অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়।মাগরিবের নামাজের পর পবিত্র মিলাদ, দরুদ শরিফ পাঠ ও সুফিবাদ বিষয়ক আলোচনার মাধ্যমে অনুষ্ঠানের সূচনা হয়। আলোচনায় অংশ নেন বাংলাদেশ সুফিবাদ ঐক্য পরিষদের সভাপতি পীরবাবা খলিলুর রহমান চিশতী, নুর আলী চিশতী, পীর আবদুর রহমান আল কাদরিয়া, আবুচান চিশতীসহ সুফিবাদী চিন্তাবিদ ও সাধকেরা।আলোচনা শেষে শুরু হয় মূল আকর্ষণ ভক্তিগীতি ও বাউল গানের আসর। শাহিন আনোয়ারের সঞ্চালনায় জেলার বিভিন্ন প্রান্ত থেকে আসা বাউল শিল্পীরা তাদের আধ্যাত্মিক পরিবেশনার মাধ্যমে গভীর রাত পর্যন্ত শ্রোতাদের মুগ্ধ করে রাখেন। গান পরিবেশন করেন বাউল আহমদ আলী, বাউল রহমান, বাউল সফর, বাউল মালেকা, বাউল জয়নাল, জেসমিন সরকার, রুমা সরকার প্রমুখ। যন্ত্রসংগীতে সহযোগিতা করেন রাজকুমার, কাদির, সাইদুল, শওকত ও হামিদ ভাণ্ডারী।অনুষ্ঠানের একপর্যায়ে উপমহাদেশের প্রখ্যাত বাউল প্রয়াত সুনীল কর্মকারের স্মরণে এক মিনিট নীরবতা পালন করা হয়। এ সময় তার সহধর্মিণী আশা রানী কর্মকার উপস্থিত ছিলেন।আয়োজনটি সম্পর্কে ময়মনসিংহ বাউল সমিতির সাধারণ সম্পাদক রেজাউল করিম আসলাম বলেন, বাউল গানের মৌলিক ধারা সংরক্ষণ, সুফিবাদী দর্শনের মানবিক ও আধ্যাত্মিক বার্তা ছড়িয়ে দেওয়া এবং নতুন প্রজন্মের মধ্যে এই ঐতিহ্যের চর্চা জাগিয়ে তোলাই তাদের মূল লক্ষ্য। ব্যতিক্রমী এই সংগীতানুষ্ঠান উপভোগ করতে ব্রহ্মপুত্র নদে তীরে ভিড় করেন শহরের বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ।/