দেশের মানুষের স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিত করতে দেশের প্রত্যেক পুরোনো মেডিকেল কলেজে দ্রুত ‘ক্রিটিক্যাল কেয়ার’ (নিবিড় পরিচর্যা) কোর্স চালুর আহ্বান জানিয়েছেন সমাজকল্যাণ মন্ত্রী অধ্যাপক ডা. এজেডএম জাহিদ হোসেন।
বুধবার (১ জুলাই) রাজধানীর হোটেল ইন্টারকন্টিনেন্টালে বাংলাদেশ সোসাইটি অব ক্রিটিক্যাল কেয়ার মেডিসিনের (বিএসসিসিএম) জাতীয় সম্মেলন-২০২৬ এর উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে তিনি এই আহ্বান জানান।
চিকিৎসাখাতের অগ্রগতি ও বিভিন্ন বিভাগের প্রয়োজনীয়তা তুলে ধরে অধ্যাপক ডা. এজেডএম জাহিদ হোসেন বলেন, সময়ের প্রয়োজনে এবং মানুষের কল্যাণে প্রতিটি চিকিৎসা বিভাগকে নিজস্বভাবে বিকশিত হওয়ার সুযোগ দিতে হবে।
আরও পড়ুন
৩০ জেলায় মেডিকেল কলেজ স্থাপন করা হবে: সংসদে স্বাস্থ্যমন্ত্রী
২০০৪ সালের স্মৃতি চারণ করে তিনি বলেন, তৎকালীন বিএনপি সরকারের আমলে যখন দেশের বিভিন্ন মেডিকেল কলেজ ও পোস্ট গ্রাজুয়েট ইনস্টিটিউটে নতুন নতুন সাবজেক্টের ওপর কোর্স খোলা হয়েছিল, তখন অনেকেই সমালোচনা করেছিলেন। কিন্তু আজ ২২-২৪ বছর পরের বাস্তবতা হচ্ছে—সেদিন যদি বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক তৈরির এই উদ্যোগ নেওয়া না হতো, তবে আজকের দিনে এসে দেশের বিশাল জনগোষ্ঠীর চিকিৎসা সেবা দেওয়া অসম্ভব হয়ে পড়তো। এমনকি কোভিড মহামারির সময়েও আমরা যে সফলভাবে চিকিৎসা দিতে পেরেছি, তা মূলত ওই সময়ে দক্ষ জনবল তৈরি হয়েছিল বলেই সম্ভব হয়েছে।
অধ্যাপক ডা. এজেডএম জাহিদ হোসেন জানান, বিএনপি চেয়ারপারসন ও সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়ার আমলেই বাংলাদেশে প্রথম ক্রিটিক্যাল কেয়ার কোর্স চালু করার দূরদর্শী সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছিল।
তৎকালীন সময়ে নিজের অভিজ্ঞতার কথা উল্লেখ করে তিনি বলেন, দেশনেত্রীর নির্দেশে তিনি আমেরিকার মেও ক্লিনিক, সিডিসি আটলান্টা, জনস হপকিন্সসহ ১৪টি বিশেষায়িত হাসপাতাল পরিদর্শন করেন। সেখান থেকে ফিরে এসে নার্সিং ব্যবস্থার উন্নয়ন, উন্নত ইমার্জেন্সি ডিপার্টমেন্ট এবং ক্রিটিক্যাল কেয়ারের ঘাটতি পূরণের ওপর জোর দেন, যা পরবর্তীতে বাস্তবায়ন করা হয়।
আরও পড়ুন
৬ মেডিকেল কলেজের মান নিয়ে প্রশ্ন, কঠোর সরকার
চিকিৎসকদের উদ্দেশ্যে সমাজকল্যাণ মন্ত্রী আরও বলেন, অ্যানাস্থেসিওলজি এবং ক্রিটিক্যাল কেয়ার একে অপরের প্রতিযোগী নয়, বরং পরিপূরক ও সম্পূরক। চিকিৎসাক্ষেত্রে কোনো একটি বিভাগ এককভাবে চলতে পারে না, সব ডিপার্টমেন্টের সমন্বিত সহযোগিতাই হচ্ছে ‘হেলথ’। তাই যখন যার সময় আসবে, তাকে তার কাজের ক্ষেত্র ও বড় হওয়ার সুযোগ করে দিতে হবে।
অনুষ্ঠানে শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমান ফাউন্ডেশনের সহ-সভাপতি ডা. জোবায়দা রহমান, স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রী সরদার মো. সাখাওয়াত হোসেন, ডক্টরস অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশের (ড্যাব) প্রধান উপদেষ্টা ফরহাদ হালিম ডোনার এবং স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের পরিচালক অধ্যাপক ডা. প্রভাত চন্দ্র বিশ্বাসসহ অন্যরা উপস্থিত ছিলেন।
এসইউজে/এমএমকে







